Hits: 9

বায়োডাটা দেখে যায় না চেনা…

0

আমরা সবাই উত্তম জীবনসঙ্গী কামনা করি, কিন্তু এই কামনার পিছনে চেষ্টা-সাধনা করি না। আমাদের প্রথম ব্যর্থতা ও অজ্ঞতা ধরা দেয় বায়োডাটা লেখার ক্ষেত্রে। হাস্যকর নয় বরং অবাক ব্যাপার হচ্ছে- বিবাহে ইচ্ছুক পাত্র/পাত্রী নিজের বায়োডাটা পর্যন্ত লিখতে জানে না। যেকারণে বায়োডাটা দেখে বুঝা যায় না- মানুষটি কেমন!
এদিকে বায়োডাটার মধ্যে সবচেয়ে গতানুগতিক বিষয় হলো নিজের ও বাপদাদার নাম ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা। যদিও এসব সাধারণ বিষয়ের বাইরে অসাধারণ কিছু বিষয় নিয়ে আসা দরকার। যেমন-

আমি মানুষটা কেমন?
আমার শখ কি?
আমি কেমন জীবনসঙ্গী কামনা করি?
নিজের জীবন নিয়ে আমার পরিকল্পনা কি?
উপরের প্রশ্নগুলো নিজেকে নিজে করে উত্তরগুলো তৈরি করতে হবে।

 
এবার উপরের প্রশ্নগুলোর যদি সংক্ষেপে বিশ্লেষণ করি তাহলে বলবো। হতে পারে আপনি পড়ুয়া টাইপ কিংবা লেখক গোছের/ গল্প-সাহিত্য/উপন্যাস পড়তে পছন্দ করেন। হতে পারে আপনি ধার্মিক, ধর্মতত্ত্বে বিশ্লেষক। কিংবা আপনি ভালো সংগঠক, আড্ডা দিতে ভালো লাগে। দেশ-বিদেশের সমাজ/রাজনীতি/ অর্থনীতি/ কূটনীতি নিয়ে ভাবেন। হতে পারে আপনি ভাবুক টাইপ কিংবা নতুন নতুন জায়গায় ঘুরতে পছন্দ করেন। আবার হতে পারে আপনি নির্দিষ্ট কোনো খেলা পছন্দ করেন বা খেলাধুলা করেন- ইত্যাদি বিভিন্ন টাইপের লাইফ স্ট্যাইল আপনার হতে পারে। তাই আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন- আপনি কি? আপনি কেমন? নিশ্চয়ই আপনি সবার মতো না, আপনার একটা আলাদা পরিচয় আছে। অতঃপর ‘About myself’ পয়েন্ট উল্লেখ করে নিজের ব্যাপারে সংক্ষেপে লিখুন। যাতে অপরব্যক্তি আপনার ব্যাপারে একটা ধারণা পায়। তেমনি ‘My hobby’ কিংবা জীবনসঙ্গীর দিক থেকে আপনার ‘Expectation’- এসব পয়েন্ট উল্লেখ করে লিখুন- যাতে অপরপক্ষের জন্য আপনাকে বাছাই করা সহজ হয়।

 

অনেকে হয়ত ভাবছেন- ‘দূর! এতো কিছু লেখার দরকার কি’? ‘এসব আবার মানুষ লেখে নাকি’? এমনকি পরিবারের কর্তারাও হয়ত আপনাকে এরূপ বায়োডাটা লেখার ক্ষেত্রে বাঁধ সাধতে পারে। বলতে পারে- “আজাইরা প্যাচাল বাদ দে”! যদিও এগুলোই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ পাত্র/পাত্রী দেখতে কেমন, তাদের বংশ কিংবা সম্পত্তি- এসব ওপর থেকে বুঝা যায় তবে ব্যক্তির মানসিকতা কেমন তা কিন্তু ব্যক্তিকে নিজের ভালোর জন্যই অন্যকে জানিয়ে দিতে হবে, বিশেষ করে বিয়ে করার ক্ষেত্রে। কারণ- একটা মানুষের সাথে হয়ত আপনার শতভাগ মিলবে না, কিন্তু তারপরও নিজ থেকে জানানো কিংবা জেনে-বুঝে কবুল করা ভালো।

 

এবার অনেকেই হয়ত বলবেন- “এসব বিষয় না লিখে, সামনা-সামনি কথা বললেই তো হয়”! হ্যাঁ, তা তো অবশ্যই। তবে আফসোসের বিষয় হলো- অনেক ছেলে-মেয়েরা বিয়ের আগে কিভাবে আরেকজনের সাক্ষাৎকার নিতে হয় তাও জানেন না! কিছু পাত্র/পাত্রী তো নিজে সাক্ষাৎকার না নিয়ে নিজের মা/বাবা/ভাই/বোন/ভাবীকে ঠেলা দেয়। বলে- ‘আমার ভয় লাগে, তোরা নে’। মনে রাখা উচিত- কিছু কিছু জায়গায় ভয় নয় সাহসিকতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়া উচিত। কারন বিয়েটা আপনি করছেন, আপনার মা-বাবা নয়। জীবনসঙ্গীকে নিয়ে চলতে হবে আপনাকে। তাছাড়া যেকোনো বৈধ পন্থায় যেখানে সুযোগ আছে, সেখানে পিছপা হওয়া উচিত নয়।

 

আরেকটা বিষয় না বললেই নয়। কারণ আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা বৈধ পথ থাকলেও, সেই পথে ভয় পান/গরিমসি করেন, কিন্তু অবৈধ পথে এগিয়ে যেতে দ্বিধা করেন না। যেমন- অনেক পরিবারে দেখা যায়- মুরুব্বিদের পছন্দ হয়ে গেলে তারা যখন মেয়েকে আংটি পরিয়ে আসে, তারপর থেকেই ছেলে-মেয়ে মোবাইলে চুটিয়ে কথা বলা শুরু করে দেয়। যদিও তাদের মধ্যে আদৌ কোনো বৈধ সম্পর্ক নেই। অনেকে যুক্তি দেখায়- এবার আমরা একে অপরকে বুঝে নিই। সেক্ষেত্রে বলবো- বুঝে নেয়ার পর্বটা যেখানে সরাসরি পরিবারের সামনে দেখা করে প্রাথমিক পর্যায়েই করা যেতো, সেখানে গোপনে মোবাইলে পরপুরুষ কিংবা পরমহিলার সাথে কথা বলার লাভ কোথায়? একটা সামান্য আংটি সম্পর্কের কোনো ভিত্তি/ দলিল নয়। তাই পাত্র/পাত্রীর পরীক্ষাটা প্রথম সাক্ষাতেই করা জরুরি আর পরবর্তীতে কথা বলা কাবিনের পরেই করা উচিত।

এদিকে অনেক পরিবার আছেন যারা নিজের সন্তানকে বলেন-“ তোর এতো পরীক্ষা করার কি আছে? যা বলার, যা জিজ্ঞাস করার আমরাই করবো”। আর এমন কর্তারাই নিজের সন্তানদের না সাক্ষাৎকার নিতে দেন আর না ছেলে-মেয়ে একান্তে কথা বলে নিক- এমন পরিবেশ সৃষ্টি করেন। কি পরিমাণে অজ্ঞতা ও বোকামি!

 

যাই হোক- যেহেতু বায়োডাটা লিখনের ব্যাপারে কথা হচ্ছে তাই আরেকটা বিষয় বলা জরুরি। এমনও হতে পারে, আপনার কোনো অভ্যাস যেটা বায়োডাটায় উল্লেখ থাকুক আপনি সেটা চান না। কেউ জানুক তাতে আপনি নিজেই লজ্জিত হন। এর অর্থ- আপনি নিজেই স্বীকৃতি দিচ্ছেন, আপনার সেই অভ্যাসটা ‘বদভ্যাস’। আর এ সংক্রান্ত একটা হাদিস আছে, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন- “যেটা অন্যের সামনে প্রকাশিত হোক, লোকে জানুন- সেটা যখন তুমি চাও না, তখন সেটাই পাপ” (মুসলিম, হাদিস নং- ৬৪১০)। তাই এমন যদি কোন পাপ বা বদ-অভ্যাস থেকে থাকে যেটা উল্লেখ করার মতো নয়, তবে সেটা বিয়ের আগেই নিজ থেকে পরিহার করা উচিত। যেমন ধরুন- আপনি ধুমপান করেন বা মাদকসেবী (উল্লেখ্য, মেয়েরাও অভিজাত রেস্টুরেন্টে সিসা কর্ণারে নেশা করে)- তাহলে নিজের ভালোর জন্য, সুস্বাস্থ্যের জন্য এগুলো ত্যাগ করুন।

 

সবশেষে, যারা বিয়েটাকে শ্রেফ একটা সামাজিক রীতি মনে করে- তাদের কাছে জীবনের তাৎপর্য ফিকে। তবে যারা একটা সুন্দর ও পবিত্র জীবন অতিবাহিত করতে চায়; যারা জানে, বিয়ে- হয় জীবনকে শান্তি দিবে, সুন্দর লক্ষ্যের দিকে পৌঁছে দিবে নয়তো লক্ষ্য বিচ্যুত করবে- তারাই বিয়ের আগে সচেতন হয় এবং তাদের বায়োডাটাগুলোই হয় তাদের প্রতিচ্ছবি…

Hits: 9

Comments
Loading...