Hits: 2

আমার আর মানুষ হওয়া হলোনা!

0

১.

ছোটসময় থেকেই ভাইদের মাঝে ছিলাম একটু বেশী ঘাড়ত্যাড়া ও তারছিড়া টাইপের।আর এই কারণেই আব্বুর মাইরটা আমার উপরেই সবচেয়ে বেশী পড়েছে।

অপরাধপ্রবণ কখনোই ছিলামনা।তবে দুষ্টের শিরোমনি ছিলাম,এটা অনায়াসে বলা যায়।আব্বু যখন বাড়ির বাইরে থাকতেন,তখন আম্মুর হাতে একই শাসনের সম্মুখীন হতাম।

আব্বু ছিলেন মারাত্বক রকমের রাগী।যখন রাগতেন তখন বাড়ীসহ পুরো গ্রাম কেঁপে উঠতো।সবাই বুঝতো,ঐ বাড়ীতে কোন কিছু হচ্ছে।

আব্বুর যখন বাড়ীতে কাজ করতেন,তখন বাড়ীর বাইরে যাওয়া নিষেধ ছিলো।কিন্তু আমার ছোট ভাই এই নিয়ম মেনে চললেও আমি কখনোই নিজেকে এই আইনের অন্তর্ভুক্ত করতে পারিনি।আর এর ফলাফল ছিলো ভয়াবহ।ছোট ভাই ছিলো সবার কাছে প্রিয় আর আমি ছিলাম সবার অপ্রিয়।

অনেক সময় ছোট ভাইকে প্ররোচিত করে কাজ থেকে সরিয়ে আমার সাথে খেলার মাঠে নিয়ে যেতাম।তখন দুই ভাইই একই পরিস্হিতির শিকার হতাম।

অষ্টম শ্রেণীতে মূল্যায়ন পরীক্ষার পূর্বের দিন দুই ভাই খেলতে দূরে চলে গেলাম।আব্বু দুই ভাইকে খুজতে খুজতে হয়রান।যখন খেলার মাঠ থেকে দুই ভাই ফিরছি,তখন রাস্তার অন্যরা বলছে,তোমার আব্বু তোমাদেরকে অনেক খুজেছে।আজ তোমাদের দুইজনেরই খবর আছে।

বাড়ীর সীমানায় এসে দেখি,বাড়ীর পরিবেশ গুমোটে।ঝড়ের পূর্বাভাস পেয়ে ভয়ে ভয়ে বাড়ীতে প্রবেশ করি।কিছুক্ষণ পরেই ঝড় শুরু হয়।ঐদিন দুই ভাই রাত ১২ টার দিকে বাড়ীতে প্রবেশ করেছিলাম।

আব্বুর এত কড়া শাসনের পরও একটুও পরিবর্তন হতে পারি নাই।নিজে যে বৈশিষ্ট্যের ছিলাম,সবসময় সেই বৈশিষ্ট্যেই ধরে রেখেছিলাম।

এমনকি ইন্টারে পড়ার সময়ও একই বৈশিষ্ট্যের কারণে আব্বুর হাতে মাইর খেয়েছিলাম।

 

২.

ছাত্র হিসেবে কোনসময়ই খারাপ ছিলামনা।পড়াশোনার ব্যাপারে উদাসীনতা থাকলেও কখনোই আহামরি কোন খারাপ রেজাল্ট করিনি।

আমার পড়াশুনা দেখে কখনোই পরিবারের কেউ খুশী হতে পারেনি।বরং আমার পড়াশুনা নিয়ে অনেকেই বিরক্ত ছিলো।

যখন মেট্রিক চলছে,তখনও নিজের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেছিলাম।প্রতিনিয়ত খেলার মাঠে উপস্হিত থাকতাম।

পরীক্ষা শুরুর পূর্বের দিন খেলার মাঠে একজন জিজ্ঞেস করছেন,কাল থেকে তোমার পরীক্ষা শুরু না?

বললাম-হ্যা।তো কি হয়েছে?

উনি বললেন-আলআমিন (আমার বন্ধু) বাড়ীতে বসে বসে পড়তেছে।আর তুমি খেলতে আসছো!

বললাম-তার পড়া সে পড়ুক।

উনি চুপ হয়ে গেলেন।

পরীক্ষার কয়েক দিন পূর্বে এক আত্নীয় বাড়ীতে বেড়াতে আসেন।উনার সাথে উচ্ছেমত ঘুরে ফিরে সময় কাটালাম।উনিও আমার অচরণ দেখে হতভম্ব হয়ে গেলেন।যাওয়ার পূর্বে ভাইজানকে বলে গেলেন-মাহফুজ যে একজন পরীক্ষার্থী,এটা তার আচরণ ও পড়াশুনায় কখনো বুঝা যায়না।

ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষার জন্য যখন পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছি,তখন ভাইজান প্রতিনিয়ত একটি কথা বলে ধমকাতেন,এই পড়াশুনা দিয়ে ভার্সিটি তো দূরের কথা,জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও চান্স পাবানা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন পরীক্ষা দিতে যাই,তখন কয়েকজন বন্ধুদের সাথে মজা করছিলাম।ভাইজান এটা দেখে বলেন-মনে হয়,তোমরা কয়েকজন ভার্সিটিতে পিকনিক করতে এসেছো।

 

এখনো নিজেকে পরিবর্তন করি নাই।ছোটসময় থেকে যে বৈশিষ্ট্যগুলোই পেয়ে এসেছি,এত শত শাসনের পরেও নিজের মাঝে সামান্য পরিবর্তন আসেনি।

এখনো মানুষ হতে পারি নাই।অনেকেই মানুষ হওয়ার পরামর্শ দেয়,কিন্তু মানুষ হওয়া কি এতই সোজা!

তাই মাঝে মাঝেই অমানুষের ভীড়ে ফিরে মানুষ হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

Hits: 2

Comments
Loading...