আমার চোখের হিসাব দেবে কে?

0 ৪১

কুরআন পড়তে গিয়ে নারী-পুরুষদের মধ্যে বেশ চমৎকার সমতা লক্ষ্য করি। সূরা নূর এর ৩০ নং আয়াতে পুরুষদের জন্য যেখানে দৃষ্টি সংযতের কথা বলা হয়েছে, ঠিক তার পরের আয়াত তথা ৩১ নং এ নারীদের উদ্দেশ্য করেও দৃষ্টি সংযতের নির্দেশ এসেছে। অর্থাৎ বিপরীত লিঙ্গের প্রতি নজর পরলে শুধু যে ছেলেরাই চোখ নিচু করবে, তা না। মেয়েদেরকেও তেমনই করা উচিত। যদিও আমাদের সমাজে পর্দা জিনিসটা দিয়ে শুধুমাত্র উপরি পোশাককেই বোঝানো হয়। আর এই একতরফা বোঝানোর কারণে না ছেলেরা চোখের পর্দা করছে আর মেয়েরা তো বোধ হয় চোখের পর্দা বলতেও যে একটা জিনিস আছে- সেটা ভুলে শুধু উপরি পোশাক নিয়ে টানাটানি করছে।

লক্ষ্য করে দেখবেন, ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা টিভিতে বিভিন্ন সিরিয়াল দেখে বেশি আর ছেলেরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে হোষ্টেলে থাকতে মুভি দেখে বেশি। এই দেখেদেখির মধ্যে ছেলেরা যেমন মডেল, আইটেম গার্ল কিংবা নায়িকা – ইত্যাদি চরিত্রের নারীদের দিকে তাকিয়ে থাকছে, তেমনি নারীরাও টিভিতে কোন ছেলেটা বেশি সুন্দর, হ্যান্ডসাম, কার মাশল কেমন- ইত্যাদি দেদারসে পলকহীন চোখে দেখে যাচ্চে আর ভাবছে। পরিণতিতে ছেলে-মেয়েরা উভয়ই রাস্তায় চলতে মেয়ে/ছেলের মধ্যে সেই জিনিসটা আবিষ্কারের দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। সুতরাং, লক্ষ্যনীয়, ছেলে-মেয়ে উভয়ই চোখের পর্দার ব্যাপারে উদাসীন। পাপের রাজ্যে উভয়ই সমান…

এদিকে আমরা মেয়েরা সবসময়ই ‘ছেলেদের দৃষ্টি অবনত নয় কেনো’- এসব বলে জোরালো যুক্তি দেখাই (হ্যা, অনেক ছেলেরাই এ ব্যাপারে বেখেয়ালি), তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখি- অনেক মেয়েদের নিজেদেরই চোখের পর্দার ঠিক নাই। বরং ছেলেদের নিয়ে অহেতুক গবেষণা করে। সুতরাং, কথা একটাই মেয়েরা চোখের পর্দা মানছে কি? আমরা চোখের হিসাব রাখছি কি? নিজের হিসাবটা কিন্তু নিজেকেই দিতে হবে!

বিঃদ্রঃ এখানে মেয়েদের উপরের হিজাব করাকে অবজ্ঞা করা হয় নি, তবে লেখাটার উদ্দেশ্য ছেলে-মেয়ে উভয়ই যাতে নিজেদের চোখের পর্দার প্রতি গুরুত্ব দেয়, চোখের হিসাব নেয়…

Hits: 1

Comments
Loading...