Hits: 1

নিঃশেষে প্রাণ

"এই পথ হেঁটে যেতে যদি নিঃশেষে ক্ষয়ে যায় প্রাণ, পৃথিবীর সব পাওয়া যদি মুখ গুঁজে হয়ে ওঠে ম্লান, তবুও অশ্রুকণা ঝরবে না জানি বাড়বেনা জীবনের অসহ গ্লানি.. বুক জুড়ে হিম্মত রেখে সুবাসিত ফুল অফুরান, প্রিয়তম মালিক তোমায় অন্তরে মেখে দিক…

ভালবাসার কড়চা

বয়সের সাথে ক্রমাগত লুকোচুরি খেলতে খেলতে যখন শৈশবে তখনও বুঝিনি ততটা,যতটা বুঝেছিলাম কৈশোরে।হয়তো শৈশবটা বড় অবুঝ ছিল,তাই বুঝতে পারেনি প্রতিটি মানুষই লতার মত অন্য কাউকে আঁকড়ে বেঁচে থাকে।তখন একটা মানুষকে দেখতাম,যিনি আঁতিপাঁতি করে তাঁর অবলম্বন…

জ্বরমাখা সন্ধ্যার প্রলাপ

ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থেকে মরণের বোঁটা ধরে আরো পথ হেঁটে যাই যদি, বুকে বুকে কথা রেখে নিঃশ্বাসে ব্যথা ভরে ছলছলে চোখে বয় নদী। তারপর ফিরে যাওয়া সন্ধ্যার হাহাকার হাত পেতে ধরে এই হাত, ফিরে পাওয়া শব্দের শেষখানি জুড়ে থাকে জ্বর মাখা নীল…

তোমাকে আমার বড় প্রয়োজন

মানুষেরা শুধু মানুষের ভেতর থেকে পৃথক হয়ে যায় নিরন্তর। তাই,সহস্র বছর পূর্ব হতে অদ্যাবধি আমার ভেতরে যে "আমি" গড়ে ওঠেছিলো তাকে আমি নির্বাসন দিলাম স্বেচ্ছায়। এখন আমি ভারহীন একলা এক ধান শালিকের মতো... একলা জেগে ওঠা চরের মতো আদিগন্ত…

অপ্রাপ্তির গল্প

ঝিলের পানির মত স্বচ্ছ হৃদয় গড়তে গিয়ে আমি কেবলই কাদাটে ঘোলা জলে মেখে ফেলি নিজেকে। কেবলই রুপোর মুদ্রার মত ঝকঝকে বিবেক সাজাতে গিয়ে তামাটে বর্ণের নকল দ্রব্যটা নিয়েই ফিরে আসি.. রোজ ক্ষয়ে যাই পুরনো তেপায়াটার মতো,রোজই ঝরে যাই উড়ন্ত উঁইয়ের…

একজন তনু ও আমরা

মানুষগুলো দিনদিন পশু হয়ে ওঠছে! পশুর মতো হিংস্র,ক্ষুধার্ত আর অমানবিক জানোয়ার! হু,ক্ষুধার্ত! উঠতে ক্ষুধা,বসতে ক্ষুধা,হাঁটতে ক্ষুধা,চোখে ক্ষুধা,মুখে ক্ষুধা,দেহে ক্ষুধা... এ যেন দুর্ভিক্ষপীড়িত এক ক্ষুধার রাজ্য! "ভুখ লাগ গিয়া,তো হামলা…

বিপন্ন শহর

এই বিপন্ন শহরতলীতে একটিও নেই প্রাণ একটিও নেই উদার মনের মানুষের উত্থান! লোভাতুর চোখ খুনোখুনি করে, বাড়ে রক্তের ঘ্রাণ কবিরাই শুধু স্বপনের দোরে কড়া নাড়ে আপ্রাণ!

ভগ্ন হৃদয়

এখানে মুরের দীর্ঘশ্বাসের মতো সিঁধ কেটে যায় বেদনার সারস পাখি। তার ডানা ঝাপটানোর শব্দে পক্ষল জোসনায় নিদাঘ দহন আরম্ভ হয়। আর সেই সাথে বাড়তে থাকে ভাঙনের ঊর্ধ্বগতি। ভেঙে যায় ঈমানের দুর্ভেদ্য ভিত, ভাঙে প্রস্তরসম অন্তর! আলহামরার চুড়ায় যে…

প্রত্যাবর্তন

দিনশেষে ভালোবাসার দাবীতে আমিই কেবল মিথ্যা হয়ে যাই... আর তোমার ভালোবাসার তীব্রতা নিরীক্ষণ করে লজ্জিত হয়ে পড়ে রই পৃথিবীর এক কোণে... কেন আমার ভালোবাসারা স্পর্ধা হারিয়ে ফিরে আসে বারবার! কেন চিত্রল পাতার মতো চোখ ভিজে যায় প্রত্যাবর্তনের…

অস্তিত্বের ধুম্রজাল

অামার চোখে সূর্যাস্ত নামে গাঢ় বাদামী হয়ে.. পেঁয়াজ ফুলের রং মেখে অামার দৃষ্টির সম্মুখে রোজ সূর্যাস্ত নামে অাজরাঈলের ডানার মতোন। অার তখন,সময় তার নাকছাবি দুলিয়ে দুলিয়ে অাবৃত্তি করতে থাকে অায়াতুল কুরসীর পবিত্র হরফগুলো। থোকা থোকা জমাটবাধা…

জবাবদিহিতা

প্রতিদিন সূর্যাস্তের সাথে সময়ের ঘোড়ার প্রস্থান ঘটে.. ছাতার মত বিছিয়ে থাকা অাকাশটার নিচে পড়ে থাকে কৃতকর্মের হলদে চাদর! অামার তখন কি ইচ্ছে করে,জানো? পায়ের তলায় দলিত মথিত হয়েই যার জীবন কেটে যায়, অামার তখন সেই ধূলিকণা হতে বড্ড ইচ্ছে করে!…

আকাশ নাবিক

চোখের ভেতরে মোমবাতি জ্বেলে দেয় যে অভিযাত্রিক, তারে অামি অাকাশ-নাবিক বলি.. সে অামাকে ঊষর প্রান্তরে সবুজ বৃক্ষের গল্প শোনায়, দূর্গম পথে পথ চলতে চলতে দৃঢ়কন্ঠে শুধায়, "বলতে পারো,তোমার কলম দিয়ে চাষ করেছো কতগুলো মানবহৃদয়? কতটা সাম্যের…

অাবেগ পোষা মন

বুকের ভেতর এক কলস বুনো অাবেগ পুষে রেখো,কেমন? খুব যতনে সাজিয়ে রেখো নীলাভ ব্যথা হৃদয় খুঁড়ে জাগিয়ে তুলো ক্ষরণ লতা অমোঘ খেয়াল,ইচ্ছেগুলো নাহয় তবু রাখলে খাঁচায় যেই বাঁচাতে হতাশ জীবন,কি লাভ বলো এমন বাঁচায়? এমন সময় উড়ন্ত মন,খরখরে সব অাবেগ…

ফেলী

ক্লাস ফোরে পরিচয় হয়েছিলো তার সাথে।দুরন্ত এক মেয়ে...একই সাথে ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়েছিলাম।এই পাঁচ বছরে তার সাথে বড়জোর টুকটাক কথা হতো।কখনো অন্তরঙ্গভাবে মেশার সুযোগ হয়নি।অামার ডানে বামে তখন ক্লাসের ভালো রেজাল্টধারী মেয়েদের উঠাবসা। ফেলীর সাথে…

যাযাবর জীবন

মনের শোকেস সাজিয়ে নিয়ে পথ ধরেছি বলে বাউরি বাতাস ব্যঙ্গ হেসে পাশ কেটে যায় চলে পাঁজর তলায় দুঃখের দাহে মন পোড়াবে যদি, উজান ঢেউয়ে বাঁধলে বাসা ব্যথার হবে নদী, যাযাবরের জীবন নিয়ে অমোঘ কালো রাতে একলা অামি পথ চলেছি গহীন দহন সাথে কেউ ডাকেনি…