শৈশবে যদি এমন হয়, যৌবনে হবে কি?

0 ৪৪

unicef_abuse_29jun07
এক আত্মীয়ের গায়ে হলুদ। অনেক আনন্দ-ফূর্তির সাথে দু-তিন বাসে করে বরের বাসায় গেলাম। বলা হচ্ছে- একটু পরেই প্রোগ্রাম শুরু হবে। আমরা সবাই সারিবদ্ধ চেয়ারে বসে। এমন সময় উপস্থাপনা শুরু হলো। তবে, মেয়ে উপস্থাপিকার শাড়ি এতই পাতলা ছিলো যে- সবাই তার লাস্যময়ী কথা কি শুনবে, বরং দুষ্ট ছেলেরা হা করে তাকিয়ে আছে আর ভদ্র নারী-পুরুষের মাথা নিচু করে রাখার মতো অবস্থা। উল্লেখ্য, আয়োজনে ছেলে-মেয়ে আলাদা বসার সিস্টেম ছিলো না।

যাই হোক- এবার নাচের প্রোগ্রাম শুরু হলো। তবে একি! এ কি ধরণের অসভ্যতা! ভারতীয় একটা ডিসকো গানে, প্রায় ৭ কি ৮ বছরের একটা মেয়েকে অশ্লীল পোশাকে উপস্থাপন করা হলো। আর মেয়েটাকে যেমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো ঠিক গানের তালে তালে তেমন উত্তেজিত অঙ্গভঙ্গি করে যাচ্ছে। মূলত কচি শিশুর নাটাই ছিলো অন্য কারো হাতে আর সে অবুঝ মনে অভিনয় করে যাচ্ছে।
এমনই এক ঘটনা লক্ষ্য করি- ভাইয়ের বন্ধুর গায়ে হলুদে, যেখানে মেয়েপক্ষ এমন নাচের আয়োজন করেছিলো, আর ক্ল্যাব ড্যান্স করানো হয়েছিলো এক শিশু মেয়েকে দিয়ে, তেমনই উত্তেজিত ভঙ্গিমা ও পোশাকে।

সত্যি বলতে, আজকাল ডিজেদের (ডিসকো জকি) ডেকে বিয়ে কিংবা গায়ে হলুদে ছেলে-মেয়ে একত্রে নাচ-গান করা উচ্চবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত পর্যন্ত এক সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সাথে শুরু হয়েছে ছোটদেরকে দিয়ে বড়দের অভিনয় করানো। দেখা যাচ্ছে, ছোটমণিদের কচি মনে বড়রা অশ্লীলতার বীজ বপন করে আনন্দ পাচ্ছেন। যার ভয়াবহতা হয়ত তারাও বুঝতে অক্ষম।
আমরা জানি, ছোট শিশুরা নরম মাটির মতো। তাদেরকে যেভাবে গড়া হবে তারা সেভাবেই গড়ে উঠে। যা দেখে ও শেখে তাই করে। তা, শৈশবে যদি তাদেরকে অশ্লীল গান, নাচ ও পোশাকে অভ্যস্থ করা হয় তবে যৌবনে কি দাঁড়াবে? এসব খারাপ কর্ম যখন তাদের মস্তিষ্কে ছোট থেকেই ধীরে ধীরে ইনপুট হচ্ছে, তখন বড় হয়ে তেমন স্বভাবই আউটপুট হবে- এটাই স্বাভাবিক।

সুতরাং, যে বয়সে শিশুরা আবেগ, অনুভূতি, আগ্রহ, মোহ, ছেলে-মেয়েদের মধ্যাকার সম্পর্ক, ভালোবাসা- বুঝে না, সেই বয়সে তাদের ব্রেনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সেসব না ঢুকানোই উত্তম। কারণ দর্শক সারিতে বসে যে ব্যাপারগুলো “ও! কিছু নয়”! ভেবে আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি, সেটাই হয়তো আমাদের জন্য মাথা ব্যাথ্যার কারণ হতে পারে। যার নিয়ন্ত্রণ হয়ত আয়ত্তে থাকবে না…

Hits: 0

Comments
Loading...