Hits: 38

রাজ্জাককে ভুলে রিজিকের ভয়

0

আমার আব্বা এক সময় চামড়ার ব্যবসা করতেন। সেই সুবাদে ঢাকায় যাতায়াত ছিল। তখনকার সময় যমুনা সেতু বিহীন রাজশাহী টু ঢাকা ছিল বহুদূর।
১৯৭৪ সালে রাজশাহী থেকে ঢাকায় চামড়া নিয়ে এসে সব চামড়া বুড়িগঙ্গায় ফেলে দিতে হয়েছিল, ভিয়েতনাম যুদ্ধের কারনে আন্তর্জাতিক বাজার ছিল বন্ধ। সেটাই ছিল আব্বার শেষ চামড়ার ব্যবসা। পকেটে এক টাকাও নাই, রাজশাহী ফিরে যেতে হবে। এক আড়তদার আব্বাকে ১০ টাকা দিয়েছিলেন ফিরে যাবার জন্য। ফুলবাড়িয়া থেকে আরিচা যেতেই ৯ টাকা শেষ, বাকি ১ টাকার ২০ পয়সা দিয়ে আব্বা একটা পান কিনেছিলেন।

পান খেতে খেতে ঘুরা আর রাজ্জাককে স্মরণ করা ছাড়া কোন উপায় ছিল না। আরিচা ঘাটে দেখা হয়ে গেল রাজশাহীবাসি হাজি জহিরুদ্দিন সরকারের সাথে। তিনি আব্বাকে জিজ্ঞেস করলেন ‘কোন বাসে যাবেন?’, আব্বার সরল উত্তর ‘আজ সব বাসই আমার’।
জহিরুদ্দিন সরকার বুঝে ফেললেন বিষয়টা, তিনি নিজের সীটে আব্বাকে বসিয়ে ড্রাইভারকে বললেন ‘সীটের মালিক সীটে বসে গেছে, আমার বসার ব্যবস্থা কর’। ড্রাইভার তার পাসের সীটে জহিরুদ্দিন সাহেবকে বসালেন। এভাবেই অসীম ক্ষমতাধর রাজ্জাক আব্বাকে বাড়িতে পৌঁছে দিলেন।
বাড়িতে একটা ছাগল ছিল, বাসায় এসে আব্বা সেই ছাগল জবেহ করে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ হাজী সাহেবের বাড়ীতে গোস্ত পাঠিয়েছিলেন।
এর প্রায় একবছর পর ডাকএ আব্বার নামে ১১০০ টাকা এসেছিল, সেই লসের সময় লাভ ক্ষতি হিসেব করে আড়তদার এই টাকাটা পাঠিয়েছিলেন।

আজ কত সময় পর আব্বার কাছে গল্পটা শুনলাম, এরই মধ্যে পার হয়েছে অনেক বছর। ব্যবসা আর না হলেও সেই মহাপরাক্রমশালী রাজ্জাক আব্বাকে উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা ঠিকই করে দিয়েছেন।

ভাবছি, আমরা এখন সবচেয়ে বেশি ভয় করি রিজিকের, ভুলে যাই রাজ্জাককে।

Hits: 38

Comments
Loading...