আম্রপালিঃ বিকৃতির এক জঘন্য ইতিহাস

আমের নাম, আম্রপালি। আমাদের দেশে এখন এর প্রচুর চাষ হচ্ছে। ১৯৭৮ সালে ভারতের আম গবেষকরা দশহোরি ও নিলাম-এই দুটি আমের মধ্যে সংকরায়ণের মাধ্যমে আম্রপালি আমের জাত উদ্ভাবন করেন। এই জাতের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। উন্নত জাতের আম এক গাছে এক বছর ফলে পরের বছর ফলে না। কিন্তু আম্রপালি প্রতিবছর ফলে। এর মিষ্টতার পরিমাণ ল্যাংড়া বা হিমসাগরের চেয়ে বেশি। ভারতীয় আমের এ জাতটি বাংলাদেশে আসে ১৯৮৪ সালে।
প্রাচীন নগর বৈশালী-এ আম্রপালি নামের একজন নারী নৃত্যশিল্পী ছিলেন মূলত তার নামেই আমটির নামকরণ করা হয়। বৈশালী শহরটি এখন বিহার রাজ্য-এর অন্তর্গত এবং আম্রপালি খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ বছর আগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।মগধের রাজা বিম্বিসার এর পুত্র অজাতশত্রুর রাজকীয় দরবারে আম্রপালি নাচতেন, এবং তার নাচে মুগ্ধ হতেন মগধ রাজা। বৌদ্ধ ধর্মের পালি লিপিতেও আম্রপালির কথা উল্লেখ রয়েছে তবে আম্রপালির মূল বর্ণনা হিন্দু পুরাণেই পাওয়া যায়, আর বৌদ্ধ ধর্মে আম্রপালিকে ‘আম্বপালি’ নামেও ডাকা হত।
বৈশালী:
প্রাচীন ভারতের একটি শহর বৈশালী। এটি ছিল লিচ্ছবির রাজধানী। বর্তমান ভারতের বিহার রাজ্যে ছিল৷ এর অবস্থান “লিচ্ছবি” ছিল গণতান্ত্রিক। লোহার ব্যবহারকে কেন্দ্র করে এখানে একটি নগর গড়ে উঠে, যা বানিজ্য কেন্দ্র হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করে। এই জনপদের মধ্যে অন্যতম ছিল মগধ। খ্রিষ্টপূর্ব ৫৩৯ অব্দে বৈশালীর কুণ্ডলগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ২৪তম জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীর ও গৌতমবুদ্ধ; পরবর্তীকালে যাঁরা ভারতের জনসাধারণের মধ্যে শ্রমণ ধর্মদর্শন প্রচার করেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৩৮৩ অব্দে এখানেই গৌতমবুদ্ধ মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ উপদেশ দিয়েছিলেন। বৈশালীতে একটি সুসংরক্ষিত অশোকস্তম্ভ রয়েছে। গৌতমবুদ্ধ কয়েকবারই বৈশালী শহরে এসেছিলেন। তখন বৈশালী সমৃদ্ধ ও বর্ধিষ্ঞু শহর ছিল, তবে খরায় একবার বৈশালীতে খাদ্যাভাব দেখা দিলে বিম্বিসারের অনুরোধে গৌতমবুদ্ধ বৈশালীতে যান, তিনি যাওয়ামাত্র ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়। তিনি সুক্তপাঠের আয়োজন করলে নগরবাসীর দুঃখ কষ্ট দূর হয়। বৈশালিবাসী গৌতমবুদ্ধকে আপন করে নেয়। চীনা পর্যটক ফাহিয়েন (৪র্থ শতাব্দী) ও হিউয়েন সাং এর ভ্রমণবিবরণীতে বৈশালী শহরের কথা উল্লেখিত হয়েছে। বৈশালী নামটি এসেছে মহাভারতের রাজা বিশাল এর নাম থেকে। এর আরেক নাম বিশালা।
আম্রপালি এক হতভাগ্য নারী :
আম্রপালি এক অতীব সুন্দরী নারীর নাম। তার প্রকৃত বাবা-মায়ের পরিচয় পাওয়া যায়নি। মহামাহন নামে এক নিঃসন্তান ব্যক্তি তাকে আম গাছের নীচে খুঁজে পান। সংস্কৃতে আম্র মানে আম, পল্লব বা পালি হল আম গাছের নবীন পাতা। তাই তার নাম রাখেন আম্রপালি। বয়সের সাথে সাথে তার সৌন্দর্য্য আমের মুকুলের মতই বিকশিত হয়ে উঠতে লাগল যেন।
*কৈশোরে পা দিতে না দিতেই তার অপূর্ব দ্যূতিময় সৌন্দর্য্যের কথা ছড়িয়ে পড়ে আশে পাশের সকল এলাকায়। আম্রপালির মা বাবা পড়ে যান ব্যাপক সমস্যায়। এলাকায় কিশোরি আম্রপালিকে নিয়ে রীতিমতো বেঁধে যায় যুদ্ধ।
সময় তখন খ্রিষ্টের জন্মের ৫০০-৬০০ বছর পূর্বে। আম্রপালি তার পালিত বাবা মার সাথে বাস করে তৎকালীন ভারতবর্ষের বৈশালী রাজ্যে (বর্তমান বিহার রাজ্য)। আম্রপালির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এলাকার মহাজন, আশে পাশের শহরের বণিক ও বিভিন্ন জনপদের রাজা বিয়ে করতে জোড় জবরদস্তি শুরু করে। একেকজন পারলে উঠিয়ে নিয়ে যায় আম্রপালিকে। একেক পক্ষে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। এলাকার মানুষ আম্রপালিকে এক নজর দেখার জন্য উদগ্রীব। আম্রপালির বাবা মা চিন্তায় অস্থির। কি হবে আম্রপালির!
ক্রমে কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পা রাখে আম্রপালি তার সৌন্দর্য্যের দ্যূতি যেন বাড়তে থাকে আরো গতিতে। তার অপরুপ সৌন্দর্য্যের কথাও ছড়িয়ে পড়তে থাকে আরো দূর দূরান্তে। আম্রপালির রুপে-গুণের খ্যাতিতে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিবাহ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠে বহু রাজা ও রাজপুত্র, এবং ক্রমে তাঁরা পরস্পরের মধ্যে বৃহৎ কলহে প্রবৃত্ত হতে লাগলেন।
আম্রপালির পিতা পড়ে গেলেন মহাসমস্যায়। চারিদিকে সবাই হতে চায় আম্রপালির পাণিপ্রার্থী। তিনি যাকেই ফেরাতে চান সেই হয়ে উঠে তার শত্রু। তখন তিনি উপায়ান্তর না পেয়ে শহরের গণমান্য ব্যাক্তিদের পরামর্শের জন্য এক সভা বসান। সভায় আম্রপালির পিতা সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সবার কাছে আম্রপালির বিবাহের কথাটি উল্লেখ করে সমাধান প্রার্থনা করেন। সভাস্থ ব্যক্তিবর্গ আম্রপালিকে সভায় উপস্থিত করানোর জন্য আম্রপালির পিতাকে অনুরোধ জানালেন। পিতার আদেশে আম্রপালি সভায় উপস্থিত হয় এবং সাক্ষী হয় তৎকালীন সমাজরীতির এক অশ্লীল বেড়াজালে। এবং তাদের পক্ষে সমাজপতিদের সিদ্ধান্ত এবং তৎকালীন রীতি কে অমান্য করাও ছিল অচিন্তনীয়।
বৈশালীর তৎকালীন প্রচলিত রীতি অনুসারে সর্বাঙ্গ সুন্দরী রমণী বিবাহ করতে পারতেন না, তিনি হতেন গণভোগ্যা। আম্রপালির ভাগ্যেও জুটে সেই রীতিরই অভিশাপ। তাই আদেশ দেয়া হয় সর্বাঙ্গসুন্দরী রমণীরূপে স্বীকৃত আম্রপালিকেও প্রচলিত এই নিয়ম শৃঙ্খলে আবদ্ধা হতে হবে। সমাজপতিরা বিধান দেয় যে আম্রপালি কখনও কোন পুরুষ কে বিয়ে করতে পারবে না। এত রূপ ও যৌবন নিয়ে সে শুধু একজন পুরুষের ভোগ্য হতে পারে না।
সেদিনের সভায় সিদ্ধান্ত দেয়া হলো আম্রপালি হবে বৈশালীর নগরবধূ। নগরবধূ মানে হলো – নগরের বহু পুরুষের ভোগ্য। ইংরেজিতে Courtesan (a woman, usually with a high social position, who in the past had sexual relationships with rich or important men in exchange for money.)। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্ম গ্রন্থেও নগরবধূর উল্লেখ রয়েছে, সেখানে নগরবধূ কে জনপদকল্যাণী বলে উল্লেখ করা হয়েছে | তবে এই জনপদকল্যাণী বা নগরবধূ কোন সামান্য গণিকা বা পতিতা বা দেহপসারিণী নন | নগরবধূ বা জনপদকল্যানী হবেন অভিজাত আদবকায়দায় রপ্ত এক সুন্দরী, যে নৃত্যগীতে পারদর্শী | শুধুমাত্র সমাজের উচ্চবংশের পুরুষই পেতে পারবেন তাঁর সঙ্গসুখ | তিনি নিজেই নিজের সঙ্গী নির্বাচনের অধিকার রাখেন। কিন্তু রীতি অনুযায়ী কোন দিন বিয়ের অধিকার তাকে দেয়া হয় না। সে আমলে বৈশালীতেও আম্রপালিকে ভোগের আশায় এই রীতি অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। অনিন্দ্য সুন্দরী আম্রপালি কখনও পরিণয় সূত্রে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না। তাঁকে উৎসর্গ করা হয় সমাজের অভিজাত শ্রেনীর ভোগের দ্রব্য ও আনন্দের জন্য। সমাজপতিরা রায় দিলেন, ‘আম্রপালি কে নিয়ে কোন প্রকার লড়াইয়ের প্রয়োজন নেই, টাকার বিনিময়ে সে হবে সকলের। সমাজপতি বা রাষ্ট্রের নির্দেশে দেহ ব্যবসার বিরল ঘটনা পৃথিবীতে এই একটিই।
সমাজপতিদের এ জঘন্য সিদ্ধান্তে আম্রপালির পিতা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও বিচলিত হয়ে পড়লেন। কিন্ত প্রতিবাদ করার সাহস তার ছিল না। আম্রপালি তাঁর স্নেহময় পিতার অসহায় অবস্থা বিবেচনা করে তখন কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে সভার অসভ্য ও জঘন্য এই সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছায় শিরোধার্য করে নিলেন। সামান্য কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে আম্রপালি হয়ে গেল বহুভোগ্যা নগরনটী বা নগর পতিতা।
আম্রপালির শর্ত গুলো 
১. নগরের সবচেয়ে মনোরম জায়গায় তাঁর গৃহ নির্মিত হবে।
২. প্রতি রাত্রির জন্য তাঁর দর্শণী হবে পাঁচশত স্বর্ণমুদ্রা।
৩. মাত্র একজন তাঁর ঘড়ে একবারে প্রবেশ করতে পারবে।
৪. কোনো অপরাধী বা শক্রর সন্ধানে সপ্তাহ অন্তে মাত্র এক দিন তাঁর গৃহে অনুসন্ধান করা যাবে।
৫. তাঁর গৃহে আগত ব্যক্তিগণের সম্বন্ধে কোনো অনুসন্ধান করা চলবে না।
আম্রপালির উক্ত পাঁচটি শর্ত সভার সমাজপতিদের দ্বারা স্বীকৃত হয়েছিল।
এবং বারবিলাসিনীরূপে শুরু হয় আম্রপালির জীবনের নতুন অধ্যায়। নগরবধূ হওয়ার সুবাদে আম্রপালি ছিলেন বৈশালীর রাজনর্তকী। কালক্রমে আম্রপালি প্রচুর ধন-সম্পদের অধিকারিণী হন। অনেক রাজাদের থেকেও আম্রপালির সম্পদ ছিল বেশি। সুবিশাল উদ্যান ও মর্মর অট্টালিকা নির্মিত হয়েছিল তাঁর সেবায়।*
রাজা বিম্বিসার ও আম্রপালি:
প্রাচীন ভারতের মগধ রাজ্যের রাজা ছিলেন বিম্বিসার । শোনা যায়, তার স্ত্রীর সংখ্যা নাকি ৫০০ ছিল ! নর্তকীদের নাচের এক অনুষ্ঠানে তিনি এক নর্তকীর নাচ দেখে বলেছিলেন, এ নর্তকী বিশ্বসেরা ।
তখন তার একজন সভাসদ বলেন- মহারাজ, এই নর্তকী আম্রপালির নখের যোগ্য নয় !
বিম্বিসারের এই কথাটি নজর এড়ায়নি । তিনি তার সেই সভাসদের থেকে আম্রপালি সম্পর্কে বিস্তারিত শুনে তাকে কাছে পাবার বাসনা করেন ।
কিন্তু তার সভাসদ বলেন, সেটা সম্ভব নয় কারণ, তাহলে আমাদের যুদ্ধ করে বৈশালী রাজ্য জয় করতে হবে আর আম্রপালীর দেখা পাওয়াও এত সহজ নয়। দেশ-বিদেশের বহু রাজাসহ রাজপুত্ররা আম্রপালীর প্রাসাদের সামনে তার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন । কিন্তু মন না চাইলে তিনি কাউকে দেখা দেন না ।
এত কথা শুনে বিম্বিসারের আগ্রহ আরও বেড়ে গেল । তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, ছদ্মবেশে বৈশালী রাজ্যে গিয়ে আম্রপালিকে দেখে আসবেন । কী এমন আছে সেই নারীর মাঝে, যার জন্য পুরো পৃথিবী পাগল হয়ে আছে !
তারপর বহু চড়াই উৎরাই শেষে তার আম্রপালীর সাথে দেখা করার সুযোগ আসে । আম্রপালির প্রাসাদ আম্রকুঞ্জে । কিন্তু দেখা করতে গিয়ে রাজা চমকে উঠেন, এত কোন নারী নয় ; যেন সাক্ষাৎ পরী ! এ কোনভাবেই মানুষ হতে পারেন না । এত রূপ মানুষের কীভাবে হতে পারে !
কিন্তু অবাক রাজার জন্য আরও অবাক কিছু অপেক্ষা করছিল । কারণ, আম্রপালী প্রথম দেখাতেই তাকে মগধ রাজ্যের রাজা বলে চিনে ফেলেন এবং জানান- তিনি তার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন বহু আগে থেকেই ।
এই কথা শুনে রাজার বিস্ময়ের সীমা থাকে না ।
রাজা সাথে সাথে তাকে তার রাজ্যের রাজরাণী বানানোর প্রস্তাব দেন । কিন্তু আম্রপালী জানান, তার রাজ্যের মানুষ এটা কখনোই মেনে নেবেন না । উল্টো বহু মানুষের জীবন যাবে, রক্তপাত হবে । তাই রাজাকে দ্রুত এখান থেকে চলে যেতে বলেন ।
কিন্তু বিম্বিসার বৈশালী আক্রমন করে আম্রপালীকে পেতে চান । ওদিকে আম্রপালী তার নিজের রাজ্যের কোন ক্ষতি চান না । তাই তিনি রাজাকে তার নিজ রাজ্যে ফেরত পাঠান এবং বৈশালীতে কোন আক্রমণ হলে তিনি তা মেনে নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন ।
এদিকে বিম্বিসারের সন্তান অজাতশত্রুও আম্রপালীর প্রেমে মগ্ন ছিলেন । তিনি বিম্বিসারকে আটক করে নিজে সিংহাসন দখল করে বসেন এবং আম্রপালীকে পাওয়ার জন্য বৈশালী রাজ্য আক্রমণ করে বসেন । কিন্তু দখল করতে সক্ষম হননি এবং খুব বাজেভাবে আহত হন । পরবর্তীতে আম্রপালীর সেবায় সুস্থ হয়ে গোপনে তার নিজের রাজ্যে ফেরত যান । সেদিনও আম্রপালী অজাতশত্রুর বিয়ের প্রস্তাব সবিনয়ে ফিরিয়ে দেন ।
আম্রপালি ও গৌতমবুদ্ধ:
গৌতম বুদ্ধ তার কয়েকশ সঙ্গী নিয়ে বৈশালী রাজ্যে এলেন । একদিন বৈশালী রাজ্যের রাবান্দা থেকে এক বৌদ্ধ তরুণ সন্ন্যাসীকে দেখে আম্রপালীর মনে ধরে গেল । তিনি ভাবলেন, দেশ-বিদেশের রাজারা আমার পায়ের কাছে এসে বসে থাকেন আর এত সামান্য একজন মানুষ । তিনি সেই সন্ন্যাসীকে চার মাস তার কাছে রাখার জন্য গৌতম বুদ্ধকে অনুরোধ করলেন । সবাই ভাবলেন, বুদ্ধ কখনই রাজি হবেন না । কারণ, একজন সন্ন্যাসী এমন একজন পতিতার কাছে থাকবেন ; এটা হতেই পারে না । কিন্তু গৌতম বুদ্ধ তাকে রাখতে রাজি হলেন এবং এটাও বললেন, আমি শ্রমণের (তরুণ সে সন্ন্যাসীর নাম ছিল) চোখে কোন কামনা-বাসনা দেখছি না । সে চার মাস থাকলেও নিষ্পাপ হয়েই ফিরে আসবে- এটা আমি নিশ্চিত !
চার মাস শেষ হল । গৌতম বুদ্ধ তার সঙ্গীদের নিয়ে চলে যাবেন । তরুণ শ্রমণের কোন খবর নেই । তবে কি আম্রপালীর রুপের কাছেই হেরে গেলেন শ্রমণ ? সেদিন সবাইকে অবাক করে দিয়ে তরুণ শ্রমণ ফিরে আসেন । তার পিছনে পিছনে আসেন একজন নারী । সেই নারীই ছিলেন আম্রপালি । আম্রপালি তখন বুদ্ধকে বলেন, তরুণ শ্রমণকে প্রলুব্ধ করতে কোনও চেষ্টা বাকি রাখেননি তিনি । কিন্তু এই প্রথম কোন পুরুষকে বশ করতে ব্যর্থ হয়েছেন বৈশালীর নগরবধূ আম্রপালী । তাই আজ সর্বস্ব ত্যাগ করে বুদ্ধের চরণে আশ্রয় চান তিনি। গৌতমবুদ্ধের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন আম্রপালি।
আম্রপালি ও আম্রপালি আম:
২৫০০ বছর আগে জন্ম নেওয়া ভাগ্যবিড়ম্বিতা সুন্দরী আম্রপালি, যার কোন বংশ পরিচয়ও পাওয়া যায়নি এবং কেবল দৈহিক সৌন্দর্য্যের কারণে নগরনটী হিসেবে নিজেকে বরণ করে নেওয়া হতভাগ্য এই নারীর প্রতি তৎকালীন সমাজের আচরণ ছিল অমানবিক। এই আচরণ নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি কী, তা যেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। সমাজের প্রচলিত প্রথার জঘন্য বলি হওয়া সেই নারী পায়নি কোন স্বাভাবিক মানুষের জীবন। আম্রপালির নামে আমের নামকরণ সেই লাঞ্চিত অপমানিত নগরবধূকে দেয় অমরত্ব। তার নাম আমের নামকরণ আম্রপালি করে ইতিহাসের সেই নারীকে যেন মর্যাদ্যার আসনে অভিষিক্ত করে স্মরণীয় করে রাখা হয়েছে তার প্রতি তখনকার সমাজের ঘৃণ্য আচরণকে আর আম্রপালিকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ সম্মান। কোথায় সেই ঘৃণ্য ভোগবাদী নারী লোলুপ পুরুষ সমাজ! তারা ইতিহাসের ঘৃণ্য আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়ে চিরদিন অভিশাপ কুড়িয়ে যাবে।
তথ্যসূত্র:  উইকিপিডিয়া থেকে সংগৃহীত ও সংকলিত।
আম্রপালিঃ বিকৃতির এক জঘন্য ইতিহাস আম্রপালিঃ বিকৃতির এক জঘন্য ইতিহাস Reviewed by বায়ান্ন on May 19, 2021 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.