Hits: 14

কে আমাকে নিশি বলে ডাকবে??

0

রিফাত হঠাৎ করে মাথার বাম পাশে হাত দিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। পিছনে তাকানোর চেষ্টা করল, কিন্তু প্রচন্ড যন্ত্রনা আর মাথার ব্যথা ও ঘাড়ের পিছনে কেউ পা দিয়ে চাপা দেওয়ায় দেখতে পেল না।
.
কিছু বুঝার আগেই রিফাত জ্ঞান হারালো।
.
চোখেমুখে একধরনের গন্ধযুক্ত কিছুর ছিটায় জ্ঞান ফিরেই দেখতে পেল নাইলনের সুতোয় হাত পা বাঁধা। হাতটাও পিছন দিকে। কেমন যেন অবশ অবশ লাগছে হাতটা,আর মাথাটাও ধরা ধরা….ভাবল হয়ত মাথা ব্যাথার কারনে এরকম লাগছে। কিছুক্ষন পর বুজতে পারল গন্ধটা হুইস্কির।
_____
ভাবার চেষ্টা করতে লাগল কে এমন করেছে তার সাথে? কে হতে পারে? রাজনৈতিক বিপক্ষ দলের কেউ?
–: নাহ তারা হলে এতক্ষনে মেরেই ফেলত। তবে কি নিশিতা?
ও কি করে হবে? ও তো…..
—ওহ সরি তোমাকে উঠিয়েই রান্নাটা দেখতে গেলাম…কিছু মনে করনি তো?
–নিশিতা তুমি???? আমাকে এভাবে কেন….
–আহা অস্থির হচ্ছ কেন?? জান তোমাকে একান্ত কাছে পাওয়ার জন্য কত কিছু করেছি জানো….তোমাকে ঘুম থেকে উঠিয়েছে হুইস্কির ছিটায়….যেখান থেকে আমার সর্বনাশ ও তোমার প্রতারণার শুরু। যার সাহায্য নিয়ে হত্যা করেছ, সম্ভ্রমের নিলাম তুলেছ। আমি সেই শুরুর শেষ রুপ দিতেই আজ দুদিন তোমায় এখানে রেখেছি।
—কি দুদিন???ক্কে ক্কে….কেন? নিশিতা আমায় ছাড়..
–আহা এত অস্থির কেন হচ্ছ? শোনই না। আর নিশিতা না বলে নিশি বল আগের মত আদর করে…বল নিশি বল…এটা বলেই নিশিতা হাতের গরম চামচটা লাগিয়ে দিল রিফাতের পুরুষালি বুকে….
–নিশিতা লাগছে….ছাড়ো ভালো হবে না বলছি….
–আবার নিশিতা!!! নিশি বল..জানু নিশি বল…আদর করে নিশি বল..
–(নিশিতার কন্ঠ আর চোখের পুরোপুরি ভিন্নতা দেখে,রুদ্ররুপ আর মিষ্টি কন্ঠ দেখে) নিশি ছাড় ছাড়…
–এই ত আমার লক্ষ্ণী সোনা, তুমি থাক আমি খাবার নিয়ে আসছি….
—রিফাত ভাবার চেষ্টা করছে এই কি সেই নিশিতা যে চোখ একটু গরম করলেই কান্নাকাটি লাগিয়ে দিত,হরর মুভি দেখে চিল্লিয়ে বাসাবাড়ি এক করে তুলত…সে কি করে…কি করে এতটা ভয়ংকর হল? কি এমন করেছি…বরং আট দশটা মেয়ের চেয়ে ত ওর স্থে ভাল ব্যবহার করেছি। অন্য মেয়ের বাচ্চা হওয়ার পর হাওয়া হয়ে গেছি..ওর বেলায় ত গোপনে অবর্শন করে দিয়েছি…অবশ্য সে জন্য ও আর কখনো মাতৃ স্বাধ নিতে পারবে না….ও তো এ জন্য আত্নাহত্যা করতে চেয়েছে..করতে গিয়ে কোমাতেও ছিল…আজ দুবছর পর….(চিন্তা শেষ হওয়ার আগেই নিশির প্রবেশ)
–জান তোমার জন্য দেশী মুরগি রান্না করেছি…পা গুলো খেয়ে দেখ ত….ওহ তুমি খাবে কি করে? হাত ত বাঁধা, আমি খাইয়ে দেই…তুমি ছেড়ে যাওয়ার পর আমি আত্নহত্যা করতে গিয়ে কোমায় ছিলাম জান ত তাইনা??উফ তুমি এমন কেন? মুখটা খোল ত…
__ত্ব ত্ব তুমি কি চাও? আমাকে ছাড়..
—খেতে বলেছি খাও… খেতে খেতে কথা শুন…
—নিশির রুদ্র মূর্তি দেখে এবার সত্যি ভয় পেয়ে যায় এবং হা করে খেতে শুরু করে..
–এইত আমার লক্ষ্ণী সোনা….শোন এখানে কেবলই হাড়গোড়…ভাতটা রান্না করিনি…তো শোন, আমি কোমা থেকে ফেরার পর, তোমাকে খুজি এবং পাই নাহারের সাথে…শুনলাম ওর সাথে বিয়েও ঠিক…তাই আমার পাওনাটা মেটানোর জন্যই এখানে আনা….
—এগুলো কিসের হাঢ় জানো??? তোমার হাতের আঙ্গুলের…খুব মজা না?? “”এই আঙ্গুল দিয়েই আমার চুলে বিলি কাটতে,এই আঙ্গুল দিয়েই আমার, কেবলি আমার সন্তানকে হত্যা করার জন্য সই করেছ….আচ্ছা রান্নাটা একদম দেশী মুরগীর পায়ের মত না…(হা হা হা..কান্না মিশ্রিত হাসি)
–আমার হাত, আমার…ওয়াক(বমি করে দিল)
–শোন আমি তোমার এখন প্রথমে চুল কাটব, কেটে আলকাতরা দিব, তারপর রেজার দিয়ে শরীরের প্রতিটি পশম কাটব, তারপর তোমার ওই অঙ্গের ফুটো দিয়ে (গোপনাঙ্গ) সুইটা দিয়ে একটা ধাক্কা দিব। তুমি জ্ঞান হারাবে,দুদিন পর আবার জ্ঞান ফিরিয়ে আনব, সেই সাথে নিয়মিত নেশার একটা করে ইনজেকশন দিব..
—নিশিতা থাম…থাম…ক্ষমা কর আমায়..
–আবার নিশিতা?? নিশি বলতে পারনা বলেই সুঁইটা ঢুকিয়ে দিল…আর গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেল……
–নিশিতা এবার ভাবতে লাগল জাগানোর পর কি করবে….প্রথমে ঠোঁট যে ঠোঁট দিয়ে চুমো খেত, তারপর জিহ্বা যা দিয়ে মিথ্যে বলত অনবরত,তারপর মুখে ব্লেডের অনবরত দাগ,তারপর বুক ও পিঠে **আমি তোমাকে ভালবাসি** লিখা হবে কয়েল দিয়ে…এবং সবই করা হবে তার জীবিত থাকা অবস্থায়, যতবার অজ্ঞান হবে ততবারই জাগিয়ে তোলা হবে….

আজ দু মাস পর রিফাতের রক্তশূন্য লাশ কে যেন সিরিন্জ দিয়ে সব রক্ত বের করে নিয়েছে,মাথায় আলকাতরা মাখা,বুকে ও পিঠে আমি তোমাকে ভালবাসি লিখা অবস্থায় রাস্তায় পাওযা গেল…
___
আর কুলখানিতে নিশি চিৎকার করে কাঁদছে….আর বলছে ★★কে আমায় আদর করে নিশি বলে ডাকবে★★
_______/
লিখাঃ বাহাউদ্দিন #আবির

Hits: 14

Comments
Loading...