Hits: 1

ক্লাসের শিক্ষার্থিরা এবার কি শিখবে?

0

ঘটনাটি আমার ভাইয়ের স্কুলের। একদিন প্রধান শিক্ষিকা ক্লাসে ঢুকে সব শিক্ষার্থিদের বললেন- “দেখো! ক্লাসের কোন কোন টিচারের কি পড়ানো বাকি বা তারা সিলেবাসের কতোটূকু শেষ করেছে সেটার লিস্ট আমাকে দেবে”। প্রধান শিক্ষিকার ক্লাসে ক্লাসে গিয়ে অভিযানের উদ্দেশ্য ছিলো স্কুলের শিক্ষক- শিক্ষিকারা শিক্ষার্থিদের পরীক্ষার আগে সিলেবাস শেষ করেন কিনা, বা যতটুকু এখন পর্যন্ত শেষ হওয়ার কথা, ততটুকু শেষ হয়েছে কিনা-তা যাচাই করা। সে যাই হোক- প্রধান শিক্ষিকার নির্দেশ মতে, ক্লাসের ক্যাপ্টেনরা কোন টিচার কতটুক শেষ করেছে, কার কতটুক বাকি একটা লিস্ট করে হেড ম্যাডামের কাছে জমা দেয়।
এমনসময়, একদিন এক ম্যাডাম এসে শিক্ষার্থিদের বললেন- “তোমরা আমার ব্যাপারে এতো লিস্ট দিলা ক্যান, যেমন লিস্ট দিসো, এইবার তোমাদের বুঝাবো”। এই বলে শিক্ষার্থিদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নেয়া শুরু করলেন। একদিনে এতো পরিমাণ বাড়িরকাজ দিলেন যে- ‘ছাইড়া দে মা, কাইন্দা বাঁচি’ অবস্থা! বাড়িরকাজগুলো সৃজন করা তো দূর, শিক্ষার্থি নোট বই দেখে দেখে লেখা শুরু করে। এদিকে অনেকেই ক্লাসের ক্যাপ্টেনকে উল্টো দোষ দেয়া শুরু করলো- “তোমাকে কে বলেছে, সত্য লিখতে, কম করে লিখে দিয়ে দিতা”!
আসলেই তো আজকাল সততার যুগ নাই! যেখানে ক্যাপ্টেন হেড ম্যাডামকে সত্য তথ্য দিয়েছে, সেখানে ক্লাসের সবাই তাকে দোষারোপ করছো। যাই হোক- শিক্ষার্থিরা না হয় ছোট মানুষ, তা ম্যাডাম কি করলেন? তিনি নিজের অপারগতা প্রকাশ করা তো দূর, সচেতন হওয়া তো দূর (নিজের অপারগতা বা অক্ষমতা প্রকাশ করলে কেউ ছোট হয়ে যায় না, ফাঁকিবাজি করলেই মানুষ ছোট হয়) উল্টো তার বিরুদ্ধে কেনো এতো লিস্ট দেয়া হলো, কেনো সত্য কথা বলা হলো- এই জন্য ঝাড়ি দিলেন, অন্যায় প্রতিশোধ নিলেন!
আফসোস! এ যদি হয় টিচারের অবস্থা তাহলে পরবর্তীতে শিক্ষার্থিরা এটাই শিখবে যে- “ সত্য কথা প্রকাশ করবো না, করলে উল্টো ঝামেলায় আমাদেরকেই পরতে হবে”। মিথ্যার জয় হোক!!!

Hits: 1

Comments
Loading...