ঈদ আনন্দে মানবিকতা যখন প্রশ্নবিদ্ধ!

0 ৪৩

index
উনার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কি কিংবা উনি কি মনোভাবের মানুষ- সেটা ততটা জানতাম না- তবে প্রেস ক্লাবের কোনো আয়োজনে, মানববন্ধনে কিংবা সাংবাদিকদের অধিকারের ব্যাপারে উনি রাজপথে বেশ সোচ্চার- এটাই টিভির পর্দায় লক্ষ্য করতাম। একদিন ‘আমাদের সংস্কৃতির ওপর ভারতীয় অপসংস্কৃতি, হিন্দি সিরিয়ালের বিরূপ প্রভাব’- নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে উনার যুক্তিযুক্ত বক্তব্যের ভিডিও বিবেককে নাড়া দেয়। মনে হচ্ছিলো- ‘হ্যাঁ, ঠিক তো! কথা তো সেটাই’! তারপর থেকে উনাকে আরো শ্রদ্ধার সাথে দেখা। তিনি হলেন- সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ ফোরাম বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন- বিএফইউজের সভাপতি, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক দু’বারের সভাপতি ও চারবারের সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জনাব শওকত মাহমুদ।

ঈদের আগের দিন এক কলামের মাধ্যমে উনার ব্যাপারে আরো কিছু জানা সম্ভব হলো। একসময়কার দৈনিক সংবাদের সাড়াজাগানো অনুসন্ধানী রিপোর্টার শওকত মাহমুদ স্যার আজ জেলে আছেন। কি কারণে উনাকে গ্রেফতার করা হলো? নির্বাচন ছাড়া, সদস্যদের ভোট ছাড়া একটি ঘোষিত দখলদার কমিটি রাতের অন্ধকারে তালা ভেঙ্গে ক্লাব দখল করে নিয়েছে। প্রেস ক্লাবে এমন দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে তিনি আওয়াজ তুলেছিলেন। এটাই ছিলো তার অপরাধ!

আমার কথা হলো- প্রেস ক্লাব কোনো একক রাজনৈতিক দলের নয়, সুতরাং- সেখানে নির্দিষ্ট কোনো দলের দখলদারিত্ব হলে, তা খতিয়ে দেখে সমস্যা দূর করলেই তো হয়!সেখানে গ্রেফতার করে হয়রানি কেনো? এদিকে অন্তত মানবিক কারণে কি উনাকে জামিনে মুক্তি দেয়া যেতো না? উনি কি কোনো দাগী, ভয়ঙ্কর আসামী? ঈদ উপলক্ষ্যে কি মানবিকতা কাজ করে না? কেমন লাগছে উনার স্ত্রী ও সন্তানের? আজ আমরা একে অপরের সাথে আনন্দ উপভোগ করছি, কুরবানি দিচ্ছি। অথচ তাদের ঘরে শোকের ছায়া। স্ত্রীর কাছে স্বামী নেই, সন্তানের কাছে নেই তার বাবা। তাদের ঘরে কিভাবে ঈদ হচ্ছে? এই চিত্র শুধু শওকত স্যারের বাসায় নয়- বরং, এমন অনেকের বাসায় যারা দূর্নীতি ও সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। মানবিকতা আসলেই আজ প্রশ্নবিদ্ধ…।

Hits: 3

Comments
Loading...