মানুষ হওয়ার পেছনে

0 ৩৯

মানুষ মূলত তার প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার থেকেই পেয়ে থাকে। সেটা হতে পারে খুব পরিশিলিত আবার না। পারিবারিক শিক্ষাটা যদি একবার আয়ত্ব করা যায় তবে জীবনের প্রত্যেক স্টেজে ব্যক্তি বুঝে শুনে হাটতে পারে। নিজেকে এজিউম করে ধরে রাখতে পারে নিজস্ব শিক্ষার বলয়ে।
এবং পরিবারের উচিত ইসলামের নিয়ম গুলো পরিপূর্ণভাবে যুক্তিসহকারে শিক্ষাদান করা। যাতে বড় হয়ে এ শিক্ষার আলো নিভে না যায়।
বরং এমন যেন হয় শিক্ষার আলো পূর্ণ দ্যূতি নিয়ে বিকরিত হয়।

পারিবারিক শিক্ষার বলয় ছেড়ে যখন বাইরের যগত চেনা জানা শুরু হয়, তখন কারো না কারো সঙ্গ মানুষের অবিসম্বাভি হয়ে পড়ে, যাদের আমরা বলি বন্ধু। সার্টেইন একটা সময় পর্যন্ত যদিও পরিবার বন্ধুরা কেমন এটা তদারকি করতে পারে। কিন্তু একটা সময় ছেড়ে দিতেই হয়, তখন ওই ব্যক্তিকেই চিনে জেনে নিতে হয় তার আশপাশের মানুষদের, যাদের সাথে সদা সর্বদা ওঠা বসা করতে হবে। পারিবারিক শিক্ষাটা যদি প্রোপার মানের হয়ে থাকে তাহলে ব্যক্তি প্রোপার বন্ধু খুঁজে নিতে পারে বলে আমার ধারনা। দু একটা ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। এবং আমরা ভালোভাবেই জানি যে বন্ধুর স্বভাব দ্বারা মানুষ প্রভাবিত হয় প্রতিনিয়ত।
আমি মনে করি সৎ বন্ধুদের সাথে জান্নাতের পথের দিকে বেশি ধাবিত হওয়া যায়।

এখনকার সময়ের বন্ধুদের দিকে তাকালে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়,
শুধুমাত্র এদের জন্যই যাদের অনিয়ন্ত্রিত বয়ফ্রেন্ড, গাল্ফ্রেন্ড থাকেনা তারাও তখন এসব করতে উৎসাহিত হয়। এই কাজটার মধ্য দিয়েই শুরু হয় ব্যক্তির অধপতনের। তখন থেকে মা বাবা, ভাই, বোন সবাইকে মিথ্যা বলে ধোঁকা দেয়া, এবং নিজেকে সবচেয়ে বেশি ফাঁকির পাল্লায় দাঁড় করানো শুরু হয়।। ব্যক্তি উত্তেলিত আবেগের মোহে এসব বুঝতে পারেনা,, কিংবা বুঝেও দুরে সরে যেতে পারেনা। একটু সতর্ক দৃষ্টি রাখলেই বোঝা যায় অসৎ সঙ্গের জন্যেই যাবতীয় অন্যায় হয়ে থাকে।

তখন আমি ইন্টারইমিডিয়েট এ পড়ি। কলেজের হলেই থাকি, একরুমে ছয়জন, প্রায় প্রত্যেকেরই বয়ফ্রেন্ড আছে অথবা এমনি এমনি কথা বলে কাটায়। এক আপু হঠাৎ ই একদিন বলে বসলো এই তুমি প্রেম করোনা কেন? ঠিকানা বলে এড়িয়ে গিয়েছিলাম। আমি সাধারণত আমার বড় ভাইয়ের সাথে সব কিছুই শেয়ার করার চেষ্টা করি। বড় ভাই বলেছিলো ওদের সাথে বেশি মিশোনা, রুমে কম থাকবা। আমার এক স্কুল ফ্রেন্ড অন্যরুমেই থাকতো ওর রুমেই তখন থেকে সময় কাটাতাম। এটা এজন্য বললাম, পরিবারের মানুষদেরও অনেক ফ্রেন্ডলি হতে হয়। ব্যক্তি ভুল, সঠিক যাই করুক যেন নির্দ্বিধায় বলতে পারে।

মানুষ হওয়ার পেছনে বন্ধু অর্থাৎ যাদের সাথে প্রতিনিয়তই ওঠাবসা করি, দৈনন্দিন কাজ কর্ম করা হয় তাদের ভূমিকা অন্নেক।
বন্ধুরা যদি অন্যটাইপের হয় তাহলে উঠতে বসতে খারাপ কাজগুলো যেন খুব স্বাভাবিক প্রসেসেই অথবা ঠাট্টার ছলেই সংগঠিত হয় যা ঠাওর করা যায় না।

বন্ধুরা যদি হয় সত্যাশ্রয়ী, তবে ধরে নেয়া যায় ভুল হবার সম্ভাবনা খুব কম।
যদি ভুল হয়েও যায় তবে তারা আলতো করে সরিয়ে নিয়ে আসে। আল্লাহ তায়ালার অমিয় বাণী শোনায়, এ ভুলগুলো সম্পর্কে। ফলে মন হয় প্রশান্ত
আবার পথ চলা শুরু হয় জান্নাতের পথের দিকে।

তাই বন্ধু হোক বন্ধুর মত
জান্নাত যাদের শেষ স্বপ্ন।
ভুলের পাপড়ি পদদলিত করে
ছুটে চলা হোক সামনের দিকে।
বন্ধুর ভূমিকা সবসময় থাকবে
সৎ সুষ্ঠ মানুষ হওয়ার পেছনে।

Hits: 0

Comments
Loading...