Hits: 0

বিচারের ন্যায়দণ্ড !

অজানা ইতিহাস

0

বিচারপতি “ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও”
এক আজব প্রকৃতির মানুষ । নানা রকম উদ্ভট ধরনের ফয়সালা শোনানোর ঘটনা লিপিবদ্ধ রয়েছে তাঁর কর্মজীবনে।একবার এক ১৫ বছর বয়সী কিশোর, খাবারের দোকানে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে। গার্ড ছেলেটিকে পাকড়াও করে।  ধস্তাধস্তির কারণে দোকানের কয়েকটি কাঁচ ভেঙে যায়।  মামলা ওঠে ফ্রাঙ্ক সাহেবের এজলাসে। শুরু হয় শুনানি …।

প্রথমেই ছেলেটিকে প্রশ্ন করা হয়,
–“তুমি কি সত্যিই চুরি করেছ?”
ছেলেটি বলে, – “হ্যাঁ, সাহেব।”
–“কী চুরি করেছ?”
–“রুটি।”
–“কেন?”
–“প্রয়োজন ছিল।” ছেলেটি মাথা নিচু করে
বলল।
–“কিনে নিতে পারতে !!”
–“পয়সা ছিল না।”
–“পরিবারের কারো কাছে টাকা চেয়ে নিতে পারতে।”
— “বাড়িতে কেবল মা থাকেন। অসুস্থ, উপার্জন করতে অক্ষম।”
–“তুমি কোনো কাজ করো না?”
–“করতাম। গাড়ি ধোওয়ার কাজ। একদিন মায়ের ভীষণ বাড়াবাড়ি। হসপিটালে নিয়ে যেতে হলো। তাই, কাজে হাজির হতে পারিনি। সাহেব তাড়িয়ে দিলেন।”
–“কারো কাছে সাহায্য চাইতে পারতে?”
–“চেয়েছি, কিন্তু কেউ দেননি।”

শুনানি শেষ। এবার রায় দানের পালা …।

বিচারপতি ফ্রাঙ্ক বললেন, …
“চুরি করা অপরাধ। বিশেষ করে রুটি চুরি করা জঘন্যতম অপরাধ। এই অপরাধের দায় আমাদের সকলের। আমাদের সকলকে এই চুরির দায় নিতে হবে। আদালতে উপস্থিত সকল মানুষ এই কিশোরটিকে ১০ ডলার করে জরিমানা দিতে বাধ্য।”

তিনি নিজের পকেট থেকে ১০ ডলার বের করে টেবিলে রাখলেন।

“এছাড়া দোকানের মালিককে ১০০ ডলার জরিমানা দিতে হবে। একজন ক্ষুধার্ত বালক পেটের দায়ে চুরি করেছে, এটা ভেবে, ছেলেটিকে ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল। দোকান মালিক আদালতে এসে ছেলেটিকে অসম্মান করেছেন।  ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই জরিমানা না দিলে, দোকানের লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা হবে।”

সব শেষে, জরিমানার সমস্ত টাকা ছেলেটির হাতে তুলে দিয়ে, বিচারপতি সকলের তরফ থেকে ছেলেটির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেন।

আদালতে উপস্থিত সকল মানুষের চোখের কোণ বেয়ে নেমে এল জলের ধারা!!

Hits: 0

Comments
Loading...