মওকা!!! (কপি-পেস্ট)

0 ৪১

কিশোর রনির ধনী প্রতিবেশী মধ্য বয়স্ক রানা সাহেব। রানা সাহেবের কাছে রনি প্রায়ই বিভিন্ন কাজে যায়। বিশেষ করে যায় পানির জন্য। রনিরা স্বল্প আয়ের মানুষ হওয়ায় তাদের পানির পাম্পের ক্যাপাসিটি কম। মাঝে মাঝে তা নষ্ট হয়ে পড়ে। তাই পানির জন্য প্রতিবেশি রানা সাহেবের বাড়ী যেতে হয়। রানা সাহেবের শক্তিশালী পাম্প, উনি কখনো এই পাম্প বন্ধ করেন না। যখন পানি বেশি হয়ে যায় তখন অতিরিক্ত পানি রনিদের বাড়ীর সীমানায় প্রবেশ করে বাগান নষ্ট করে ফেলে। কিন্তু প্রতিবাদ করবে কীভাবে? রনির বাবা হত দরিদ্র মানুষ। গরম কালে যখন পানির স্তর নিচে নেমে যায় তখন রানা সাহেবের কাছ থেকে পানি নেয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। রানা সাহেবের খারাপ খারাপ কথাবার্তা নিরবে হজম করে যায়। এছাড়া আরো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ঝামেলা রানা সাহেব করেই থাকেন যার প্রতিবাদ না করে তারা কষ্টে হজম করে। রানা সাহেবের চরিত্রে সমস্যা আছে। লোক মুখে শোনা যায় রনির মায়ের দিকে রানা সাহেবের নজর অনেক দিন থেকে ছিল।

একদিন পানি আনতে রনি রানা সাহেবের বাসায় গেল। রানা সাহেবের রনিকে বললেন “তুই এসেছিস কেন? তোর মাকে পাঠাতি। পানিও দিতাম আর টুক টাক কিছু কাজ ছিল, করলে কিছু নগদ টাকাও দিতাম।” রনি ছোট মানুষ হলেও সে বুঝতে পারে মায়ের সাথে তিনি ভাল আচরন করেন না।

টাকার কথা মনে করাতে রনি মনে পড়ে গেল “এর আগে আমি আপনাদের পানির টাংকি পরিষ্কার করে দিয়েছিলাম, সেই টাকা পাই নি।”

রানা সাহেব চোখ গরম করে বললেন “কী আমার কাছে টাকা চাস? এত্ত বড় সাহস? তোকে আমি পানি দেই। না হলে না খেয়ে মরতি। ছোট মুখে ত বড় কথা।” রানা সাহেবের মুখ দিয়ে মদের গন্ধ বেরোচ্ছে।

রনি বুঝল সে এই মুহুর্তে টাকার কথা বলে ভুল করেছে। পানি ছাড়াও “অন্য” এক স্পেশাল কারণে রনির এই বাড়ীতে আসার প্রয়োজন আছে। রানা সাহেবের খারাপ খারাপ কথা সে চোখ বুঝে শুনে যাবে। কিন্তু আজ রানা সাহেবের কী হল? উনি থামছেনই না। মনে হয় মদ বেশি গিলেছেন। তিনি রনিকে গালিগালাজ শুরু করলেন “হারামজাদার তুই জানস তোর জন্ম কে দিছে?” বলে নিজের বুকে আঙ্গুল দেখালেন “তোর জন্ম আমি দিয়েছি!”

রনি হতবাক মুখের দিকে তাকিয়ে রানা সাহেব বললেন “তোর বাপ মায়ের সম্পর্ক কখনোই ভাল ছিল না। তাই আমি “মওকা” পেয়ে তোর মায়ের সাথে রিলেশান করলাম। এর ফলাফল হিসেবে তোর জন্ম। এ জন্য তোর বাবা তোকে দেখতে পারে না।”

রনি কিছু বলল না, ও ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। সে জানে এসব কথা সব মিথ্যা। তার বাবা মাকে সে চিনে আবার রানা সাহেবকেও চিনে। রনির চোখ দিয়ে কয়েক ফোটা পানি পড়ল। সব নীরবে হজম করে গেল।

——–

রানা সাহেব মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন “কে তার এত বড় সর্বনাশ করল?” তিনি সমাজে মুখ দেখাবেন কী করে? এই মুখ দেখানোর চাইতে মরে যাওয়া ভাল। তিনি তার মেয়ে ফারিহাকে ডাকলেন।

ফারিহার চোখ ফোলা। বোঝা গেছে সেও কেঁদেছে। রানা সাহেব বললেন “যা হবার হয়ে গেছে মা। টেনশন করিস না। সব ঘটনা গোপন রাখিস। এই শহরের বাইরে অন্য শহরে গিয়ে তোর এবোরশন করিয়ে আনব। পরিচিত কেউ দেখবে না। তুই মুখ বন্ধ রাখবি। সাবধানে থাকবি, এ ধরনের ভুল জীবনে আর করবি না।” রানা সাহবে বড় কষ্ট নিয়ে এ কথাগুলো বলছেন।

—–

রনিকে রানা সাহেব ডেকেছেন।

“রনি, তুমি আমার এত বড় ক্ষতি কেন করলে? তোমাকে তো বিশ্বাস করতাম। আমি সারা জীবন তোমাদের উপকার করেছি। তোমাদের যখন প্রয়োজন তখনই পানি দিয়েছি। ফারিহাকে তোমার পছন্দ হলে আমাকে বলতে। আমি তোমাদের বিয়ের ব্যবস্থা করতাম। তোমরা কেন…………..

এরপরে কথা গুলো রানা সাহেব লজ্জায় বলতে পারলেন না। ফারিহা স্বীকার করেছে তার সাথে রনির রিলেশান আছে। রনি যেহেতু রানা সাহেবদের বাসায় অবাধে আসা যাওয়া করতে পারে তাই তাদের রিলেশানের বিষয়টা কেউ সন্দেহ করল না। সন্দেহ না করার প্রধান কারণ হল প্রতিবেশী হিসেবে রনিদের পরিবারকে তারা নিচু লেভেলের দেখে। মনে করে ঐ পরিবারের ছেলের সাথে ফারিহা জীবনেও রিলেশান করবে না। অথচ কীভাবে কী হয়ে গেল! যার ফলে ফারিহা আজ প্রেগন্যান্ট! আসলে কে যে কখন কী করতে পারে সেটা নিয়ে রানা সাহেব কখন মাথা ঘামায়নি। অবশ্য তিনিও তার মেয়েকে কন্ট্রোল করতে পারেন নি।

রনি রানা সাহেবের মুখে ‘বিয়ে’ শব্দটা শুনে মনে মনে হাসল। রানা সাহেবকে বিয়ের কথা বললে উনি গুলি করবেন । রনিদেরকে তিনি চাকর বাকর শ্রেনী মনে করে।

রানা সাহেব জিজ্ঞেস করলেন “তুমি কেন আমাকে বললে না? কেন আমাদের এত বড় ক্ষতি করলে?”

জবাবে রনি বলল “আংকেল আপনি একদিন আমাকে আমার জন্ম সম্মন্ধে বাজে কথা বলেছিলেন। আপনি নাকি আমার জন্মদাতা! তখন আমার মনে যে কষ্ট হয়েছিল তা আপনাকে বোঝাবার জন্য আমি এই কাজ করেছি। আমি প্রতিদিন মওকা খুঁজতাম কী করে আপনার মনে আগুন জ্বালানো যায়। একদিন মওকা পেয়ে গেলাম। বুঝলাম আপয়ান্র মেয়ে আমার প্রতি দুর্বল। তখন আমি তার সাথে ভাব জমাতে লাগলাম। আমাদের মধ্যে প্রেম টেম কিছুই নেই। আমি শুধু প্রেমের অভিনয় করেছি।”

রানা সাহেবের কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হচ্ছে। তার গলা শুকিয়ে গেল। মনে পড়েছে তিনি একদিন মদ খেয়ে রনিকে এসব কথা বলেছিলেন। কাঁপা কাঁপা গলায় তিনি বললেন “তোমার জন্মের আগে তোমার বাবা মায়ের সাথে আমার দেখাই হয় নি।”

Hits: 0

Comments
Loading...