Hits: 4

মোকাবেলাঃ ইসলাম, পুরুষতান্ত্রিকতা ও নারী প্রশ্ন

0

বাংলাদেশে সম্প্রতি নারি প্রশ্নে যেসব তর্ক আমাদের সামনে এসেছে তা পর্যালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নববর্ষের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নারীদের উপর জুলুম আর আজমির শরিফ জিয়ারতে যাওয়া বাংলাদেশী নারী নার্গিসকে গণধর্ষণ পরবর্তী হত্যা ও অঙ্গচ্ছেদন এবং একই সাথে এই বিষয়ে রাষ্ট্রের সামগ্রিক নীরবতা মানুষ হিসেবে আমাদের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

নারীদের উপর জুলুম প্রশ্নে আমরা দেখেছি, জুলুমের বিচার এবং প্রতিকারের চাইতেও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বিভক্তির উপর ভর করে পরস্পরকে দোষারোপের ইস্যুটি বড় হয়ে  দেখা দিয়েছে। নববর্ষে যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘মজা লস’ নামক ফেইসবুকের একটা স্যাটায়ার পেইজ থেকে কতক ছাত্রনেতার ছবি প্রকাশ হওয়ায় নানা ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় পেইজটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফেইসবুক ব্যবহারকারি বিশাল অংশ এই ঘটনার সাথে আবার নারীর পোশাকের বিষয়টি তুলে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করেছে। উইমেন চ্যাপ্টার নামক ওয়েবে কতক নারীবাদি আবার এই পোশাকের বয়ানের পাল্টা বয়ান হিশেবে উল্লেখ করেছেন, নারী পোশাক পরিধান করুক আর যেখানেই পরিধান করুক সেখানে না তাকিয়ে পুরুষের গুপ্তস্থান হেফাজত করা উচিত। তবে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়টি ঘটেছে রাষ্ট্রের বক্তব্যে। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান জনাব মিজানুর রহমানের বক্তব্য ছিল এই কাজ ‘ধর্মীয় মৌলবাদীদের’। একাত্তর টিভিতে পাঞ্জাবি পরিহিত এক ছেলেকে কেন্দ্র করে নিপীড়নের দৃশ্য হাজির করে ইসলাম ধর্মালম্বীদের দিকে আঙ্গুল তুলে এই কাজ মৌলবাদীদের কাজ হিসেবে দেখানো হয়েছে। অবশ্য  নির্যাতনকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা না করে একটা শ্রেণিকে টার্গেট করে একাত্তর টিভির করা রিপোর্টকে রেসিস্ট হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ফেসবুকের এক বন্ধু জোবায়ের আল মাহমুদ। এই জিনিসটাও আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ যে, একাত্তর টিভি কেন এমন ভাবে ইসলামের সাইন আর সিম্বলকে টার্গেট করে রিপোর্ট করল? তার মানে অবশ্যই সমাজে এমন একটা শ্রেণী আছে যারা এ ধরণের রিপোর্ট দেখতে পছন্দ করে, ইসলাম আর নারী প্রশ্নে এ ধরণের রিপোর্টে তারা আগ্রহী।

 

যাই হোক, এই যে নারী নির্যাতনের বয়ান, তাতে আমরা দেখলাম ধর্ম আর পোশাকেই তর্কটা আটকে গেল। নির্যাতন আর নির্যাতকের বিষয়টাকে প্রশ্নই করা হচ্ছেনা। অথচ মূল বিষয়টা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার। এই পুরুষতান্ত্রিকতার জন্য আবার দোষারোপ করা হচ্ছে ইসলাম ধর্মকে। অথচ আমাদের এটা বুঝা দরকার যে পুরুষতান্ত্রিকতা ইসলাম ধর্মের সমস্যা না, এই সমস্যাটা একটা ঐতিহাসিক সমস্যা (historical problem). নারীর উপর যৌন নিপীড়ন, আধিপত্য আর পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার সাথে ইসলাম ধর্মকে মিলিয়ে ফেলাটা নারিবাদের বলা চলে এক্ষেত্রে একটা ভুলপ্রয়োগ।

আমার এক বন্ধু প্রশ্ন তুলল, তাহলে ইসলামধর্মের যেসব লোকেদের দিকে আঙ্গুল তুলে এই প্রশ্ন তোলা হল তারা এর প্রতিবাদ কেন করলেননা। আমি বললাম করেছে, কিন্তু আপনার চোখে পড়েনি। তাকে আমি ব্যাখ্যা করলাম, আমি শ্যামলি সমবায় মার্কেটের পাশে যে মসজিদে নামাজ পড়েছি সেই মসজিদের ইমাম ১৭এপ্রিল খুতবায় বিষয়টা নিয়ে সূরা আহযাব থেকে উদ্ধৃতি করে আলোচনা করেছেন- ‘হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রী, মেয়ে ও সাধারণ মুমেন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়, এতে তাদের চেনাটা অনেক সহজ হবে এবং তাদের উত্যক্ত করা হবেনা। আর আল্লাহ তা’লা হলেন ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। মুনাফেক দল, তাদের সাথে যাদের অন্তরে রোগ রয়েছে আর যারা মদিনায় গুজব রটনা করে বেড়ায় তারা যদি নোংরা কার্যকলাপ থেকে বিরত না হয়, তাহলে আমি অবশ্যই তোমাকে তাদের উপর প্রবল করে বসিয়ে দিব, অতঃপর এরা তোমার প্রতিবেশি হিসেবে সামান্য দিন-ই থাকতে পারবে ’ (সূরা আহযাবঃ আয়াত ৫৯-৬০)। ইমাম সাহেব এই আয়াতদ্বয়ে নারীদের উত্যক্তকারীদের মানসিক রোগী হিসেবে অভিহিত করে এর লগে লড়াইয়ের বয়ান হাজির করেছিলেন। রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে ইসলামের প্রতিনিধিত্বকারী মৌলিক এই অংশ ইমামদের ব্যাখ্যা আসলে কোন সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রচার করা হয়নি। এসব মানুষের সাক্ষাৎকার নিলে বিষয়টা আরো পষ্ট হয়ে উঠত।

এর বাইরে আমরা হেফাজতে ইসলাম নামক সংগঠন থেকে একটা বিবৃতি পাই ঠিক এরকম যে,  “এরা সুযোগ পেলেই নারীসহ সমাজের সব দুর্বল, বিনম্র ও নির্বাক অংশের ওপর হামলা চালায়, সুযোগ পেলেই হরহামেশা তাদের বেইজ্জতি করে। রাসূল সা:-এর সুন্নাহ অনুসরণে যারা দাড়ি রাখেন এবং টুপি পরেন তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ায়। এরা শুধু যে পয়লা বৈশাখের ‘বর্ষবরণ’ অনুষ্ঠানেই নারী নিযার্তন করে তাই নয়; বইমেলা, শহীদ মিনার, লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীতসহ অনুরূপ সব গণসমাবেশেই তারা উপস্থিত নারীদের একটি অংশের ওপর যৌন নির্যাতন করে”(নয়া দিগন্ত, ২৫ এপ্রিল )। বন্ধুর সাথে আলাপে উঠে আসল, আসলে এরা বক্তব্য দিলেও এসব উঠে আসেনা, শোনা যায় না। এমনকি দেশের কোন মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় এদের খবর ছাপা হয়নি এরা নিম্নবর্গ বলে।

নিম্নবর্গ বিষয়টাও প্রাসঙ্গিক এক্ষেত্রে। আমরা জানি যে,  নিম্নবর্গের ইতিহাস নিয়ে একটা চর্চা কলকাতায় হয়েছে। তারা এটার নাম দিয়েছেন ‘সাব-অলটার্ন’; অর্থাৎ যারা নিজেদের কথা কাউকে শুনাতে পারেন না। তারা কথা বলতে পারেন না, তা না। তারা কথা বলতে পারেন। কিন্তু তারা কথা বলতে পারেন না সেখানে, যেখানে কথা বললে অন্যে শোনে। এটাকে বলে ‘পাবলিক স্পেয়ার’। যখন আপনি আপনার স্বর নিয়ে উপস্থিতি জানান দিতে পারেন না এবং আপনার কথা কেউ শোনে না, আপনি সমাজে উপস্থিত থেকেও অনুপস্থিত আপনি তখন ‘সাবঅলটার্ন’ হয়ে যান। ‘সাবঅলটার্ন’ মানে হল আপনি পলিটিকাল স্ফেয়ারের মধ্যে হাজির নাই, আপনার কন্ঠস্বর ধর্তব্য নয়,  আমল অযোগ্য । গায়ত্রী স্পিভাকের একটা লেখার কথা আমরা অনেকেই জানি, ‘ক্যান দ্যা সাবঅলটার্ন স্পিক?’ মানে নিম্নবর্গ কি কথা বলতে পারেন? এখানে ফিজিক্যালি কথা বলতে পারেন কিনা এমন প্রশ্ন না। রাজনৈতিক পরিসরে আপনার কথা আপনি  বলতে ও শোনাতে পারেন কিনা,সেটাই প্রশ্ন।

এরপরও তর্ক রয়ে যায় হেফাজতে ইসলামপন্থীরা নিম্নবর্গ কিনা। অনেকেই অবশ্য তাঁদের নিম্নবর্গ  হিশেবে মানতে নারাজ। তাদের যুক্তি সোজা, সাব অল্টার্ন বলে একালে আমরা যা পাঠ করি তা আসলে মার্ক্সের ভুল পাঠ, যেটা প্রথম ইকোনোমিক টেইল আকারে হাজির করেছেন গ্রামসি। জগত কখনো সাব অল্টার্নরা পরিবর্তন করে না, তারা সর্বোচ্চ একটা  এপ্লিক্যাবল ফোর্স হতে পারে। জগত চ্যাঞ্জ করে আসলে ইন্টেল্যাকচুয়ালরা। সাব অল্টার্ন বলে আমরা যাদের জানি, তারা এই ইন্টেল্যাকচুয়াল ফোর্সদের বয়ানকে ধরতে সবচেয়ে অগ্রগামী। সমাজের যেকোন বয়ান তারা সহজেই আঁচ করতে পারেন নিপীড়ন আর বৈষম্যের নিম্নস্তরে থাকতে পারেন বলে। সেক্ষেত্রে হেফাজতের বয়ানকে আসলে সাব অল্টার্ন আকারে পাঠ ভুল হবে, কেননা তারা ইন্টেলেকচুয়াল ফোর্স আকারেই ঢাকার মত শহরে বিপ্লবের বয়ান হাজির করেছে। তাদের খবর পত্রিকায় আসেনা বলে তারা সাব অল্টার্ন হবেন না। এ প্রসঙ্গে তাই হেফাজতের উত্থান এবং বয়ান আমাদের নতুন করে সাব অল্টার্ন পাঠে ক্রিটিকের জায়গা তৈরি করেছে।

আমি এই বিষয়ের আলাপে যেমন আগ্রহি, ঠিক তেমনি আগ্রহি পুরুষতান্ত্রিকতার ব্যাখ্যায় ধর্মের বয়ান নিয়ে। আমাদের অবশ্য এই দিকটাও খেয়াল রাখা জরুরি যে, নারী প্রশ্নে কথা বলা আর নারীবাদী হওয়া এক জিনিস না। ফলে নারীবাদ যে জায়গায় পুরুষতান্ত্রিকতার ব্যাখ্যায় ইসলামকে সরাসরি প্রশ্ন তোলে সেই জায়গায় নারী প্রশ্নে আগ্রহী হিশেবে আমার বক্তব্য আগেই পরিষ্কার করে বলেছি যে, পুরুষতান্ত্রিকতা আসলে ইসলামের সমস্যা না। ইসলাম আসার আগেও পুরুষতান্ত্রিকতা ছিল, এমনকি বর্তমান দুনিয়ায় যেখানে মুসলমান নেই সেখানেও পুরুষতান্ত্রিকতা আছে। নারী নির্যাতন আর পুরুষতান্ত্রিকতা দেশ-কাল-জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে একটা ঐতিহাসিক সমস্যা।

কেননা পুরুষতন্ত্র নানান স্তরে নানান কায়দায় কাজ করে। যারা বায়োলজিকাল পুরুষ বা তাদের ‘শাসন’কেই একমাত্র সমস্যা গণ্য করেন, তাঁরা নারীর প্রশ্নকে মূলত বায়োলজিকাল বা শারিরীক প্রশ্নে পর্যবসিত করেন। নারীর প্রশ্ন নানান রেজিস্টারে মীমাংসা জরুরী। ধর্ম, সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি সকল স্তরেই এমনকি টেস্টোস্টেরন ও প্রজেন্সটেরনের নির্গমনের বিচারও দরকার। অর্থাৎ জটিল প্রশ্ন সরলীকরণ না করাই প্রাথমিক কাজ।

কবি শাহাদাত তৈয়ব আলাপ তুলেছে, এ কালে নারীর প্রশ্ন খুবই সংবেদনশীল, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের ঘুঁটি হিসাবে ‘নারী’র ব্যবহার এবং পাশ্চাত্য সভ্যতাকে সার্বজনীন সভ্যতা হিসাবে মেনে নেওয়া এবং নারী প্রশ্ন মীমাংসার একমাত্র মানদণ্ড  হিসাবে খাড়া করবার বর্ণবাদী তাগিদে দরকারী বিতর্ক ধোঁয়াশা হয়ে রয়েছে। সেই দিক থকে আসমা বারলাসের ‘ইসলামে মো’মিনা: কোরান শরিফের পুরুষতান্ত্রিক ব্যাখ্যা  পরিহার’ ( “Believing Women” in Islam: Unreading Patriarchal Interpretation of the Qur’an” ) খুবই দরকারী একটি কাজ। বারলাসের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে একমত হবার দরকার নাই, কিন্তু ইসলাম মেনে ও কোরানে নিষ্ঠ থেকে কিভাবে সমাজে জারি থাকা কোরানের বিভিন্ন আয়াতের  পুরুষতান্ত্রিক ব্যাখ্যা একজন মোমেনা নারী মোকাবিলা করতে সক্ষম আসমা সেই জায়গাগুলো ধরিয়ে দেবার চেষ্টা করেছেন। তাঁকে বোঝার জন্য তাঁর বই পাঠের বিকল্প নাই। ইসলামের ধর্মীয় ও নৈতিক পরিমণ্ডলে থেকে নারীরা কিভাবে নারী প্রশ্নের মোকাবিলা করেন তার একটি উদাহরণ আমরা এখানে পেতে পারি।

আশ্চর্য একটা বিষয় হচ্ছে, উপনিবেশ এবং উপনিবেশ উত্তর (colonial and post-colonial) পৃথিবীতে গত কয়েক দশক ধরে ইসলাম ও নারী প্রশ্নে মুসলিম স্কলার এবং উলামাদের মধ্যে যারাই এই বিষয়ে আলাপ তুলেছেন তাদের অধিকাংশের লেখায় এক ধরণের ‘এপোলোজেটিক সেন্স’ সুস্পষ্ট। তাদের এপিস্টেমের একটা ধারণাই এমন যে, আধুনিকতা-ই ইতিহাসের শেষ। আধুনিক রাষ্ট্রকে চূড়ান্ত ধরে নারী প্রশ্নে এসব এপোলোজেটিক বয়ানকে এখন অনেক দিক থেকেই প্রশ্নের সম্মুখীন করা হচ্ছে।

এছাড়া ইসলাম ও নারী প্রশ্নে একালে স্মরণ রাখা জরুরি যে, নয় এগারোর ঘটনার পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ’ শুরু করে। এ যুদ্ধ কোন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে  নয়, ফলে একটি রাষ্ট্রের পরাজয় স্বীকারের মধ্য দিয়ে তা শেষ হবার কোন সুযোগ নাই। এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে জুনিয়র বুশ ‘ক্রুসেড’  ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং ধর্ম হিসাবে ইসলাম এবং বিশেষ ভাবে মুসলমানরাই তাঁর শত্রু।  সারা দুনিয়ার মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাবার এই বয়ান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরে পিছিয়ে আসে। পেছানোর জন্য তারা মুসলমানদের দুই ভাগে ভাগ করে। একদিকে আছে জঙ্গী মুসলমান – যারা সাম্রাজ্যবাদ বিশেষত  মার্কিন আগ্রাসন ও নীতিনৈতিকতা বর্জিত যুদ্ধের বিরুদ্ধে  লড়ছে ও লড়বে। আর আছে ভদ্রলোক মুসলমানদের যারা মার্কিনীদের ভাষায় ‘মডারেট’।  এরা পাশ্চাত্য সভ্যতাকে মেনে নেয় এবং দাবি করে এই সভ্যতা, তার মানদণ্ড ও বয়ান মেনে নিয়ে মুসলমানদের চলতে হবে।

পেন্টাগন ও টুইন টাওয়ারের ওপর হামলার পরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠে ইসলামের মডারেট প্রকল্প। এরসঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ মডারেট নারীবাদী বয়ানও আছে। এই বয়ান আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতির অপরিহার্য অংশ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে সক্রিয় ভাবে উদার বা ভদ্রলোকী ইসলামি বয়ান বা ধারাকেও প্রস্তুত করতে কিংবা গড়ে তুলতে সাহায্য করতে হয়। আমেরিকার ভেতরে কিংবা বাইরে যেখানেই হোক। মার্কিন নীতির দিক থেকে সার্বিক অর্থে যে ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না। আমেরিকা এবং বিশ্বব্যাপী যে ইসলামি চিন্তা ও তৎপরতা মার্কিন নীতির অনুকূলে গড়ে উঠছে সেটা নানা কারণে বহু প্রশ্নের জন্ম দেয়।

যাইহোক, আলোচনা শুরু করেছিলাম নারী নির্যাতন প্রশ্নে পুরুষতান্ত্রিকতার বিষয়ে। এই বিষয়ে আমার শিক্ষক সব সময় বলতেন, আসল ব্যপারটা আপনি ‘উইমেন কনসার্ন (women concern)’ কিনা? একজন পুরুষ আসলে পরিবারে তার ১০-১৯ বছর সময়ে এই বিষয়টা নিয়ে সতর্ক হয়। একালে পরিবার বা তার আশ পাশের নানা জন থেকে যদি নারী প্রশ্নে তার ভিতর একটা কনসার্নের জায়গা তৈরি করে দেয়া যায় তবেই নারী প্রশ্নে সে নমনীয় হয়ে উঠবে।

শেষ করব এই বলে যে, ধর্মের পুরুষতান্ত্রিক নির্যাতনের বিষয় নতুন কোন গল্প নয় যে নারীদের তা বোঝাতে হবে। সেটা করতে গিয়ে নারীকে ধর্মের বিপরীতে দাঁড় করানোর বিপদও আমাদের ভেবে দেখতে হবে। বেগম রোকেয়া তা অনেক আগেই এইসব বুঝিয়ে গেছেন। কিন্তু মুশকিল হয় যখন এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে নারী মুক্তির নামে দাঁড়াতে গিয়ে আমরা পুরুষতান্ত্রিক  অবাধ বাজারব্যবস্থা ও নারীকে পণ্যে রূপান্তরের পক্ষে দাঁড়িয়ে যাই। আবার ধর্মীয় জায়গা থেকে তোলা  দাবিদাওয়া বলে এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া রাবারের মতো ক্রমাগত টানতে গিয়ে জেনে বা না জেনে  বাংলাদেশকে আরও ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে থাকি।

লিখেছেনঃ খন্দকার রাকিব

Hits: 4

Comments
Loading...