Hits: 0

সৃষ্টিকর্তার ঘরে তালা, জবাবদিহিতা কার কাছে?

0

শহরের অধিকাংশ মসজিদগুলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় ছাড়া বাকি সময়গুলো তালাবন্ধ করে রাখা হয়। এর ফলে কেউ যদি ওয়াক্ত মিস করে ফেলে তাহলে মসজিদে বসে নামাজ পড়ার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। আমি এরকম পরিস্থিতিতে বহুবার পড়েছি। কিন্তু আল্লাহর ঘরকে এভাবে তালাবদ্ধ করার বিষয়টা আমার কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। মসজিদ কর্তৃপক্ষ মনে করেন মসজিদ খোলা থাকলে সেখান থেকে চুরি যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ঘটনা মোটেও মিথ্যা নয়, কিছুদিন আগে আমাদের গ্রামের মসজিদের ব্যাটারী চুরি হয়েছিলো। চোর দেখতে একজন জবরদস্ত আলেম। পায়জামা-পাঞ্জাবী, লম্বা দাড়ি, নুরানী চেহারা, দেখলেই আল্লাহর ওলি মনে হয়। অথচ উনিই নামাজ শেষ করে সুন্দর করে মসজিদের মাইকের ব্যটারী নিজের সাইকেলের ক্যারিয়ারের পেছনে বেধে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধরা খায়। আমাদের কাছে তার অবস্থান কোথায় নেমে গেছে সেটা নাহয় বাদ দিলাম। কিন্তু হাসরের ময়দানে সৃষ্টিকর্তা যেদিন তাকে প্রশ্ন করবে- হে আমার বান্দা, তুমি কীভাবে পারলে আমার ঘর থেকে চুরি করতে? সেদিন সে এই প্রশ্নের কী উত্তর দিবে?

আমরা সবাই কম বেশি পাপ কাজ করি। কিন্তু সেগুলোর একটা সীমা থাকে। কিন্তু যারা মসজিদ থেকে চুরি করে, মসজিদ এর জিনিস চুরি করে তাদের অবস্থানটা কোথায়? এ যাবত মসজিদ হতে আমার ৩টা চশমা এবং একজোড়া সেন্ডেল হারিয়ে গেছে, বদল হয়েছে কতোগুলো তার তো কোন হিসাবই নেই। শুধু এই ধরনের চোরদের জন্য সৃষ্টিকর্তার ঘরে এখন তালা ঝুলে! সামান্য কোন প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তির রুমে তালা লাগালেই সেটা ঘোরতর অপরাধ হিসাবে গন্য করা হয়, অথচ সৃষ্টিকর্তার ঘরে তালা লাগানো কতো বড় অপরাধ সেটা কে কাকে বুঝাবে?

Hits: 0

Comments
Loading...