Hits: 2

জীবনের পূর্ণতা (৬)

0

পর্ব-৬
সকাল হতেই ঈদের আমেজ শুরু হয়েছে ।
সকালে সবাই গোসল করে ঈদের নতুন জামা পরিধান করে একে অপরকে ঈদ শুভেচ্ছা জানালো,ছোটরা সব নতুন জামা পরে বড়দের কে সালাম দিয়ে ঈদের সালামি নিচ্ছে। প্রথমে দাদাজানের ,পরে দাদীজান, আব্বু, ফুফাজী, চাচ্চু , আম্মু, বড় ফুফী,ছোট ফুফী, একে একে সবার কাছ থেকেই সালামি নিলো । ওদের সাথে রুমা খালার ছেলে শাকিলও সামিল হলো। আফরিনা ও ওদের সাথে না হলে ছোটবোন হিসেবে বরাবর ই বড়দের থেকে সালামি পায়। ও সালামির কিছু টাকা আবার ভাতিজা – ভাতিজি ও ভাগিনাদের দেয় ,আর বাকি টাকা নিজের জন্য রাখে। সালামি পর্ব শেষে সবাই হাল্কা কিছু নাস্তা করে ,নাস্তাতে – মিষ্টি খেজুর,কাস্টার্ড, পায়েস, সেমাই, জর্দা ইত্যাদি থাকে। তারপর ঈদের নামাজ পড়তে যায় ।নামাজ শেষে সবাই কোলাকুলি করে সহমর্মিতা প্রকাশ করে।
সারা হরেক রকমের ঝাল-মিষ্টি পিঠা, পায়েস, চটপটি- ফুসকা , নডুলস, জর্দা, আর হালিম রান্না করেছে।
নামাজ পড়ে মাহবুব ও রফিক সাহেব, মাহমুদ বন্ধু বান্ধবদের সাথে নিয়ে একসাথে বাসায় আসেন , সবাই মিলে গল্প করেন , বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন আর খাবার খান।
ওদিকে মাসুদ আর সালমান মিলে প্রথমে সালমানের বাসা পরে আরো ঘুরেফিরে বন্ধুদের নিয়ে বাসায় আসে।
বাসাটা তিন তলা আর চার তলা মিলে অনেকটা ডুপলেক্স সিস্টেমে করা , ডাইনিং রুম থেকে একটা সিঁড়ি চারতলার দুটো রুমের সাথে যোগ হয়েছে । ছাদ থেকে ও ঐ রুম দুটো তে যাওয়া যায় । এক রুমে মাসুদ থাকে অন্যটিতে এক সেট সোফা, বড় বড় তিনটি বুকসেল্ফ একটা টেবিল- চেয়ার রাখা, অনেকটা রিডিং রুম বলা চলে। রুম দুটোতে একটা বাথরুম, আর লাগোয়া বেলকনি আছে। মাসুদ বন্ধুদের নিয়ে ওখানেই আড্ডা দেয় ।
আফরিনা বাচ্চাদের নিয়ে ওর বান্ধবীদের বাসায় ঘুরতে যায়। আফরিনা আর মেহরাব ও মিরহার বন্ধুরাও ওদের বাসায় বেড়াতে আসে।
এই ঘোরাঘুরি চলতে থাকে বিকেল পর্যন্ত ।
সারাও ওর শ্বশুর বাড়ির সবাইকে নিয়ে ওর বাবার বাসায় ঘুরতে যায়।
সন্ধ্যার পরে খাওয়া দাওয়া শেষ করে আবার সবাই একসাথে বাসায় ফিরে আসে।
প্রতিবছর ঈদের দিন সন্ধ্যার পর ঘরোয়া একটা অনুষ্ঠান হয়, ছোটরা এতে অংশগ্রহণ করে, কেউ কবিতা, গান , কোরআন তেলওয়াত, একক অভিনয় ও করে , এ অনুষ্ঠানটা করার ক্ষেত্রে সারার অবদানটাই বেশি ।রোজার ফাঁকে ফাঁকে ও ওদের কে সুন্দর সুন্দর হামদ , কবিতা, কৌতুক , একক অভিনয় শেখায়।এবার তো আরো আসিফ আর আশিক ও আছে।
অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে মাসুদ আর সালমান।বিচারক থাকেন ওদের দাদাজান আর নানুভাই ।দর্শক থাকেন ওদের দাদীজান,নানুমনি, আব্বু- আম্মু, ফুফি – ফুফাজী।
প্রথমে মেহরাব – আসিফ মিলে সুমধুর কণ্ঠে কোরআন তেলওয়াত করে অনুষ্ঠান শুরু করে । মেহরাব ও মিরহা মিলে একটা হামদ, আসিফ ও আশিক মিলে একটা কবিতা আবৃত্তি , মেহরাজ একটা ছোট কবিতা, মিরহা একটা একক অভিনয়, শাকিল একটা কৌতুক, আফরিনা আর মিরহা মিলে একটা নাতে রাসূল, মাসুদ আর সালমান মিলে একটা গজল, আবার মাসুদ আর সালমান মিলে সব বাচ্চাদের নিয়ে নাটক করে ।বাহ বাহ , মাশাল্লাহ্ ধ্বনিতে বারবার ঘরটা মুখরিত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠান শেষে সবাই কে পুরস্কৃত করেন বিচারকরা । এতে সব বাচ্ছারা অনুপ্রাণিত হয় ।
মেহরাজ আজ দারুন খুশি ওর পুরস্কার একটা মেজিক কলম আর স্লেট পেয়ে, বার বার আঁকিবুকি করছে আবার মুছে ফেলছে । খেলতে খেলতে ঘুমিয়ে পড়ল মেহরাজ ।ডিনার শেষ করে সবাই চলে যায় যার যার রুমে।

এমনি করে কেটে যায় সবার ঈদের দিনটা।

চলবে…..

Hits: 2

Comments
Loading...