Hits: 1

“বিয়ে বন্ধ করে রাখসে…”

0

বিষয়টা হাস্যকর! তবে আধুনিক যুগেও মানুষের কিছু ধ্যান-ধারণার পরিবর্তন হচ্ছে না। বিশেষ করে যাদু-টোনার ক্ষেত্রে। আর এই বিশেষ ধারণাটা বিশেষভাবে জাগ্রত হয় যখন কারো মেয়ের বিয়ে হতে দেরি হয়। দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ মা-বাবা দ্বারস্থ হন মাজারে, কবিরাজ কিংবা জ্যোতিষীর কাছে। আর সবার জন্য তাদের রেডিম্যাড ডায়ালগ- “আপনার মেয়ের বিয়ে কেউ বন্ধ করে রাখসে, আপনি যদি সমাধান পেতে চান- তা, এখন কিছু টাকা দিয়ে যান, পরে ধাপে ধাপে দিতে হবে এবং আপনার মেয়ের বিছানা, চিরুনি, গোসলের পানি ও রুমের চারপাশে ছিটানোর জন্য কিছু পানি পড়া দিয়ে দেবো- এগুলো ছিটিয়ে দিবেন”। বিবাহযোগ্য একাধিক মেয়ের সাথে কথা বলে তাদের পরিবারের এমনই তৎপরতার কথা জানা গেলো।

লক্ষ্যণীয়, জ্যোতিষীরা একই কথা সবার ক্ষেত্রে বলে হাজার হাজার টাকা প্রতিবার কামাই করে নিচ্ছে আর এর বিপরীতে যারা তাদের স্মরণাপন্ন হচ্ছেন- তাদের মনে জ্যোতিষীর প্রতি, আগাম ভবিষ্যতবাণীর প্রতি একটা বিশ্বাস জন্মাচ্ছে এবং নিজের অজান্তেই আল্লাহ’র প্রতি বিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। অথচ আল্লাহ যে, অদৃশ্যের মালিক এবং সবকিছুর নিয়ন্ত্রক- এসবের ওপর ঈমান কমে যাচ্ছে। আর ভরসা যখন আল্লাহ ব্যতিত সেই জ্যোতিষী ও তার অর্থ না জানা মন্ত্র মিশ্রিত পানি ছিটানোর ওপর চলে যাচ্ছে- শিরক তথা আল্লাহ’র একত্ববাদিতায় অংশিদারিত্ব তথা কবিরা গুনাহ তখনই হয়ে যাচ্ছে। যদিও যারা এসবের স্মরণাপন্ন হন তারা মুখে বলেন- “আমরা আল্লাহতে বিশ্বাস করি”!

এবার দেখুন- অনেকে যাদু-টোনার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন- রাসূলুল্লাহ সাঃ এর ওপরও তো যাদু করা হয়েছিলো। তাহলে বলবো- তিনি আল্লাহ’র আদেশে কি করেছিলেন তা কি আমরা লক্ষ্য করি? তিনি সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়েছিলেন। অথচ আমরা কয়জন এ ছোট সূরা দুটির অর্থ জেনে বুঝে পড়ি? তাছাড়া রাতে ঘুমানোর সময় আয়াতুল কুরসি ও এই দুটি সূরা পড়ে ঘুমানো উত্তম- তা, আমরা কয় জন অর্থ জেনে এসব আমল করি?

এবার যা না বললেই নয়। তাহল- জ্যোতিষীরা যা করে তা হলো প্রকৃত শয়তানের কাজ। কারণ সহীহ হাদিস মুসলিম এর হাদিস নং ৫৭১০ এ বলা আছে- কিছু লোক নবীজীকে জ্যোতিষীর কিছু আগাম কথা বাস্তব হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে জিজ্ঞাস করায় তিনি বলেন- “ঐ একটা কথা বাস্তব সত্যের অন্তর্ভুক্ত যা, জিনেরা চুরি করে নিয়ে আসে”। বিস্তারিত এসেছে ৫৭১২ নং হাদিসে। যেখানে বলা আছে এমন- আল্লাহ যখন কোনো বিষয়ের সমাধান দেন, তখন আশেপাশের ফেরেশতারা সেটা নিয়ে আলোচনা করে, সংবাদ আদান-প্রদান করে, পরিশেষে এ সংবাদ নিকটবর্তী আকাশে পৌঁছে। সেসময় জিনেরা লুকিয়ে গোপন বিষয় শুনে নেয় এবং এর সাথে অতিরিক্ত কিছু জুড়ে দেয় এবং তাদের দোসর জ্যোতিষীর নিকট পৌঁছে দেয়। তখন জ্যোতিষীরা বলতে পারে। আরেকটি হাদিসের বর্ণনায় এসেছে এমন- জিনেরা আংশিক সংবাদ শুনতে পায়, পুরোটা নয়। এদিকে তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করে ফেরেশতারা তাদের তাড়িয়ে দেয়, যেটা আকাশ থেকে খসে পড়া তারকার মতো আমরা দেখি”।

সুতরাং, মোদ্দাকথা হলো- জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে হওয়া, দেরিতে হওয়া কিংবা না হওয়া থেকে শুরু করে পৃথিবীর সবকিছুর নিয়ন্ত্রক আল্লাহ তা’য়ালা। আমরা শুধু ভালো পথে চেষ্টা করবো, বাকিটা ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিবো। আর বিশ্বাস রাখতে হবে তেমনই- যেমনটি আল্লাহ বলেছেন। কারণ- তিনি আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, কেউ তা থেকে আমাদের বঞ্চিত করতে পারবে না।
“আল্লাহ যদি তোমাদের সাহায্য করেন তাহলে কোনো শক্তি তোমাদের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পারবে না৷ আর যদি তিনি তোমাদের পরিত্যাগ করেন, তাহলে এরপর কে আছে তোমাদের সাহায্য করার মতো ? কাজেই সাচ্চা মু’মিনদের আল্লাহর ওপরই ভরসা করা উচিত” ৷ (সূরা ‘ইমরান, আয়াত- ১৬০)

Hits: 1

Comments
Loading...