Hits: 0

করেও, শুনেও…

0

“হুহ! এই ‘মমতা’ নামক জিনিসটা যদি নিজ থেকে out করে সন্তানদের উচিত শিক্ষা দিতে পারতাম, তাহলে হয়তো ভালোই হতো। এতো অবুঝ? এতো বেয়াদব? নাকি আমার লালন-পালনেই কোথাও ভুল আছে? কিভাবে মুখের উপর বলে চলে গেলো-“আমার ব্যাপারে তোমাকে কে চিন্তা করতে বলে? নিজের মতো থাকতে দাও”। আমি আমার জীবন শেষ করে, এখন পর্যন্ত তাকে পালছি, আর সে কিনা এভাবে বলে? সকালে ছেলেটার জন্য নাস্তা বানানোসহ, কখন তার কলেজ, কয়টায় আসবে, আসার সাথে সাথে শরবত করে দেয়া (তার পছন্দের লেবুর শরবত), যদিও সে বলে- ‘আমার হাতের খাবার তার পছন্দ না’! সন্তান কখনো তার মা’কে একথা বলে? আমি তো উল্টো শুনি, কারো হাতের খাবার ভালো লাগে না, মা ছাড়া। ‘মায়ের রান্না ভুলা যায় না’… অধিকাংশ বাচ্চারা তো এমনই বলে। আর আমার ছেলে…। মেয়েটাও দেখছি কম না। সে দিন সুটকেস থেকে তার ছোটবেলার একটা সুন্দর ড্রেস বের করে বললাম- ‘এটা তোর মেয়েকে পরাইস’। বলে- “রাখো তোমার এগুলা! এটার ফ্যাশন অনেক আগেই চলে গেছে, সব কিছুতে এতো নাক গলায়ও না তো!” ওমা! ওদের অমতে কিছু বললেই দোষ? সেদিন ছোট মেয়েটার আচরণে তো চোখে পানি চলে এলো। তার ফোন কবে থেকে বাজছে, উঠাচ্ছে না। আমি রিসিভ করে দেয়াতে এক ঝটকা দিয়ে ফোনটা নিয়ে “কে তোমাকে রিসিভ করতে বলেছে?”- বলে যেভাবে চোখ রাঙিয়ে ঝাড়ি দিলো, আমি পুরো পাথর হয়ে গেলাম! এমন সন্তানদের জন্যই কি আমি আমার যৌবন, বিশ্রাম, শখকে মাটি দিয়েছিলাম”?

এভাবে ঘরে ঘরে অনেক মা-রাই করেও, আবার শুনেও। সব কাজ একটার পর একটা করেই যাচ্ছে, উল্টো মূল্যায়ন তো দূরে থাক, সন্তানদের দ্বারাই বিভিন্ন কথা শুনে যাচ্ছে। অথচ- আল্লাহ তো বলেছিলেন- “তোমরা উহ! শব্দ পর্যন্ত করো না…” আমরা কি পারি না তাদের সাথে ভালো আচরণ করতে? রাগ নিয়ন্তণে রাখতে, যেমনটি আমাদের শিশুকালে উনারা নিজেদের রাগ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন?

Hits: 0

Comments
Loading...