Hits: 0

সমাজের এক বিকৃত রূপ!

0

রাস্তায় প্রচুর ভিড়। হাঁটারও যেনো জায়গা নেই। এদিকে যথারীতি কিছু রিকশাওয়ালার লাইন ভঙ্গ করার প্রবণতা। এমন সময় ডানে বায়ে জায়গা না পেয়ে রাস্তার মাঝখান দিয়েই যাওয়া শুরু করলেন এক লোক। তা, এক রিকশাওয়ালা যেহেতু লাইন ভঙ্গ করে রাস্তার মাঝখানে এসেছে, তো এটা নিয়ে রিকশাওয়ালার সাথে সেই ব্যক্তির ঝগড়া শুরু। দেখলাম- ঝগড়ার এক পর্যায়ে রিকশাওয়ালাকে সিট থেকে নামিয়ে ঘাড়টা ধরে নাকের পাশে হাতের আংটি দিয়ে এমন জোরে আঘাত করলেন যে- রিকশাওয়ালা সাথে সাথে অজ্ঞান, সেই সাথে নাক দিয়ে রক্ত ঝরছে। আশেপাশে দু এক জন লোক এগিয়ে এলো রিকশাওয়ালাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য, আর যে লোকটি তাকে মেরেছে তাকে দেখলাম- বেশ দম্ভ ভরে হেটে যাচ্ছেন। মুখে এমন ভাব যে- “যাক! আচ্ছা মতো মারছি, ব্যাটা মরলে মরুক”!

 

এটা হলো আমাদের সমাজের চিত্র। এক বিকৃত রূপ। সেই লোকটা রিকশাওয়ালাকে না মেরে লাইন ব্রেক করার জন্য কিছু ধমক দিয়ে তাকে একেবারে লাইনের পিছনে দিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু না, সামান্য একটা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে- প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে বিভিন্ন নৃশংসতা, পৈশাচিকতা, উগ্রতা, এমনকি হত্যা পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছে। যেমনটি হলো সিলেটে ছোট বালক রাজনের সাথে। চুরির দায়ে মারতে মারতে তাকে হত্যা করলো। যারা অত্যাচার করলো তারা কি একটি বারও ভেবেছে- এই বালকটি চুরি করছে কি কারণে? অভ্যাসবশত নাকি বাধ্য হয়ে? আর চুরি করলেই কি প্রাণ নিয়ে নিতে হবে? যেখানে প্রাণ দেয়ার মালিক আমরা নই?

যাই হোক- অপরাধের পিছনের কারণ খোঁজা, সমাধান করা- সেই চিন্তা আমাদের মধ্যে নেই। যেহেতু রাষ্ট্রে সুস্থ বিচার নেই- তাই আইন হাতে তুলে নেয়ার মানসিকতা আমাদের মধ্যে লক্ষ্যণীয়। তবে সেই মানসিকতায় মানবিকতা আছে কি? শাস্তির বিপরীতে সমাধানের চিন্তা কাজ করে?

যাই হোক- top to bottom নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজন। তা নাহলে সমাজের এই বিকৃত রূপের পরিবর্তন হয়ত এক স্বপ্নই হয়ে থাকবে।

Hits: 0

Comments
Loading...