কী আর হবে, দূরেই না হয় থাকো – হাবীবাহ্ নাসরীন

কী আর হবে, দূরেই না হয় থাকো একজীবনে নাইবা পেলে কাছে! ভয় পেয়োনা, আবার দেখা হবে এই জীবনের পরেও জীবন আছে! কী আর হবে, দুঃখ না হয় বুনো দুঃখগুলো সুখের মতই দামি। ভাবের হাটে দুঃখ নাহয় বেচো প্রেমের চেয়ে কী আছে পাগলামি! কে আছে আর তোমার…

এবার তবে যাই… – হাবীবাহ্ নাসরীন

মেঘলা আকাশ দেখলেই মনটা খারাপ হয়ে যায় আমার। আকাশভর্তি থমথমে মেঘগুলোকে বৃষ্টির পূর্বাভাস না ভেবে বরং মন খারাপের উপকরণ হিসেবে গ্রহন করি। ইদানীং মন খারাপ করে থাকতেই বেশি ভালো লাগে। আমি তো চলেই যাবো, কী হবে এত আনন্দ, এত হাসি দিয়ে! তার’চে বরং মন…

কবির অসুখ – হাবীবাহ্ নাসরীন

গতিময় মৃত্যুরা ডাকে অবিরাম ভুলে গেছি মেঘমালা, পাহাড়ের নাম । ভুলে গেছি শৈশব, স্মৃতিময় দিন কোনকালে ছিল এই পৃথিবী রঙিণ ! সোনারঙা পৃথিবীতে সোনারোদ নেই ছায়াময় অবসাদ ডাকে আমাকেই । নেই নেই- চারদিকে শুধু হাহাকার নিজের কিছুই আজ নেই হারাবার ।…

হোক তবে অভিমান – হাবীবাহ্ নাসরীন

ভালোবাসা থেকে অভিমান যদি হয়, অভিমান থেকে ভালোবাসা যদি আসে অভিমান নিয়ে দূরে সরে যাও তবে স্মৃতি জমা হয়ে উড়ুক দীর্ঘশ্বাসে । ধরো, আমি নেই তোমার চোখের পাতায় তোমার কথায়, তোমার চোখের জলে তবু সযত্নে পুষে রেখো অভিমান ঠিক বুঝে নেবো…

জেগে আছি- হাবীবাহ নাসরিন

চাঁদ হয়ে যাক 'ঝলসানো রুটি' কী বা তাতে আসে যায়, শেয়ালের কাছে জোসনা বেচেছি ঘুমের আকাঙ্ক্ষায়! নির্ঘুম থেকে দেখেছি কী করে তারকারা খসে পড়ে। কবি হতে চেয়ে কুকুর হয়েছি চেচিয়েছি তার স্বরে। কুষ্ঠরোগীর জীর্ণ কাঁথায় চাঁদকে দিয়েছি ঢেকে।…

তুমি আমায় কোথায় রাখো- হাবীবাহ্ নাসরীন

তুমি আমায় কোথায় রাখো, কল্পনাতে, গল্প করে সুঁই ও সুতোয় ফোঁড় হয়ে যাই রোজ-প্রতিদিন অল্প করে? তুমি আমায় কোথায় রাখো, চোখের তারায়, পাশ বালিশে বইয়ের তাকে, কাঁথার ভাঁজে, খুব অভিমান আর নালিশে? তুমি আমায় কোথায় রাখো, বেসুরো গান, গানের কথায়…

মৃত্যু, তোমাকে স্বাগত জানাতে- হাবীবাহ্ নাসরীন

চারদিকে শুধু মৃত্যুর ঘ্রাণ, মৃত্যুরা ডাকে, আয়! কুয়াশার মত মৃত্যু জমেছে বদ্ধ এ জানালায়! আঙ্গুল ছুঁইয়ে লিখে দেবো নাম, জানালার ভেজা কাচেঁ। মৃত্যুরা তবু অদ্ভুত কেন, পিশাচের মত নাচে! একটু বা যদি অবসর মেলে, ঘিরে ফেলে চারদিক। একটু বা যদি…

মানুষগুলো মানুষ থেকে সংখ্যা হয়ে যায় – হাবীবাহ্ নাসরীন

এমন আজব দেশে কেন জন্ম নিলাম হায় মানুষগুলো মানুষ থেকে সংখ্যা হয়ে যায়! মৃত্যু দেখি লাইভ টেলিকাস্ট, শুষ্ক চোখের জল খবরঅলা হাঁক দিয়ে যায়, মরলো কত বল! মরলো কত মরলো কত, লাইট ক্যামেরা অন এইমাত্র প্রাপ্ত খবর সত্তর-আশি জন। সত্তর-আশি খুব বেশি…

তুই কি আমার মা – হাবীবাহ্ নাসরীন

তোর জন্য বুকের ভিতর ভীষণ রকম মায়া সাঁঝ-প্রভাতে, মধ্যরাতে দুইচোখে তোর ছায়া। তোর কারণেই বাঁচিয়ে রাখি খামখেয়ালি মন, তুই রয়েছিস তাইতো মধুর একলা থাকার ক্ষণ। তুই কি আমার মায়ের আঁচল, শীতল করে রাখিস? বাবার মত ভরাট সুরে নামটি ধরে ডাকিস!…

এমন তো হতেই পারে – হাবীবাহ্ নাসরীন

এমন তো হতেই পারে, এমনও তো হয় মাঝে মাঝে জিতে যায় কিছু পরাজয়! কিছু জয়ে মিশে থাকে পরাজিত ঘ্রাণ হাতে ধরা হাত তবু অধরা রয়ে যায়! প্রতিদিন হেসেখেলে লুকাও যে জল তোমার অজান্তে সে দীঘি টলমল হয়তো সে কারণে কারো বুক আনচান তোমারই মতোন সে পোড়ে…