Hits: 7

অস্ট্রিয়ার সভ্য সংস্কৃতি ও আমরা ….

0

অস্ট্রিয়ার সম্রাট প্রথম চার্লস (১৯১৬-১৯২২) রাজকীয় বেশে অস্ট্রিয়ার রাজপথ ধরে হেঁটে যাচ্ছেন। পাশে তার আপাদমস্তক পরদানশিন সম্রাজ্ঞী। মাঝখানে শিশুকন্যা। রাজ পরিবারের এই যাত্রাকে অভিনন্দন জানাতে রাস্তার আশপাশে জড়ো হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা ও প্রজারা। তারা সকলে তাদের আশীর্বাদ জানাচ্ছে। প্রণাম ঠুকছে।

অস্ট্রিয়ার

কিন্তু সম্রাট চার্লস ও তার সম্রাজ্ঞী তো খ্রিষ্টান। সম্রাজ্ঞীকে ঘোমটা পরিয়ে নিয়ে যাবেন কেন? তা-ও আবার একেবারে গোঁড়া মৌলবির বউয়ের পরদা করার মতো! কোনোরূপ আড়ম্বরতা ছাড়াই! এ ব্যাপারটা তো বুঝে আসে না! তাহলে শুনুন–

দানিয়ুব নদীর তীরে গড়ে উঠা ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়া। রাজধানী ভিয়েনা। ক্রমবর্ধমান উসমানি খিলাফতের সীমানা বিস্তৃত হয়ে পড়েছিল দানিয়ুব পর্যন্ত। নদী অতিক্রম করলেই সামনে ছিল অস্ট্রিয়া। ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে অস্ট্রিয়া ছিল উসমানিদের লোভের কেন্দ্রবিন্দু। জার্মানিকে হাতের মুঠোয় আনার শক্ত ঘাটি। এজন্য ১৬ ও ১৭ শতকে উসমানি খিলাফত দুইবার শক্ত আক্রমণ চালিয়েছে অস্ট্রিয়ার ওপর। একবার ১৫৩১ সালে, সুলতান সুলাইমান কানুনির শাসনামলে। আরেকবার ১৬৮৩ সালে। যা ইতিহাসে গ্র‍্যাট তার্কিশ যুদ্ধ নামে পরিচিত। কিন্তু দুটি যুদ্ধেই উসমানিরা পরাজিত হয়।

কিন্তু পরাজিত হলে কী হবে, তৎকালীন বিশ্বের পরাশক্তি উসমানি খিলাফতের ভয়ে অস্ট্রিয়া ছিল তটস্থ। সদা উসমানি খিলাফতের সাথে নতজানু-নীতি প্রদর্শন করে চলত। বিভিন্ন মেয়াদি চুক্তি রক্ষা করে চলত। উসমানি খিলাফতের অবস্থা ছিল বিজেতা আর অস্ট্রিয়ার অবস্থা ছিল বিজিত-এর মতো। এতে করে অস্ট্রিয়ায় ইসলামের শিকড় গেঁথে যেতে থাকে। উসমানি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও কৃষ্টি বিকাশ লাভ করতে শুরু করে। যার কারণে আজও অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রীয়ভাষা ‘জার্মানি’র পর বৃহত্তম আঞ্চলিক ভাষা হলো তুর্কি!

সে হিসেবে অস্ট্রিয়ায় বোরকা মুসলমানদের পোশাক না থেকে; অভিজাত ও সম্মানী শ্রেণি-পেশার লোকদের পোশাকে রূপান্তরিত হয়ে যায়। তৎকালীন সময়ের সুশীলরা নিজেদের স্ত্রী, কন্যা-জায়াকে বেপরদাভাবে পরপুরুষের দৃষ্টির ধর্ষণ করাতে চাইতো না। এজন্য মুসলিমদের মতো বোরকা পরিয়ে নিয়ে বের হতো। সেই সূত্রেই সম্রাট চার্লস তার সম্রাজ্ঞীকে পরদাবৃতা করে নিয়ে রাস্তায় বের হন। কেননা, একটা মূলনীতি আছে– বিজিতরা বিজেতাদের সভ্যতায় প্রভাবিত হয়। এটা সবকালে, সবখানে।

আজ একটি খবর চোখে পড়ল, অস্ট্রিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভেন ডার অস্ট্রিয়ার নারীদেরকে একদিন হলেও হিজাব পরার নির্দেশ দিয়েছেন। আর তা মুসলিম নারীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করার জন্য। অথচ, তিনি বামপন্থি! আহা, বঙ্গদেশীয় ভাড়াটে বামপন্থিদের চেয়ে কতইনা ভিন্ন! রাজনীতি-বিশ্লেষকরা যদিও এখানে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের ধান্ধা খুঁজে পান, আমি কিন্তু এখানে সেই উসমানি-সভ্যতারই ঘ্রাণ শোঁকতে পাই। যে সভ্যতা সম্রাট প্রথম চার্লসকে তার সম্রাজ্ঞীকে পরদাবৃতা করাতে উৎসাহিত করত! এমনকি উসমানি খিলাফতের সেই সে সত্যসুন্দর কৃষ্টি-কালচারের একটুখানি স্পর্শিত ছোঁয়া অনুভব করি!

[ইন্টারনেট অবলম্বনের সংগৃহীত]

Hits: 7

Comments
Loading...