Hits: 29

কুরআনে যদি সব থাকে : – তাহলে আমার ফেসবুক পাসওয়ার্ড কি?

0

গফরগাঁও পৌরশহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ব্রহ্মপুত্র নদের ধারে মোতালেব চাচার স’মিল।
“স’মিল” শব্দটা শুনতেই কিরকম বিরক্তকর লাগে। করাতের অনবরত কর কর শব্দ, কাঠের স্তুপ আর কুড়োর উড়োউড়ি সবমিলিয়ে এক অশান্তিপূর্ণ জায়গার নাম।
উত্তরার রেলের ধারে সারি সারি স’মিল গুলোর সামনে দিয়ে যখন আপনি যাবেন, রিক্সায় যান,ট্রেনেই যান আর হেঁটেই যান,মনে হবে যত তাড়াতাড়ি পার হতে পারেন,তত তাড়াতাড়িই যেন বাঁচেন।

কিন্তু আমি যে স’মিলটার কথা বলছি সেটা মোটেও সেরকম নয়। বাজারের পিছনে নদের ধার ঘেষে বেশ লম্বা জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে। হাতির শূঁড়ের মত বাকানো মেশিনটা এক প্রান্তে।ফলে অন্য প্রান্ত থেকে গাছ কাটার কর কর শব্দটা পাওয়া যায়না। আর নদের দিক থেকে বয়ে আসা বাতাস
কুড়োগুলো উড়িয়ে বিপরীত দিকে নিয়ে যায়। সুতরাং বলা চলে, ব্যস্ত শহরের রাস্তার ধুলোবালি আর বাজারের কোলাহল থেকে নিরাপদ দূরত্বে এই জায়গাটা বেশ নির্ঝঞ্ঝাট। এখানে সারি সারি স্তুপ করে রাখা গাছের ডোমগুলোতে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দেওয়া যায়।কোন বিরক্তি হয়না।
.
এলাকার ছেলেপেলে বড় বড় ক্যামেরা নিয়ে এখানে আসে ছবি তুলতে। নদকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে গাছের ডোমে বসা ছবি নাকি স্ট্যান্ডার্ড হয়।
.
এমনকি বাজারের চায়ের দোকান থেকে চায়ের কাপ হাতে করে নিয়ে এসে অনেকে এখানে বসে পড়ে। দেশের দীর্ঘতম নদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি চায়ের কাপে চুমুক…..
না থাকুক,এসব কথা রাখি। নাহলে মন চাইবে এখনি, কিন্তু খেতে পারবনা। রমজান মাস চলছে তো।রমজান মাসে দিনের বেলায় খাওয়া দাওয়ার আলোচনা না করাই ভালো।
.
আজ ২২শে রমজান। মোতালেবের স’মিলের দক্ষিণের দিকটায় রাখা দুটো গাছের ডোমে মুখোমুখি বসে আছি আমি, রিফাত, জয় আর মাহ্দী।
.
আমি, রিফাত আর জয় এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছি।তিনজনই ভার্সিটি এডমিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের মধ্যে জয় অমুসলিম। আর মাহ্দী আমাদের মসজিদে তারাবীহর নামাজ পড়ায়। রমজানে নিয়মিত মুসল্লী হয়ে যাওয়ার সুবাদে প্রায় সমবয়সী মাহ্দীর সাথে আমার আর রিফাতের জমে গিয়েছে বেশ। মাঝে মধ্যেই যোহরের পর ওকে নিয়ে এসে এখানে বসি।কমকরে হলেও ঘন্টাখানেক শুকনা আড্ডা হয়। কখনো কিছু খাওয়ানো হয়না এলাকার একমাসের মেহমান বন্ধু মাহ্দীকে। রমজানে দিনের বেলা কোন কিছু খাওয়ার সুযোগ নেই আর রাতের বেলা ইফতারের পর মাহ্দীর সুযোগ নেই। মাগরিবটা পড়েই ছেলেটাকে যেন ভূতে ধরে। মসজিদের এপ্রান্ত থেকে ও প্রান্ত চলতে থাকে আর মুখে বিড়বিড় করে।
.
ওর যোগ্যতার দিকে তাকালে বড় হিংসে হয়।শুনেছি ১০ বছর বয়সে সে হাফিজ হয়েছে। গত রমজান মাসে কুরআন শিক্ষার কোর্স করেছিলাম মসজিদে। সারা মাসে ছোট ছোট পাঁচ-ছয়টা সূরা মুখস্থ করেছিলাম।একেকটা লাইন মুখস্থ করতে কত কষ্ট হয়েছে। কিন্তু আমাদের বয়সী একটা ছেলে, আমাদের মতই, আমাদের বন্ধু বলা চলে; না দেখে অনবরত কুরআন পড়েই যায় একটু এদিক সেদিক হয়না। “আল্ল-হু আকবার”
.
মাহদীর বয়স তো আমাদের সমান।ওর কথা বাদ দিলাম । ৭/৮ বছরের এমন কয়েক হাজার বাচ্চা আমাদের দেশেই আছে, বাচ্চা বললাম আমি বাচ্চা;
যারা চোখ বন্ধ করে এক দাঁড়ানোতে পুরো কুরআন শুনিয়ে ফেলতে পারে যাদের একটা যের-যবর এদিক সেদিক হয়না।
.
রমজান মাসে টিভি চ্যানেলগুলো খুললেই দেখা যায়, ছোট ছোট বাচ্চাকে যেখান থেকে ইচ্ছে, যেভাবে ইচ্ছে জাজরা কুয়েশ্চান করেন আর তারা হুট করে উত্তর দিয়ে দেয়। এগুলা আল্লাহর মিরাকল বৈকি আর কি হতে পারে?
“সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবিহামদিহী-”
.
.
তো যাই হোক, আমাদের মধ্যে রিফাত কুরআন হিফজ নিয়ে বেশ ইন্টারেস্টেড। তাই মাহদীর কাছ থেকে তার হাফিজ হওয়ার বিষয়েই বেশী জানতে চায় সে। প্রতিদিন কতটুকু মুখস্থ করলে কতদিন লাগবে, কিরকম সময় পড়তে হবে, কিভাবে পড়তে হবে,ভুল হলে হুজুররা কি খুব মারে ইত্যাদি ইত্যাদি। আর মাহ্দীও মুচকি হেসে হেসে রিফাতের উত্তর দিয়ে যাচ্ছিল। আমি মনযোগী ছাত্রের মতন রিফাত আর মাহ্দীর আলাপ শুনছি।মাঝে মধ্যে দু’একটা কথাও বলে ফেলছি মাঝখান দিয়ে। আর জয় আড্ডায় অন্যমনস্ক। মোবাইলে গেম নিয়ে ব্যস্ত। হঠাৎ সে মোবাইল থেকে মাথা তুলে মাহ্দীর দিকে তাকিয়ে মোবাইলটা পকেটে পুরতে পুরতে বলল, “আচ্ছা হুজুর, আপনার তো কুরান শরীফ পুরোটাই মুখস্থ, তাইনা?

“হ্যাঁ,সারা কুরআন মুখস্থ। একটা অক্ষরও বাদ নেই”  – রিফাত উত্তরটা দিয়ে দিল।
.
এবার জয় আমাদের বলল, – “তোরা মুসলিমরা বলিস, কুরানে সব আছে। সকল কিছুর সমাধান,সকল প্রশ্নের উত্তর; তাইনা?
মাহ্দী বলল, – “হ্যাঁ, আছেইতো।”
.
এবার জয় একটু পুরো আমাদের দিকে ঘুরে বসল।যেভাবে ইন্ডিয়ান টিম বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশকে তাচ্ছিল্য করেছিল, বা একজন টপ ফেভারিট প্লেয়ার খেলার আগেই যেরকম ভাবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লপ প্লেয়ারকে চ্যালেঞ্জ করে, ঠিক সেভাবে মাহদীকে চ্যালেঞ্জ করল, “”আপনার ভিতরে তো পুরো কুরান আছে। আর সেই কুরানে সব আছে। তাহলে আপনি বলুনতো হুজুর আমার ফেসবুক আইডি পাসওয়ার্ডটা কি?””

Al-Quraan

আমি আর রিফাত তো ভড়কে গেলাম। দেখলাম মাহদী চুপ হয়ে ভাবছে।
.
জয় তুড়ি বাজিয়ে উপরের দিকে শাহাদাত আঙ্গুল নাড়া দিয়ে মাহদীকে বলল, “বলেন বলেন”  যেন জোরকরে উত্তর বের করার চেষ্টা।
.
ভাবনায় ডুবে থাকা মাহদী এবার হালকা হেসে দিয়ে বলল, আপনার পাসওয়ার্ডটা আমাকে বলেন আগে।
-না, বলব কেন?
:কারণ আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব।
-আমি বলে দিলেই যদি উত্তর দেন তাহলে কুরানে সব আছে এই দাবীর কি হল?
:ওটা কুরআন থেকেই বুঝাচ্ছি, আপনি আগে পাসওয়ার্ড টা বলেন আমাকে।
– না, আমার পাসওয়ার্ড আপনাকে বলব কেন। অসম্ভব।
:না আপনি যখন জানতেই চেয়েছেন আপনার পাসওয়ার্ড কি,তো আমি উত্তর দেব।কিন্তু আগে আমাকে আপনার পাসওয়ার্ডটা বলতে হবে ।এই সমাধানই কুরআন দিচ্ছে আমাকে।
-আজিব!এই প্রশ্নটা ছাড়ছি তবে,আরো সহজ করে দিই।
.
আমি হাসতে হাসতে জয়কে বলে উঠলাম, পাসওয়ার্ড দিলে তো তোমার সব আকাম-কুকাম আমাদের সামনে ফাঁস হয়ে যাবে,তাই প্রশ্ন পাল্টাতে চাইছো বাছা?
.
ঘড়ির কাটায় ঠিক তিনটা। নদের ঘাটে চর থেকে আসা নৌকা ভিড়েছে।চরের মানুষজন শাক-সবজি, তরি-তরকারী, মুরগী-কবুতর ,দুধ ইত্যাদি নিয়ে বাজারে ডুকছে।
.
ঐদিকে দৃষ্টিপাত করে থাকা জয় যেন আমার কথা শুনেইনি।সে এক দুধ ওয়ালার দিকে আঙ্গুল তাক করে আবার মাহদীকে প্রশ্ন করে বসল,
ঐযে লোকটা দুধ নিয়ে যাচ্ছে। কুরানে তো সব আছে। বলুনতো আজকে দুধ মহালে দুধের দর কত??
এটা নিশ্চয়ই থাকার কথা!
.
চোখ তোলা কপালের ভাজের সাথে হালকা মাথা নাড়ানোতে স্পষ্ট বিদ্রুপের ছাপ।
.
এবার মাহদী কোন দেরী করলনা। হয়তো ঐ পাসওয়ার্ডের ভাবনার সময়ই সমাধানটা তার মগজে এসে গিয়েছিল। হুট করে আমাকে বলল,
“ঐ দুধওয়ালার কাছে গিয়ে দামটা জেনে আসোতো ভাই”
.
জয় কিছু বলতে উদ্যত হলেও, মাহদী ট্রাফিক পুলিশের মত হাত দিয়ে সিগন্যাল দিল, রিল্যাক্স মিস্টার! একটু থামুন!
.
আমি দুধওয়ালার কাছ থেকে ফিরে এসে জানালাম আজকে দুধের দর কেজি প্রতি ৮০ টাকা।
.
এবার মাহদী জয়কে বলল, দুধ মহালে আজকে দুধের দর কেজিপ্রতি ৮০ টাকা
.
জয় বলল, – আমি সমাধান চাইলাম কুরআন থেকে, আর আপনি ওরে পাঠিয়ে সমাধান দিলেন দুধওয়ালার কাছ থেকে জেনে। এটা কিরকম হয়ে গেলনা??
কুরআনে সব নেই এটা মেনে নিলেই তো পারেন।কুরআনে সব আছে, শুধু শুধু এটা বলে বেড়ানোর দরকার কি? একটা ধর্মগ্রন্থে ধর্মের নিয়মকানুন থাকতে পারে।তাই বলে দুনিয়ার সব আছে এটা বলে মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার কি আছে।
.
জয়ের অনর্গল লেকচার শেষ হলে মাহদী শান্ত গলায় বলল, আমি তো এই দুধের দরের সমাধান আপনাকে কুরআন থেকেই দিয়েছি।
.
জয় একটা অট্টহাসি দিয়ে বলল, হুজুর আপনারা পারেনও বটে। এখানে তিনটা বুদ্ধিসম্পন্ন লোকের ছয়টা দৃষ্টিসম্পন্ন চোখের সামনে একজনকে বাজারে পাঠিয়ে জানলেন দুধের দর।আর এখন বলতেছেন কুরআন থেকে বলছেন। ফাইজলামি করেন, একটা লিমিটে করেন।
.
কথাটা শুরু করার সময় জয়ের মুখে অট্টাহাসি থাকলেও শেষ করার সময় স্বরটা রাগান্বিত লাগল।চোখে মুখে কেমন জানি রাগের উত্তেজনা বিরাজ করছে।
.
এদিকে রিফাত একবার আমার দিকে এ তাকাল।ওর চাহনিতে বুঝলাম, সেও আমার মত কিছুই বুঝতে পারছেনা যে বিষয়টা কি হতে যাচ্ছে।
.
এবার মাহদী জয়কে উদ্দেশ্য করে বলল, “আজকে দুধ মহালে দুধের দর কত” এটা আপনি কুরআন থেকে জানতে চেয়েছেন।
তো এটার সমাধান দিতে কুরআন আমাকে বলছে,
فَسْـَٔلُوٓا۟ أَهْلَ ٱلذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
.
অর্থাৎ,
তোমরা যদি না জান,তাহলে যারা জানে তাদের কাছে জিজ্ঞেস করো।[১]
.
এখানে দুধের দরটা আমার জানা ছিলনা, তাই যে জানে তার থেকে জেনে আপনাকে বলেছি। আপনার পাসওয়ার্ড দুনিয়ার আর কেউ জানেনা, তাই আপনার পাসওয়ার্ড জানতে আপনার কাছেই জিজ্ঞেস করতে কুরআন আমাকে নির্দেশ দেয়।
.
মাহ্দীর উত্তরটা জয়ের মনমত হলনা বোধহয়। মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিয়ে এটাই বুঝাল সে। মাহদীও বুঝতে পারল বিষয়টা।
তাই আবার শুরু করল-
:আচ্ছা জয় ভাই!আপনি তো মোবাইল টোবাইল এইসব বিষয়ে এক্সপার্ট।
-হ্যাঁ, তো?
:সপ্তাহ খানেক আগে আমার বাড়ি থেকে আম্মু কিছু টাকা পাঠিয়েছিল আমার বিকাশ এ্যাকাউন্টে।কিন্তু আমি ক্যাশ আউট করতে পারছিলামনা। তাই রিফাত আমাকে আপনার কাছে নিয়ে গিয়েছিল।মনে আছে?
-হ্যাঁ আছে।
:আপনি অনেক ঘাটাঘাটি করেও যখন সমাধান করতে পারলেননা,তখন যেন আমাকে কি বলেছিলেন?
-16247. এই নাম্বারে কল করতে বলেছিলাম।এটা বিকাশ হেল্পলাইন নাম্বার।এই নাম্বারে কল করলেই ওরা যাবতীয় সমস্যার সমাধান করে দেয়।
:কিন্তু ওরা তো আমার সমস্যার সমাধান করে দেয়নি।
-তাহলে কি আপনি এখনো ক্যাশ আউট করতে পারেননি?
:হ্যাঁ,আলহামদুলিল্লাহ্‌ ক্যাশআউট করতে পেরেছিলাম।
-তো?? আপনার বিকাশ এ্যাকাউন্ট ঠিক হয়েছে কিভাবে?
:ওদের ফোন দেয়ার পর ওরা আমাকে নিকটস্থ বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে যেতে বলল এবং তার ঠিকানা দিল।তারপর ওখানে গেলে তারা ঠিক করে দিয়েছে।
.
এবার জয় হাসতে হাসতে বলল,
-হুজুর! এতক্ষণ তো আপনাকে চালাক ভেবেছিলাম।এখন তো মনে হচ্ছে আপনি দুনিয়ার বোকা।
:কেন কেন?বোকা মনে হওয়ার কারণ?
-আপনাকে ওরা নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ারে যেতে বলল,তার ঠিকানা দিল।ওরা আপনাকে সমস্যা সমাধানের পথ দেখিয়ে দিল।
:কিন্তু আপনি তো বলেছিলেন ঐ নাম্বারে কল দিলে ওরা আমার সমস্যা সমাধান করে দিবে।
এবার জয় পুরো ক্ষেপে গেল।
-পাগল হয়েছেন আপনি?? ওরা যে আপনাকে কাস্টমার কেয়ারে যেতে বলল,এটাকে কি আপনি সমস্যার সমাধান মনে করেন না? নাকি ওরা আপনার কল পেয়ে সরাসরি ঠিক করে দিলেই শুধু সমস্যার সমাধান মনে করতেন। ওরা যে আপনাকে কাস্টমার কেয়ারে যাওয়ার নির্দেশনা দিল ওটাই সমাধান দিয়েছে।বুঝলেন?
.
এবার মাহদী বেশ উৎফুল্লতার সহিত জয়কে বলল, এইতো লাইনে আসছেন।
ঐযে কুরআন আমাকে বলেছে-
فَسْـَٔلُوٓا۟ أَهْلَ ٱلذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
.
“তোমরা যদি না জান,তাহলে যারা জানে তাদের কাছে জিজ্ঞেস করো।”
এটাও আপনার “পাসওয়ার্ড কি? আর দুধের দর কত?” এই প্রশ্নদুটির সমাধান।
.
আমাকে কাস্টমার কেয়ারে পাঠানো যদি বিকাশ হেল্পলাইনের দেওয়া সমাধান হয়,তাহলে দুধ মহালে দুধের দর কত, এটার সমাধান জানতে কুরআন আমাকে দুধ ওয়ালার কাছে পাঠানোটা কুরআনের সমাধান মানতে আপনি নারাজ কেন?
.
আপনার ফেসবুক পাসওয়ার্ড জানতে আপনার কাছে জিজ্ঞেস করতে কুরআন আমাকে নির্দেশ দেয়, এটাকে কুরআনের সমাধান মানতে নারাজ কেন আপনি? এ কেমন স্ট্যান্ডার্ড??
.
উত্তর পেয়ে আমি আর রিফাত সেই খুশি হলেও, জয় এখনো রণে ভঙ্গ দিচ্ছেনা।
সে আবার বলল,
-বিকাশ হেল্পলাইন আপনাকে নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ারে পাঠায়,কারণ প্রতিদিন আপনার মত হাজার হাজার মানুষের বিকাশে সমস্যা হয়, আর হেল্পলাইন যদি এই সকল মানুষের এ টু জেড সমস্যার সমাধান দিতে বসে তাহলে হেল্পলাইনে কত হাজার লোক বসানো লাগবে জানেন? আর হেল্পলাইন থেকে সমস্যা সমাধান দেওয়া শুরু করে,তাহলে এক সপ্তাহেও আপনি আপনার সমস্যা সমাধানের সিরিয়াল পাবেন না।
.
জয়ের এই কথা শুনার পর মাহদী চটপট শুরু করে দিল। মনে হল জয় এমন কথা বলবে সেটা সে জানত।তাই উত্তরটা আগেই রেডি করে রেখেছিল।
মাহদী বলল, ওও আচ্ছা, তাহলে আপনি কি বলছেন কয়েক বিলিয়ন ফেসবুক ইউজারের সবার পাসওয়ার্ড কুরআন লিখে রাখত?
এভাবে যদি কুরআন সবার পাসওয়ার্ড আর বাজারের সকল পণ্যের দর লিখে রাখা শুরু করে তাহলে কত কোটি পৃষ্ঠা লাগবে?
কুরআন কত বড় হবে? আর করআন তখন ঘরে রাখা যাবেনা, বিশাল বড় স্টেডিয়ামে কুরআন রাখতে হবে।
আর আপনি তা খুঁজে বের করতে কত বছর লাগবে আল্লাহ্ মা’লুম।
.
আর কয়েক বিলিয়ন ফেসবুক ইউজার তাদের পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করছে,পৃথিবীর কোটি কোটি বাজারের কোটি কোটি পণ্যের নিত্যদিন বাড়ছে-কমছে।
আপনার ভাষ্য অনুযায়ী কুরআনে সবকিছু উল্লেখ করলে তো তাহলে প্রতি মাইক্রো সেকেন্ডে কুরআন আপডেট করা লাগবে?
কিন্তু আমাদের কুরআন তো সেই প্রায় দেড় হাজার বছর আগে আল্লাহ্ পাক যেভাবে আমাদের রাসূল (সঃ)-এর উপর নাযিল করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই আছে। চুল পরিমাণ বিকৃত হয়নি, কেয়ামত পর্যন্ত হবেও না। আর বিকৃতির কোন প্রয়োজনই নেই। কারণ যাবতীয় সমস্যার সমাধান আল্লাহ্ পাক কুরআনে দিয়ে দিয়েছেন।
.
এবার জয়কে চুপসে যেতে দেখে আমি মাঝখান থেকে বলে উঠলাম,
কিরে, তুই কি চাস কুরআনে লিখা থাকত-
ইউজার নেম: জয় বর্মন
পাসওয়ার্ড : *********
আর আমরা ওখান থেকে পাসওয়ার্ড নিয়ে তোর আইডিতে ঢুকে তোর আকাম-কুকাম সব দেখে ফেলতাম।
.
এবার সকলে একসাথে হেসে উঠলাম। জয়ও হাসছে, কিন্তু হাসিতে কি আর পরাজয় লুকানো যায়?
.

.

.
ফুটনোট:
১.সূরাতুন নাহল:(১৬:৪৩)

ফেসবুক অবলম্বনে সংগৃহীত লিখা- Mh Foysal Ahmed

Hits: 29

Comments
Loading...