Hits: 12

‘মানুষের জন্য সামাজিকতা’ নাকি ‘সামাজিকতার জন্য মানুষ’?

0

সমস্যা হলো পরশ্রীকাতরতা। আমরা অন্যের ভালো দেখতে পারি না। সেই সাথে চলে হিংসা ও তুলনা। আবার কাউকে খোঁটা দিতেও দেরী করি না। আর এসবের কারণে আজকাল নিজের খুশিতে সবাইকে সামিল করতে অনেকেই চিন্তায় পরে যান কিংবা দ্বিধা করেন। উদাহরণটা বিয়ের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা দিয়েই দেই- যেগুলোতে মূলত কোনো জোরজবরদস্তি নেই, নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী অনেকে করে, আবার না করলেও ছোটলোকি দেখিয়ে সমস্যা তৈরি করার কিছু নেই। সে যাই হোক- জামাইপক্ষ থেকে ডালা আসুক কিংবা কনেপক্ষ থেকে কোনো ডালা যাক এসব উৎসবে সবাই নিজের আত্মীয়স্বজনদের ডাক দেয়। যাতে একসাথে ডালাগুলো খুলে আনন্দ করা যায়। তবে অনেকেই এগুলো দেখে ভালো মন্তব্য করার চেয়ে মুখের উপর বিরূপ মন্তব্য করেন- “আমার ওমুকের বিয়েতে এর চেয়ে বেশি এসেছে! এইটা কি দিলো”? শুধু তাই নয়- কারো ডালার সংখ্যা বেশি দেখলে মনে মনে স্থির করে বসে- “আমার/আমার তমুকের বিয়েতেও অপরপক্ষ থেকে এমনই ডিমান্ড করবো”! আবার কারো বিয়েতে এসব আনুষ্ঠানিকতা না হলে খোঁটাও দেয়া হয়!
ভাবছি সেই গরিব ছেলে, মেয়ে, মেয়ের ভাই, বাবা’র কথা- যাদের এতো সামর্থ্য নাই। তারা কি করবে? এই সমাজ কি তাদের খোঁটা দিতে থাকবে? বিভিন্ন ঘরের তুলনা দিয়ে কষ্ট দিবে নাকি তারাও চাপমুক্ত হয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী জীবন উপভোগ করার সুযোগ পাবে? আমাদের হীন মানসিকতার পরিবর্তন না হলে ‘মানুষের জন্য সামাজিকতা’ জিনিসটা উল্টে ‘সামাজিকতার জন্য মানুষ’ এমনটি হয়ে যাবে। যেটা আদৌ সুখকর নয়।

Hits: 12

Comments
Loading...