Hits: 2

ক্রিকেট,উন্নত বিশ্ব ও আমরা

0

১.

ইসরাঈলীদের কথা ভাবছিলাম।তারা এখন কি করছে?তারা কি তাদের খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত?নাকি গানের কোন লিরিক তৈরী করছে অথবা সিনেমার কোন ক্রিপ্ট?

তাদের শিশুরা কি করছে?তারা কি কার্টুন দেখে সুপারম্যান বা বেন টেন হওয়ার কল্পনা করছে?অথবা খেলাধুলা শিখছে?

নারীরা কি করছে?তারা কি হিন্দি সিরিয়াল দেখে সাংসারিক কুটনামী শিখছে?বা যৌথ পরিবার হিন্দুদের আবিস্কার,এসব নিয়ে ভাবছে?

আসলে এসব কিছুই নয়।ক্রীড়া বিভাগ নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।এমনকি এদিকে কোন নাগরিককে উৎসাহিত করার মতও কেউই নেই।

তারা হয়ত ভাবছে,তারা নতুন অত্যাধুনিক মরণাস্ত্র তৈরী করবে।গাজার কোথায় পরবর্তী বোমাহামলা করা হবে।কোথায় কোন হত্যাকান্ড্ চালিয়ে মুসলিমদের উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে।

শিশুরা ব্যস্ত কিভাবে অস্ত্র চালাতে হয়।কোন মানুষদের বুক দেখিয়ে তাদের রিভলবার চালানো শিখানো হয়।অথবা কাদেরকে আমৃত্যু পর্যন্ত শত্রু ভাবতে হবে,সেটি শিখানো হচ্ছে।

ইসরাঈলই একমাত্র দেশ,যারা তাদের সকল নাগরিকের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে।হোক সে নারী,শিশু বা অন্য যে কেউ……

২.

আমেরিকা তাদের বাজেটের কত শতাংশ খেলাধুলার পিছনে রাখে?তারা কত শক্তি ব্যয় তাদের ক্রীড়াশক্তি বাড়ানোর জন্য?

ফুটবলে তাদের কিঞ্চিৎ পরিচিতি রয়েছে।সেটাও খুব ভালো নয়।হয়ত ফিফা র‌্যাংকিংয়ে তাদের পজিশন ৩০ এর ভিতরে পাওয়া যাবেনা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট একবারও বলেননি,আমরা ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্ববাসীর উপর নিজেদের বিজয়ী হিসেবে প্রমাণিত করবো।

৩.

জার্মানীর চ্যান্সেলরের কাছে প্রস্তাব নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো,সেখানে ক্রিকেট খেলা চালু করার জন্য।ক্রিকেট খেলা কি জিনিস,সেটা বুঝাতেই উনাকে অনেক সময় লেগেছিলো।যখন বুঝলেন,তখন খেলাকে সমর্থন দিলেন।খেলার স্হায়িত্বকাল জিজ্ঞেস করে জানতে পারলেন,ক্রিকেট খেলা দৈনিক ৭ ঘন্টা করে একটানা ৫ দিন চলবে।

এটা শুনেই উনি বললেন-আমার দেশের কোন নাগরিক সকল কাজ ফেলে সারাদিন খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকবে,সেই খেলা আমার দেশে চলবেনা।

ক্রিকেট জার্মানী থেকে প্রস্হান করলো।

৪.

আয়ারল্যান্ড আন্ডারডগ ক্রিকেট হিসেবে বেশ ভালো ক্রিকেট খেলে।মাঝে মাঝে শক্তিশালী দেশগুলোকে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রমাণ করে।

কিন্তু সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে,তাদের কেউ প্রফেশনাল ক্রিকেটার নয়।যখন কোন টুর্ণামেন্ট শুরু হয়,তখন ক্রিকেটাররা চাকুরী থেকে ছুটি নিয়ে সেই খেলায় অংশগ্রহণ করে।

৫.

টি-টোয়েন্টি বাছাই পর্বে ওমান আয়ারল্যান্ডে হারিয়ে দেয়।ম্যান অব দ্যা ম্যাচের পুরস্কার আনতে গিয়ে দুজন উপস্হিত হয়।সেটা দেখে ভেবেছিলাম,শক্তিশালী দলকে হারিয়ে খুশীতে দুজন স্টেজে উপস্হিত হয়।কিন্তু কথা বলার সময় দেখি,একজন উনার সাথে করে দোভাষী নিয়ে যায়।উনি ইংরেজী জানেননা।

আমাদের দেশের শ্রমিকদের শক্তিশালী একটি স্হান হলো ওমান।সেই ওমানের জনগণ খেলা জানেনা।যারা উপমহাদেশ থেকে যান,তারাই ক্রিকেট খেলাটা কিছু ‍কিছু করে শুরু করেন।

৬.

আমাদের অবস্হাটা ভিন্ন।আমরা পাকিস্তান,আফ্রিকাকে হারিয়ে হিসাব কষতে থাকি,কবে নাগাদ আমরা ক্রিকেটে অন্য দেশগুলোর উপরে আধিপত্য বিস্তার করতে পারবো।

সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে ক্রিকেটে পরাজিত করে প্রতিশোধ নেওয়ার স্বপ্ন দেখি।ক্রিকেটে পরাজিত করে ৭১ এর গণহত্যার প্রতিশোধ নিই।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘন্টার পর ঘন্টা স্টেডিয়ামে উপস্হিত থেকে খেলা দেখেন।আর জনগণকে খেলা দেখে সময় নষ্ট করতে উৎসাহিত করেন।

ক্রিকেট অকর্মণ্যদের খেলা।যারা সময় কাটানোর সুযোগ পায়না,তারা খেলে দেখে তাদের সময়কে ব্যয় করতে চায়।

আমরা আর কত অকর্মণ্য হবো?মৃতের চিৎকার শুনে আমাদের অশ্রু ঝরেনা,কিন্তু খেলার জন্য আমাদের অশ্রুর বাঁধ ভেঙ্গে যায়।

 

Hits: 2

Comments
Loading...