Hits: 1

যারা স্ত্রীত্ব ও মাতৃত্বের স্বাদ পায় নি…

0

ইসলামে স্ত্রীত্ব (wifehood) ও মাতৃত্বের (motherhood) সম্মানিত এবং গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কথা আমরা সবাই জানি। স্ত্রীত্বের ব্যাপারে উৎসাহিত করতে বলা হয়েছে -বিয়ে আমাদের অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করে আর মা’দের সম্পর্কে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাঃ বলেছেন-“… জান্নাত মায়ের পদতলে”। কিন্তু, বিয়ে করা এবং মা হওয়াটাই শুধু জান্নাতে যাওয়ার একমাত্র পথ নয়। তাছাড়া সব পূর্ণবয়ষ্ক নারী কারো স্ত্রী বা মা হবে- এমনটিও সবসময় হয় না। কিন্তু নারী অবশেষে স্ত্রী বা মা হয়, যখন মহিমান্বিত আল্লাহ তাদেরকে এভাবে আশীর্বাদপুষ্ট করেন, তবে অন্যান্য নারীদের ক্ষেত্রে? যাদের বিয়ে হয় না? সেক্ষেত্রে আল্লাহ তাদেরকে ভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে পবিত্র করেন।

মহান আল্লাহ নারীকে শুধু স্ত্রীত্ব বা মাতৃত্বের জন্য সৃষ্টি করেন নি। এটাই নারীদের প্রথম কিংবা শেষ গতি নয়। লক্ষ্যণীয়, আল্লাহ’র সৃষ্টির প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হচ্ছে তাঁর অনুগত দাস হওয়া। যেমনটি তিনি সূরা জারিয়াত এ বলেছেন – “আমি জিন ও মানবজাতিকে আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি”(আয়াত- ৫৬)

তবে, এই ইবাদত করাটা বিভিন্নভাবে হতে পারে। যেমন একজন গৃহিনী (যাকে গৃহকর্মের প্রকৌশলী বললে হয়ত উপযুক্ত হবে) হয়েও ইবাদত করা যায়। ঘরে অবস্থান করেও একজন মা ইবাদত করতে পারে। আবার মা এবং স্ত্রী কর্মজীবী হয়েও ইবাদত করতে পারে। একইভাবে- অবিবাহিত ছাত্রী, একজন তালাকপ্রাপ্ত মহিলা ডাক্তার, একজন মহিলা সাংবাদিক, ইসলামী পন্ডিত, চলচ্চিত্র পরিচালক, রাঁধুনি, শিক্ষিকা, পশু চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক, উকিল, শিল্পী, সেবিকা, কু’রআনের শিক্ষিকা, মনস্তত্ত্বিক, কম্পাউন্ডার কিংবা পার্লারের মেইকআপ আর্টিস্ট- এসব কিছুও ইবাদতের অংশ হতে পারে…

আবার দেখুন- আমরা বিভিন্ন পন্থায় আল্লাহ’র ইবাদত করতে পারি- তবে সচেতনতার সাথে একটা পরিকল্পনা থাকতে হবে, কারণ- আমরা যা’ই করবো সেটা আল্লাহ’র দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী হতে হবে- যেসব নির্দেশনা তিনি আমাদের জন্য ধার্য করেছেন।
তবে দূর্ভাগ্যজনকভাবে- সমাজের বিশেষ করে অবিবাহিত ও তালাকপ্রাপ্ত বোনদের প্রতি এই বার্তাগুলো দেয়া হয় না। যখন আমি অনেকগুলো নারীদের সাথে আলাপ করি যে- তারা কিভাবে সমাজে অবদান রাখতে চায় এবং কিভাবে তাদের সময় ও সক্ষমতাকে ব্যবহার করতে চায়; তখন অধিকাংশ নারীরাই আমাকে বলে- এ ব্যাপারে তাদের কোনো ধারণা নেই, পরিকল্পনা নেই। তারা শুধু বিদ্যালয়ের গন্ডি পার করে পরবর্তীতে যতদিন পর্যন্ত না একজন মুসলিম রাজকুমার আসে এবং তারা অভিভাবকত্ব লাভ করে, ততদিন পর্যন্ত তারা নিজেকে কোনো কাজে বা চাকরিতে ব্যস্ত রাখবে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো- অনেক অসাধারণ, যোগ্য মুসলিম নারীদের জন্য মুসলিম রাজকুমার এতো সহজে ও তাড়াতাড়ি আসে না। আবার কারো ক্ষেত্রে আসলেও তাদের সম্পর্ক সুরেলা হওয়ার চেয়ে জঘন্য হয়ে দাঁড়ায়। এদিকে- অনেক দক্ষ, মেধাবী অথচ অবিবাহিত,কখনো বিয়ে না হওয়া অথবা তালাকপ্রাপ্ত মুসলিম নারীকে কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়ার প্রতি রীতিমত চাপের মধ্যে পড়তে হয়-“তা… বিয়ে করছো কখন? সবসময় তো আর জোয়ান থাকবা না, বয়স হয়ে গেলে কিন্তু সন্তান নেয়া কঠিন হয়ে যাবে”…

Written by- Maryam Amirebrahimi
Translated by- Fatema Mahfuz

Hits: 1

Comments
Loading...