Hits: 1

ছেলেরা একটু এমনই হয়!!!

0

women and men

ছেলেরা একটু এমনই হয় ! এই একটি মাত্র বাক্য আমাদের সমাজে ছেলেদের সঠিক অবস্থানকে ভারসাম্যহীন করে তুলছে । অধিকাংশ পরিবার থেকেই যেন ছেলেরা ছাড় এবং শিক্ষা পেয়ে বড় হয়ে উঠে যে ছেলেরা একটু অ্যাকটু দুষ্টামি, অসভ্যতা করেই থাকে; তাতে তেমন কোন ক্ষতি নেই ।
আমাদের দেশে অধিকাংশ পরিবারে দেখা যায় যে একই পরিবারে যখন ছেলে-মেয়ে ভাই-বোন হিসাবে পাশাপাশি বড় হয়ে উঠে তখন দেখা যায় যে একই ভুল বা একই দুষ্টামি যদি ছেলে করে তাহলে শুধুমাত্র ছেলে হবার কারণে সহজেই ছাড় পেয়ে যায় । আর মেয়েটি!মেয়ে হওয়ায় ছাড় পায় না ; বরং তাকে শুধুমাত্র মেয়ে হবার কারণে অনেক বেশী গঞ্জনার শিকার হতে হয় । সে যতই ছোট হোক, যতই তার মানসিক ও শারীরিক বিকাশ কম হোক না কেন । তাকে ছোট বেলা থেকেই আঙ্গুল দেখিয়ে শেখানো হয় …মেয়ে মানুষের এতো চঞ্চলতা, এতো রাগ, এতো দুষ্টামি ঠিক না । মেয়ে মানুষ মানুষের ঘরে যাইতে হবে, তোমাকে অনেক কিছু ধৈর্য ধরে অনেক কিছু সহ্য করতে হবে । অনেক সময় অকারণে বকা ঝকাও করা হয় ছোট্ট মেয়েটিকে । সে বড় মানুষের মতো করে কোন কিছু করতে পারে নি বলা । এই যে মেয়েকে এতো কিছু শিখতে হবে, এতো কিছু করা যাবে না, যদিও এই ধমক, এটা করো না ওটা করো না এটা বাহ্যিক দৃষ্টিতে নারীর প্রতি এক ধরণের বৈষম্যের কারণেই হচ্ছে তারপরও আমি বলব নারীর জন্য ছোট বেলা থেকে নারী হওয়ায় এটা করা যাবে না ওটা করে যাবে না এই বাধ্য- বাধকতাই যেন একটা ছেলের থেকে একটা মেয়েকে সমাজের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত আজে বাজে কাজ থেকে বিরত রাখে । তাই তো গুন্ডা-ছিনতাইকারি, খুনি, নারী সমাজের মাঝে সেভাবে থাকে না তাদেরকে ছোট বেলা থেকেই ছোট খাট ভুল হলেই শেখানো হয় যে তোমার এটা করা ঠিক না ওটা করা ঠিক না; তাছাড়া নারীরা স্বভাবগত ভাবেও একটু নমনীয় স্বভাবের হয়ে থাকে যেটা সর্বজন সমর্থিত ।
গ্রামে দেখা যায় যে একটা সম্ভ্রান্ত বংশের ছেলে সবাই তকে ভাল বলেই জানে। তারপরও দেখা যায় এমন ভাল ছেলেও বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে কারও গাছের আম, কারও গাছের ডাব-নারিকেল চুরি করলো, কারও বাড়ির মুরগি ধরে জবাই করে পিকনিক করলো সবাই মিলে । পরে হয়তো বাবা-মা মুরুব্বিরা জানলো বিষয়টা; দুইটা ধমক দিল মন চাইলে বা নাও দিতে পারে । অনেক মুরব্বিতো আবার মন্তব্য করেই বসে । এই বয়সে তো আমরাও কতো চুরি করছি আম-জাম । এই বয়সে ছেলেরা একটু এমনই হয়, এই বাক্যের বদৌলতে তারা ছাড় পেয়ে যায় । একটা গরীব চোর ক্ষুদার জালা সহ্য করতে না পারায় মানুষের বাসায় চুরি করলে তার যে শাস্তি দেয়া হয় সেরকম কিন্তু কোন শাস্তি দেয়া হয় না বিনোদনের জন্য চুরি করা এসব উঠতি বয়সী ছেলেদের বরং এই বয়সে ছেলেরা একটু এমনই হয় এরকম বলে তাদেরকে এই বয়সের উন্মাদনায় এমনটা করা যায় এর অনুমোদন দিয়ে তাদেরকে আরও উস্কে দেয়া হয় ।
আবার রাস্তায় কোন ছেলে কোন মেয়েকে ইভটিজিং করলো বা কোন মেয়ের গায়ে হাত দিল সেটাও অবিভাবক জানলে সেভাবে পদক্ষেপ নেয় না । বরং উল্টো যে মেয়েকে ইভটিজিং করা হল তার উপর দ্বায় চলে যায় । নিশ্চয় মেয়েটার পোশাক খারাপ ছিল বা সে ছেলেটাকে সিডিউস করেছে, উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে আবার ছেলেটিকে ছেলে হওয়ায় ছাড় দেয়া হয় তার সমস্ত দোষের ভার মেয়েটির উপর দিয়ে ।
অবশ্য এটা ঠিক ইদানিং মেয়েদের উগ্র চলাফেরা ছেলেদেরকে অনেকটা উদ্বুদ্ধ করে মেয়েদের প্রতি আকৃষ্ট হতে; কিন্তু তাই বলে কি এই অসামাজিক কাজের জন্য ছেলেটার কোনই দ্বায় নেই? পরিবার ও সামজ থেকে এমন একটা শিক্ষা থাকতে হবে যেটা অন্যায় সেটা অন্যায়; ছেলে হোক আর মেয়ে হোক সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে সেটা অন্যায় । যে কোন ধরণের অন্যায় কাজে নিজেকে জড়িত না রাখার শিক্ষা ছেলে-মেয়ে উভয়কেই পরিবার থেকেই দিতে হবে ।

এবারের পহেলা বৈশাখের দিনে নারীর শ্লীলতা হানীর বিষয় নিয়ে যা ঘটেছে তাতে দেখা যায় দুই দিকে দুই পক্ষের অবস্থান তৈরি হয়ে গেছে । এক পক্ষ বলছে যে মেয়েদের শ্লীলতাহানী হয়েছে সে মেয়েরা খারাপ মেয়ে, তাই তাঁদের এই দশা হয়েছে । ভদ্র মেয়ে হলে এমনটা হতো না । তারা এমন অনুষ্ঠানে যাবে কেন?
অন্য দিকে আর এক পক্ষ এর সমস্ত দায়ভার চাপিয়ে দিচ্ছে ছেলেদের উপর- যে এমন কেন করবে তারা? নষ্ট ছেলের দল!! মেয়ে পাইলে তার উপর জানোয়ারের মতো হামলা দিতে হবে? এদের বিচার চাই, এদের বিচার করতে হবে । হা এমন অন্যায়ের অবশ্যই বিচার হওয়া চাই । কিন্তু তার আগে আমি বলতে চাই যে দুই পক্ষ ছেলে-মেয়ে উভয়কে দোষ দেয়ার আগে আমাদের পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থার দিকে ঘুরে আসতে হবে । যেখানে একটা ছেলে ছাড় পেয়েই বড় হয় যে ছেলেরা একটু এমনই হয় সে সমাজের একটা ছেলের থেকে আমরা এর চেয়ে আর ভাল কি আশা করতে পারি?
যেখানে মেয়েদের স্বাধীনতা দেয়ার নামে বেলাল্লাপনার ট্রেনিং দেয়া হয় । নারীরা বৈষম্যের শিকার হলেও দেখবেন একটা পরিবার মেয়েকে বই-কলম হাতে দিতে নারাজ থাকলেও তার হাতে লিপস্টিক, প্রসাধনীর সরঞ্জাম কিনে দিতে কিন্তু কার্পণ্য করে না । তাকে যেন দেহ সর্বস্ব মানুষ হিসাবে গড়ে তোলা হয় । নিজেকে কতো আকর্ষণীয় করে তোলা যায় সেটার জন্য অনুপ্রেরণা পেয়ে আসে পরিবারের সিনিয়রদের থেকে । পুরুষের সামনে আকর্ষণীয় হয়ে আসলে যে নারীর সমস্যা হতে পারে এটা অধিকাংশ পরিবারে মেয়েদেরকে সেভাবে শিক্ষা দেয়া হয় না ।
যে সমাজ ব্যবস্থায় “ছেলেরা একটু এমনই হয়” এই বক্তব্যের সুবাদে ছাড় পেয়ে পেয়ে কোনটা তাদের করা উচিৎ কোনটা উচিৎ না সেটা ভুলে গেছে; সেখানে একটা মেয়ে আকর্ষণীয় ও কিছুটা খলামেলাভাবে সে ধরণের ছেলের থেকে নিস্তার পাবে কিভাবে? যে ছোট বেলা থেকে ছোট খাট অন্যায় করার অনুমোদন পেয়ে পেয়েই বড় হচ্ছে ।
কাজেই আমি বলতে চাই পরিবার ও সমাজে এমন সুনিয়ন্ত্রিত প্র্যাকটিস চালু হওয়া উচিৎ যেখানে ছেলে হোক আর মেয়ে হোক কারও জন্য যেন অন্যায় করার কোন অনুমোদন না থাকে । প্রতিটি পরিবার থেকে ছেলে-মেয়ে উভয়কে নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে । ছেলেদেরকে শিক্ষা দিতে হবে মেয়েদের গায়ে হাত দেয়া কি তাদের দিকে বাজে দৃষ্টিতে তাকানো যাবে না । আবার অন্যদিকে মেয়েদেরকেও শিক্ষা দিতে হবে ছেলেদের সামনে খোলামেলাভাবে ঘোরা-ফেরা যাবে না । উভয় পক্ষকে কোন ধরণের নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা না দিয়ে তাদের উপর শুধু দোষ চাপিয়ে কোন লাভ হবে না । ছেলে-মেয়েকে উভয়কে সুষ্ঠু শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে এ সমাজ, এ পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলতে হবে আগামী প্রজন্মের জন্য ।

Hits: 1

Comments
Loading...