Hits: 6

ফিরিয়ে দাও আমার শৈশব,কেন আমি বঞ্চিত?ফিরিয়ে দাও আমার অধিকার!

0

আমি নচিকেতার অন্ধ ভক্ত সেই স্কুলে থাকতেই। তার গান প্রায় শুনি। আজ একটা গান শুনে খুব থমকে দাঁড়ালাম । যদিও গানটি আগেও অনেক শুনেছি। কিন্তু ঐ গানের একটি পঙক্তি আমাকে ভাবনায় ফেলে দিল। গানটা আমাকে নিয়ে গেলো আমার সোনালী ও দুরন্ত হাসি আনন্দের সেই শৈশবে। গানটায় ঐ লাইনটা এই রকম –“ছোট ছোট শিশুদের শৈশব চুরি করে
–গ্রন্থকীটের দল বানায় নির্বোধ”
কিন্তু এই শৈশব চুরির দায়ে কেও আমাদের অভিবাবকদের কে চোর বলে না । বরঞ্চ বেশিরভাগ লোকই ঐ বাবা মা কে আদর্শ বাবা মা বলে থাকেন। পাঠক, আপনারা নিশ্চয় প্রেসার কুকারের নাম শুনে থাকবেন। আমাদের বাচ্ছাদের, শিশুদের শৈশব এখন পুরোটাই একটা প্রেসার কুকারের মত। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। একটা ছেলেকে প্রাইভেট পড়াতাম। তার পুরো দিনের সিডিওল দেখেতো আমি অবাক। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেই গনিত প্রাইভেট,গনিত প্রাইভেট থেকে এসেই স্কুলের কোচিং,কোচিং শেষে নিয়মিত ক্লাশ,ক্লাস শেষে বাসায় আসার পথে ইংরেজী প্রাইভেট,প্রাইভেট শেষে এসে দু চার লোকমা খাওয়ার পর বা অনেক সময় অর্ধেক খাবারে সময় আমি এসে হাজির। বিকেলে আমি শেষই করলে আসে তার হুজুর। তারপর রাতের স্যার, তারপরতো বাকিটা সহজেই অনুমেয়।এই যদি হয় একটি পঞ্চম শ্রেনীর বাচ্ছার ডেইলি রুটিন তাহলে একবার ভেবে দেখুনতো এই বাচ্ছার শৈশব বলে কী কিছু আছে?
আগে আমরা স্কুলে পড়ার সময় বা কলেজে পড়ার সময় paragraph লিখতাম “your childhood memories”। এখন যদি শহরের কোন বাচ্ছকে এটা লিখতে বলা হয় তবে সে কী লিখবে? সেতো কাঁধে ব্যাগ, মায়ের বকুনি, বাবার শাসন, স্যারের মাইর ছাড়া আর কি শৈশব আছে তার। দুদন্ড বিশ্রাম নেয়ার ও সময় তার নেই। ফার্মের মুরগী এখন আমরা অনেকেই খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি।কিন্তু ছেলেটা বা মেয়েটার শৈশব কেড়ে নিয়ে তাকে বানাচ্ছি সেই ফার্মের মুরগীই।
ব্যাগ কাধেই এদের শৈশব শেষষ। এসব ছেলেদের দেখলে আমার সত্যিই আফসোস হয়। আমাদের শৈশব নিয়ে আমরা সত্যিই গর্বিত। সোনালী সেই দিনগুলোর কথা মনে হলে আজো হারিয়ে যাই সুখের সাগরে।সেই আম, জাম, লিচু গাছে উঠে ফল খাওয়া। পুকুরে অনেক্ষন পর্যন্ত পাড়ার এবং বাড়ীর ছেলেদের সাথে সাঁতার কাটা। বিকেলে গোল্লাছুট, ফুটবল,কানামাছি খেলা,। কখনো বা সাত ঝিক,লিকোচুরি, এক্কা দোক্কা খেলা। ধানা কাটার মৌসুমে খড় রোদে শুকোতে দিলে সেখানে লুকোচুরি খেলা। নদীতে মাছ ধরা। বর্ষাকালে ভেলা তৈরি করে তাতে ছড়া। আরো কত কি।
এখন বাচ্ছাদের শৈশব চুরি করে আমরা গ্রন্থ কীটের দল এদেরকে নির্বোধই বানাচ্ছি।
কিন্তু শিশুদের এই যে শৈশব চুরি হচ্ছে বা তারা যে বঞ্চিত হচ্ছে তাদের এই সুন্দর সোনালী শৈশব থেকে তা নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই। সবার মাথায় শুধু তাকে আরো দুটি বই বাড়তি পড়ানো যায় কিনা তা নিয়েই আছে। ফলে ছাত্রদের মাটির গন্ধ নেয়ার পরিবর্তে স্কুলব্যাগের সাইজটাই শুধু বাড়ছে। এখন এসব বাচ্ছাদের দেখলে মুখ লুকোতে ইচ্ছে করে লজ্জায়।আমরা খুনি। খুন করেছি এসব বাচছার সোনালী শৈশব।
আমি বলছি না বাচছাদের পড়াশুনা ফাঁকি দতে আমি চাইছি পৃথিবীর মুক্ত বাতাসে তারাও প্রানভরে নিঃশ্বাস নিক। তারাও হাসুক নির্মলভাবে। শুধু রেজাল্টের পরদিনের হাসি নয়।
নানা বিষয়ে নানা সংগঠন থাকলেও শিশু অধিকার বা শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠন এখনো সিংগেল ডিজিটে বা আরো কম।
এসব বাচ্ছার প্রতিনিয়তই আমাদের দেয়া এই যন্ত্রনার হাত থেকে মুক্তি পেতে চায়।তারা তাদের শৈশব ফিরে পেতে চায়।
আসুন শিশুদের সোনালী ভবিষ্যত গঠনের নিমিত্তে হলেও তাদেরকে কিছু সময় নিজের মত করে হাসার বা গাওয়ার সুযোগ করে দিই।
নইলে এদের শৈশব হত্যাের দায় থেকে কখনো মুক্তি পাবোনা। বাবা মার কাছে এটুকুই অনুরোধ আপনার সন্তানকে ফার্মের মুরগী বা গিনিপিগ বা প্রেসার কুকার বানাবেন না। শৈশব ও আপনার বাচছার একটি মৌলিক অধিকার।

Hits: 6

Comments
Loading...