Hits: 0

মা ও ছাত্রনেতা

0

সেদিন সিএনজিতে চড়ে যাচ্ছিলাম! পথিমধ্যে একটি ছেলে সি.এন.জি তে ওঠলো।
ওঠার পর থেকে ছেলেটির ফোনে একের পর এক ফোন আসতেই থাকলো!
হঠাৎ করেই তার একটি কথায় কান সচকিত হয়ে ওঠলো…ছেলেটি বলছে “স্যার কিভাবে ওকে আটকায় সেটি আমি দেখে নিবো..!পরীক্ষা দিতে দিবে না বললেই হলো..? আমি ভিসির সাথে কথা বলছি।”
এরপর কিছুক্ষণ বিরতি…
তারপর আবারো ফোনের ওপাশের মানুষকে বললো “একটা মেডিক্যাল সার্টিফিকেট বানায়ে নিয়ে আয়।বাকীটা আমি দেখছি..!”
বলেই ফোনটা রেখে দিলো…

ছেলেটির কথা-বার্তার ভাব দেখে বোঝা যাচ্ছিল ছেলেটি নিশ্চয়ই বিশাল ক্ষমতাধর কোন দলের ছাত্রনেতা। তা নাহলে ভিসির সাথে কথা বলার মতো পরিস্থিতি পেতো না…!
যাই হোক,কিছুক্ষণ পর আবারো ফোন…
ছেলেটি এবার তারস্বরে চিৎকার করছে আর বলছে
” কি বললি?
মেডিকাল সার্টিফিকেট দেখানোর পরও
পরীক্ষা দিতে দিবেনা বলছে?
ও….
গার্ডিয়ানের উপস্থিতি চায়…?
এখন,গার্ডিয়ান কই পামু…!
ঠিক আছে…
বিনোদপুরে যা…
ওইখান থেকে কোনো মহিলারে মা সাজায়ে নিয়ে আয়…
মা বানাইতে কতক্ষণ লাগে রে…?”

আমি হতভম্ব…
কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছিল…
মাথার ভেতর কেবল একটা কথাই ভনভন করে ঘুরছে “মা বানাইতে কতক্ষণ লাগে?”

হে ছাত্রনেতা,
আপনাকে/আপনাদেরকে বলছি,
একটা মা বানাতে হয়তো আপনার দশ মিনিটও লাগবে না…কিন্তু আপনাকে এ পৃথিবীতে আগমনে সহায়তা করতে আপনার মাকে দশমাস তীব্র ব্যথা সহ্য করে গর্ভে ধারণ করতে হয়েছে!
রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটাতে হয়েছে শুধুমাত্র আপনার মতো একটা সন্তানের জন্য..!

শুধু আপনি কেন?এ পৃথিবীর কোনো সন্তানের সাধ্য নেই মায়ের বিন্দুমাত্র প্রতিদান দিতে পারে…!
সুতরাং, মা নিয়ে খেলবেন না…!
আবারও বলছি,মা নিয়ে খেলবেন না..!
আমরা মায়ের জাতি বড় ধৈর্যশীলা!
তাবৎ কষ্ট সহ্য করতে পারি কিন্তু নকল মা বানিয়ে আসল মায়ের সাথে প্রতারণা করা…!
ওটুকু এই দূর্বল ‘ মা ‘ হৃদয়ে সইবে না বলে দিলাম..!
ওটুকু সহ্য করার শক্তি আমাদের সত্যিই নেই…!

একটা অনৈতিক কাজ করতে গিয়ে যারা মাকে নিয়ে খেলতে পারে তারা আর যাই হোক “মানুষ” হতে পারেনা…!

Hits: 0

Comments
Loading...