Hits: 3

নারীমুক্তি

0

১.

এক জরুরী কাজে বেশ কয়েকজনকে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে যেতে হয়েছিলো। বের হয়ে খেয়াল করে দেখি উপজেলা মাঠে প্রচুর দর্শকের ভীড়। ভাবলাম,সম্ভবত খুব ভালো কোন টীমের খেলা চলছে।

কিন্তু মাঠে পৌছে অবাক হয়ে গেলাম।হাইস্কুলের সেভেন-এইট ক্লাসের মেয়েদের ফুটবল টুর্ণামেন্ট চলছে।আর সেই খেলা দেখার জন্য জনগণ ভীড় করে আছে।

কিন্তু তাদের পাশে দু-এক মিনিট দাড়িয়েই যা বুঝার তা বুঝে নেওয়া যায়।মেয়েগুলো ফুটবলের কিছুই পারেনা,কিন্তু মানুষগুলো তাদের দৌড়াদৌড়ি,দেহভঙ্গি,পোষাকের স্বল্পতা দেখে নিজেদেরকে বিনোদিত করে তুলছিলো।আর এর পাশাপাশি কিছু মানুষ মুখ দিয়ে তাদের নোংরা ভাষাও আটকিয়ে রাখতে পারছিলোনা।

 

২.

গতবছর মুক্তি পাওয়া বলিউড মুভি ‘দাঙ্গাল’দেখে থাকবেন অনেকেই।এই মুভিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে থাকে,আমির খান তার মেয়েদের নিয়ে স্হানীয় কুস্তি প্রতিযোগিতায় নাম লেখাতে যায়।কিন্তু প্রতিযোগিতার আয়োজকেরা ছেলেদের টুর্ণামেন্টে মেয়েদের অন্তর্ভুক্ত করতে অসম্মত জানান।

আমির খান ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ নিতেই এক আয়োজক অন্য আয়োজককে বলছে,আমরা প্রতিবছর ছেলেদের টুর্ণামেন্টের আয়োজন করে প্রতিযোগিতার খরচই ভালো করে তুলতে পারিনা।দর্শকদের মাঠে টেনে আনা যায়না।যদি কোন নারী প্রতিযোগীকে মাঠে আনা যায়,তাহলে প্রচুর দর্শকের আগমন ঘটবে ও আমরা ভালো লাভ করে নিতে পারবো।

পুরো এলাকায় মাইকিং করে দেওয়া হয়।খেলার দিন এমন হয়,মাঠে দর্শকের জায়গা দেওয়া কঠিণ হয়ে যায়। এমনকি অনেকে মাঠের বাহিরে দাড়িয়ে থাকে।

খেলায় আমির খানের মেয়ে হেরে যাওয়ার পরও বিজয়ীর চেয়ে বেশী মূল্যবান পুরস্কার আমির খানের মেয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।কারণ,ঐ মেয়ের দ্বারাই আয়োজক কমিটি লাভ বের করেছিলো।

 

৩.

প্রথম আলোর এক নিউজে দেখছিলাম,নারী জাগরণের কথা।এটা করা হয়েছিলো,ঢাকা শহরে নারীদের ১০ হাজার মিটার দৌড় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে।ঢাকার নির্দিষ্ট জায়গা দৌড় শুরু হয়ে পূর্বের জায়গাতেই শেষ হয়।আর এর দ্বারা প্রথম আলো নারীর প্রতিবাদী মনোভাব,সাহসী পদক্ষেপ খুজে পায়।

প্রথম আলো নারীদের নগ্নভাবে উপস্হাপন করার মাধ্যমে নারীমুক্তি খুজে পাক আর না পাক,কিন্তু তাদের অর্থনৈতিক মুক্তিটা ঠিকই খুজে নিচ্ছে।নারীদের বাজেভাবে উপস্হাপন করার কারণে পত্রিকার কাটতি দিন দিন বেড়েই চলছে।

 

রাস্তার পাশের বিলবোর্ড,বিজ্ঞাপনগুলো দেখেছেন?প্রায় প্রতিটা বিজ্ঞাপনে নারীদের দেহকে নগ্নভাবে উপস্হাপন করার চেষ্টা করা হয়।

আর টেলিভিশনের কিছু কিছু বিজ্ঞাপন তো পর্ণো সিনেমাকেও হার মানিয়ে দেয়।ঐসব বিজ্ঞাপন দেখার পর ঐ পণ্যটি ভালো হওয়ার পরও সেই পণ্যটি কিনতে রুচিতে বাঁধে।অন্ততপক্ষে পর্ণো নির্মাতাদের পকেটে টাকা ঢুকিয়ে দিতে কষ্ট হয়।

 

আর কিছু হোক আর না হোক,আমাদের দেশ এগিয়ে চলছে।এখন পাবলিক প্লেসে নারীদের গায়ে হাত দিলেও মানুষের কিছু হয়না। এখন গার্লফ্রেন্ড ছাড়া কোন ভার্সিটি স্টুডেন্ট থাকলে তার পুরুষত্ব নিয়ে নারী-পুরুষ উভয় মহলেই কৌতূহলেই সৃষ্টি হয়।

ভাই-বোন একসাথে রাস্তায় বের হলে মানুষ ’প্রেমিক-প্রেমিকা’ ভাবতে ভাবতে আকাশে তুলে দেয়। কিন্তু যখন জানে,তারা ভাই-বোন ছাড়া কিচ্ছু না।তখন তারা কষ্ট পেয়ে ভাবে,প্রেমিক-প্রেমিকা ছাড়া দুনিয়াতে কি ছেলে-মেয়ের আর কোন সম্পর্ক থাকতে পারে!!!!!

ঘুণে ধরা সমাজের পুরো অংশটাতেই অসভ্যতা ঘিরে ধরেছে।শাসক-জনগণ,ব্যবসায়ী-কাস্টমার,সাংবাদিক-পাঠক সব জায়গাতেই একই রুচির মানুষে পরিপূর্ণ।

 

থাক!!!!আমাদের দেশ,সমাজ,জাতি ও মানুষ এগিয়ে চলছেই…….চিন্তা,নৈতিকতা,সভ্যতার মুক্তি না মিললেও অশ্লীলতার দিক থেকে পাশ্চাত্যের চেয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছিই…………………….

 

Hits: 3

Comments
Loading...