Hits: 0

আমরা যখন মাথার বোঝা!

0

বিষয়টা ধর্মীয় আলোকে নয়, বিদ্যমান সমাজের বাস্তবতার আলোকে বলা। যেখানে আমাদেরই বোনেরা হচ্ছে কখনো বাবার কাছে বোঝা (!), কখনোবা স্বামীর কাছে বোঝাস্বরূপ। তাদেরকে বারবার বোঝা হিসাবেই উল্লেখ করা হয়। স্বামী তো আছেনই সেই সাথে পরিস্থিতি কেমন হয়- যখন নিকটয়াত্মীয় তথা স্বয়ং বাবা মেয়েকে তার সামনে বোঝা বলে? জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি এমন কটুক্তি হজম করতে হয় যেটা কখনো তাদের মানসিকভাবে ভেঙ্গে দেয় কখনোবা তাদের মনোবলকে আক্রমণাত্মক করে তোলে।

 

আমাদের সমাজে মেয়ে জন্ম নিলেই আত্মীয়স্বজন এসে বাবার কাছে বলতে থাকে-“ হুম,,, নাও, মেয়ের বাপ হইসো তো… এখন থেইকাই টাকা জমান শুরু করো”! এদিকে ভারতের মতো কন্যা ভ্রুণ দেখলে হত্যা করা না হলেও মেয়ে সন্তান জন্ম নিলে অনেক পরিবারের এমনকি মা-বাবার পর্যন্ত মুখ বেজার হয়ে যায়।

 

আর রইলো কন্যার বিয়ের কথা। বিয়ে দিতে গেলেই বাবাকে ৩-৪ লাখ টাকা ক্যাশ রাখা লাগে। জামাইয়ের কাপড় কেনার টাকা, যৌতুকের টাকা (অনেকে মুখ দিয়ে না বললেও শেষে বলে- ‘ওসব দেয়ার কথা কি বলা লাগে’? শুধু তাই না, যৌতুক না দিলে পরে শাশুড়ি কথা শোনায় বউকে)। এদিকে বিয়ের বিশাল আয়োজন, জামাইয়ের আলাদা খাবার- ইত্যাদি রীতি-নীতি যা করতে গিয়ে বাবাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পরোক্ষভাবে মেয়ে হয়ে যাচ্ছে বাবার বোঝা।

এদিকে অবিবাহিত ছেলেদেরকে বউ পালা মানে হাতি পালার সমান কিংবা এ জাতীয় নেতিবাচক চিন্তা তাদের ব্রেনে ঢুকিয়ে দেয়ার কারণে পরবর্তিতে বউ ১০০টাকা চাইলেও করতে হয় ম্যালা জবাবদিহিতা। আমি এখানে অপচয়কারিনী, অবিবেচক মেয়ে/স্ত্রীর কথা বলছি না, বরং তাদের উদ্দেশ্যে লিখে যাই- যারা সহনশীল ও উত্তম নৈতিকতার অধিকারিণী। যাদেরকে এই সমাজ মূল্যায়ন করে না।

যাই হোক, উপরে সমাজের কিছু বাস্তবিক পরিস্থিতি তুলে ধরলেও জানেন, ইসলাম মেয়েদের ব্যাপারে কি বলে? মেয়ে জন্ম নিলে বাবা’র জন্য তা জান্নাতের সুসংবাদ বয়ে আনে। বিয়ের পরে সে স্বামীর অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করে, নেক কাজে তার আনুগত্য করে আর যখন সে মা’ হয়, তখন তার পদতলে সন্তানের বেহেশত নির্ধারিত হয়। কিন্তু আমাদের সমাজ যেভাবে চিন্তা করে না আর না পরিবার তাদের নিজের সন্তানদের সেভাবে চিন্তা করতে শেখায়…ফলে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানসিকতায় কোনো পরিবর্তন লক্ষ্যনীয় নয়।

Hits: 0

Comments
Loading...