রমজান দোয়া ও মোনাজাতের মাস

দোয়া হচ্ছে সৃষ্টিকুলের মহান স্রষ্টা ও প্রতিপালকের সাথে মোনাজাতকারীর সরাসরি আত্মিক ও মনে সংযোগ সৃষ্টিকারী একটি অন্যতম মাধ্যম। আর এজন্যেই মোনাজাতকে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাই যারা দোয়া করতে জানে না বা করে না তাদের সমস্ত ইবাদত বান্দেগীই যে শুধু মুল্যহীন তাই নয় বরং তাদেরকে মুস্তাকবির বা অহংকারী হিসাবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। ইমাম বাকের (আ.) ৪০ নম্বর সুরার [সুরা গাফির] ৬০ নম্বর আয়তটির [ۚ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ] ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন: নিশ্চয় যারা অহংকারবশে আমার ‘ইবাদাত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে।“ এই আয়াতটির ইবাদত শব্দের অর্থ হলো “দোয়া” । কেননা আয়াতটি শুরুতে প্রতিপালককে ডাকার কথা এসেছে আর তিনিও নিষ্ঠাপূর্ণ ডাকে সাড়া দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অতএব যারা দোয়ার করে না তারা মুলত: অহংকারী আর তাদের স্থান হল জাহান্নাম।
কেননা দোয়ার মাধ্যমেই সকল প্রকারের ইবাদত বান্দেগী প্রকৃত মনের ভাব বা দাসত্ব প্রকাশ পেয়ে থাকে। আর এজন্যেই মহান আল্লাহর রব্বুল আলামীন বলেছেন: قُلۡ مَا یَعۡبَؤُا بِکُمۡ رَبِّیۡ لَوۡ لَا دُعَآؤُکُمۡ ۚ বলুন, তোমাদের দোয়া না থাকলে আমার রব [প্রতিপালক] তোমাদের প্রতি মোটেই ভ্ৰক্ষেপ করতেন না [সুরা ফুরকান ৭৭ নম্বর আয়াত]
সর্বশক্তিমান প্রতিপালকের দরবারে দোয়া করা প্রতিটি মানুষের একটি আত্মিক ও সত্তাগত চাহিদা । মানুষ যখন এই বস্তুজগতের শাসন-শোষন ও নিপীড়ন থেকে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে তখন তার মনের গভীরে মনবাঞ্চনা প্রকাশের এক আবেগ স্ফীত হয়ে ওঠে । যে আগেগ নিজেই অজান্তেই মনের অব্যক্ত কথা ও কষ্টগুলো প্রভুর দরবারে প্রকাশ করে থাকে। প্রতিটি মানুষ তার মনের গহীনে চেপে রাখা কথাগুলো মহা পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় প্রতিপালকের কাছে প্রকাশ করে শান্তি অনুভব করে। আর এই শান্তি অনুভব হলো তার দোয়া মঞ্জুর হওয়ার একটি নিশানা।
মাহে রমজান দোয়ার করার অতি উত্তম একটি মৌসূম। শাবান মাসের শেষ শুক্রবারে জুম্মার দিনে বিশেষ একটি খোতবাতে মহানবী (সা.) বলেন:
وَ ارفَعُوا إلیه أیدِیَکُم بِالدُّعاءِ فی أَوقاتِ صَلَواتِکُم فَأنَّها أفضَلُ السَّاعاتِ یَنظُرُ اللهُ عَزَّ وَ جَلَّ فیها بِالرَّحمَةِ إلی عِبادِهِ یُجِیبُهُم إِذا ناجَوهُ وَ یُلَبِّیهِم إِذا نادَوهُ وَ یُعطِیهِم إِذا سَأََلُوهُ وَ یَستَجِیبُ لَهُم إِذا دَعَوهُ
নামাজের সময় তোমাদের দুই হাত উঠিয়ে মোনাজাত করবে। কেননা এই সময়টি একটি অতি উৎকৃষ্ট মুহুর্ত যখন আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি দয়ার দৃষ্টি দেন। তাই এ সময়ে যে কেউ তাঁকে চাইলেই তিনি সাড়া দেন। আর কেউ তাঁকে ডাকলে তিনি তার ডাকে উত্তর দেন। এ সময়ে তাঁর কাছে কিছু চাইলে তিনি তা দান করেন। তাঁকে কেউ আহ্বান করলে তিনি তার আহ্বানে সাড়া দেন। [খোতবা শাবানীয়ার অংশ বিশেষ]
অতএব যার যত চাওয়া আছে মনের গহীনে অব্যক্ত যন্ত্রণা রয়েছে সবই মহান প্রভুর দরবারে অর্পন করুণ, আপনার সমস্যার কথা আপনি তাঁকে বলুন। ইমাম মুসা কাজিম (আ.) বলেন: دَعْوَةُ الصَّائِمِ یُسْتَجابُ عِنْدَ إِفْطارِهِ রোজাদার ব্যক্তির দোয়া ইফতারের সময় কবুল হয়ে থাকে। [ বিহারুল আনওয়ার, আল্লামা মাজলেসি, ৯৬ তম খন্ড, ২৫৬ সম্ব পৃষ্ঠা ]
উপরে উল্লেখিত হাদিসটিতে বলা হচ্ছে যদিও মাহে রমজানের প্রতিটি মূহুর্তই শ্রেষ্ঠ তারপরও দোয়া কবুল হওয়ার জন্যে ইফতারের মূহুর্তের গুরুত্ব অপরিসীম।
অতএব প্রত্যেকেরই একটি নৈতিক দায়িত্ব নিজের জন্যে দোয়ার করার পাশাপাশি আপনার পরিচিত অপরিচিত সকল মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে দোয়া করবেন।
রমজান দোয়া ও মোনাজাতের মাস রমজান দোয়া ও মোনাজাতের মাস Reviewed by বায়ান্ন on April 14, 2021 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.