আল কুরআন: কিছু মৌলিক প্রসংগ

ভূমিকা:

  • আল কুরআন মহান রব্বুল আলামীনের বানী।
  • সকল যুগের সকল মানুষের একমাত্র জীবন দর্মন।
  • সকল ঐশি গ্রন্থের সারমর্ম।
  • বিশ্বের সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ।
  • ইহার গুন ও বৈশিষ্ঠ উপমা বিহীন।
  • এতে সন্দেহের কোন অবকাশম্রাত্র নেই।
  • একটি জীবন্ত মোজেজা।
  • একটি অপরিবর্তনীয় আইন ।
  • মহাকবি হাফিজ কুরান কে নামদিয়েছেন-জারীদা-ই-আলম অর্থাৎএ পৃতিভীর দফতর-এতে পৃথিবীর সকল কিছুরই উল্লেখ আছে।
  • মানব জাতির হেদায়েত।
  • মানব জাতির জন্য আল্লাহর প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত।

সুতরাং এ নিয়ামত পাঠ করা, অনুধাবন করা এবং এর মর্মঅনুযায়ী ব্রক্তিগত পারিবারিক সামাজিক রাষ্ট্রীয় জীবন গঠন করা বর্তমানে এই অশান্ত পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন।

আল কুরআনের মূল শিক্ষা:

মানবজাতিকে আল্লাহ প্রদত্ব জীবন ব্যবস্থার প্রতি হেদায়েত বা পথ প্রদশর্থন করা, যাতে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় (জীবনে) জাহানে তারা শান্তিময় জীবনের অধিকারী হতে পারে।

কুরআন শব্দের অর্থ ও সংগা:

  • কুরআন শব্দটি আরবী ফুলান এর ওজনের এসেছে। ইহা কারউল ধাতু হতে নির্গত।
  • এর অর্থ পাঠ করা, একত্র করা, জমা করা।
  • আরবী ব্যকরনে অনেক সময় শব্দের মূল ধাতুর অর্থ কর্মবাচক বিশেষ্যের অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ অনুযায়ী কুরআন শব্দের অর্থ দাঁড়ায় পঠিত গ্রন্থ বা অধিক পাঠযোগ্য গ্রন্থ।
  • অর্থাৎ কুরআন এমন এক গ্রন্থ যা বার বার পাঠ করা হয়।

যা পাঠ করলে –

  • বিরক্তি আসেনা বরং যতবেশী পড়া যায় ততবেশী মজা পাওয়া যায়।
  • মানব জাতি সাফল্য মন্তিড হতে পারে।
  • নাজাত বা মুক্তি পেতে পারে।

শরীয়তের পরিভাষায়-
লাওহে মাহফুজ হতে আল্লাহ তায়াল াজীরবাইনের মাধ্যমে মহানবী (স:) এর উপর নবুয়তের ২৩ বছর জীবনের বিভিন্ন ঘটনা ও বাস্তব দাবীর প্রেক্ষিতে অল্প অল্প করে যে বানী অবতীর্ণ করেছেন তাহাই কোরআন। যাহা মাসহাফের মধ্যে লিপিবন্ধ এবং মুতাওয়াতির রূপে অধ্যবধি বর্ণিত হয়ে আসছে।

কুরআনের পরিচয় সম্পর্কে রাসুল (স:) বলেন-
আল কুরআন আল্লাহর রশি, আল্লাহর অতি উজ্জল নূর, অব্যর্থ মহৌষধ, যে ব্যক্তি সাদরে সযত্নে কুরআনকে আকড়ে ধরবে সে মুক্তি পাবে এবং হালাক হবে না কখনও।

আল্লামা যুকানী (র:) বলেন,
যা নবী করীমের (স:) প্রতি অবতীর্ণ হয়ে মুতাওয়াতির সনদ পরাস্পরার মাধ্যমে বর্নিত হয়ে আসছে, যা তেলাওয়াত করা হয়, এবং যে তেলাওয়াত আল্লাহর ইবাদত হিসেবে গন্য হয়ে তাকে তাকে কুরআন বলে।

নুরুল আনোয়ার গ্রন্থে বলা হয়েছে
কুরআন ঐ গ্রন্থকে বলা হয় যা রাসুর (স:) এর উপর অবতীর্ন করা হয়েছে। যাহা মাসহাবের মধ্যে লিপিবদ্ধ এক মাহারুসুল (স:) হতে নি:সন্ধে ভাবে মুতাওয়াতর তরীকায় মানকুল হয়েছে।

আল কোরআনের নামকরণ:

  • আরবে যখন কুরআন নাজিল হচ্ছিল তখন কাফের ও মুশরিকগন মানুষদেরকে কুরআন শ্রবন করা ও এর তেলাওয়াত শুনা হতে বারন করে রাখতো।
    -কুরআন যেন সর্বস্তরের মানুষ শোনার পরিবেশ না পায় সে জন্য তারা সোরগোল করতো।
    -তাদের এই হীন আচরন ও অশ্লীল ব্যবহারের জবাবে এ গ্রন্থের নাম আল-কুরআন রাখা হয়।
  • আর কোরআন বা পাঠিত গ্রন্থ নামে নামকরণ করা হয়েছে এ উদ্দেশ্যে যে, কায়েরদের এসব কুৎসিত আচরন দ্বারা কুরআনের সুমহান দাওয়াত ও বুলন্দ আওয়াজকে কিছুতেই রোধ করা যাবে না কেননা পবিত্র এই গ্রন্থ পঠি হওয়ার জন্যই নাজিল হয়েছে।
    -কেয়ামত পর্যন্ত পঠি হতে থাকবে এবং হচ্ছেও তাই।
  • বর্তমানে কাফের মুসরেক নিবির্শেষে সর্বজন স্বিকৃত সত্য যে, সারা বিশ্বে একমাত্র আল কোরআনই সর্বাপেক্ষা অধিক পঠিত গ্রন্থ।

আল কোরআনের আলোচ্য বিষয়ঃ

  • আল কোরআনের প্রকৃত আলোচ্য বিষয় হচ্ছে মানবজাতি-কেননা এতে মানবজাতির প্রকৃত কল্যান ও অকল্যানের পরিচয় দান করা হয়েছে।
  • কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় হচ্ছে মানুষের মনগড়া মতবাদ সবই ভূল এবং পরিনতির দিক দিয়ে তা স্বয়ং মানুষের পক্ষেই মারাত্বম ক্ষতিকর।
  • পৃথিবীর সকল বিষয় সম্পর্কেই মৌলিক ভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
  • পবিত্র এ গ্রন্থের আলোচ্য বিষয়কে শাহ-ওয়ালী উল্লাহ দেহলবী(র:) ৫ ভাগে বিভক্ত করেছেন:
    • ইলমুল আহকাম বা সংবিধান জ্ঞান
      -অর্থাৎ ইবাদত, বন্দেগী, মুয়ামেলাত, আচার-ব্যবহার পারিবারিক সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় নীতি প্রভৃতি। মানব জীবনের যাবতীয় প্রয়োজন ও বিষয় সংক্রান্ত জ্ঞান।
    • ইলমুতা তাজকীর বি আলাইল্লাহবা স্রষ্টাতত্ব জ্ঞান
      -অর্থাৎ আল্লাহর অস্তিত্ব, গুনাবলী, নির্দেশনাবলী সম্পর্কীত আলোচনা করা হয়েছে
      -এছাড়া আকাশ জমিন মানুষ সৃষ্টির রহস্য, বিশ্ব জগতের নিদর্শন সমুহের গভীর বিশ্লেষন
      -এবং নবী রাসুল গনের মর্যাদা প্র আরেঅচনার অন্তভূক্ত।
    • ইলমুল মুখাছিমা ওয়াল মুনাজিরা বা বিতর্ক ও সমালোচনা মূলক জ্ঞান
      -অর্থাৎ ইহুদী, নাশারা, মুসরিক ও মুনাফিক এ চারটি ভ্রান্ত মতবাদের ঘৃন্যতা ও জঘন্যতা প্রকাশ করে জনমনে তৎপ্রতি ঘৃনার উদ্রেক করা হয়েছে এবং সে গুলির সমুচিত জবাব দেয়া হয়েছে।
    • ইলমুত তাযকীর বি আইয়্যার্মিলাহ বা অথীত কালের জাতীয় ঘটনা বা দুর্ঘটনা সম্পর্কীত জ্ঞান:
      -অর্থাৎ হক-বাতিল, সত্য-মিথ্যার অতীত সংঘর্ষের ইতহাস এবং হক ও সত্য প্রিয়তার উজ্জল পরিনাম
      -মিথ্যা ও বাতিলের সোচনীয় পরিনতি সর্বসমক্ষে তুলে ধরা হয়েছে।
    • ইলমুত তাযকীর বিল মাউত ওয়াবিমা বা দাহ বা মৃত্যু ও পরকাল সংক্রান্ত জ্ঞান।
      -অর্থাৎ মৃত্যুর অবস্থা এবং পরকাল সম্পর্কিত যাবতীয় বর্ননা যেমন হিসাব-নিকাস, বেহেস্ত-দোযখ ইত্যাদী বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়ে।

কুরআনের যে সকল বিষয় বার বার উল্লেখ করা হয়েছেঃ

  • হযরত আদম (আ:) এর সৃষ্টির ইতিহাস।
  • হযরত নুহ (আ:) ও হুদ (আ:) সালেহ (আ:) ইব্রাহীম (আ:) ইসমাইল (আ:) শোয়াইব (আ:) এর ইতিহাস। আদ ও সামুদ জাতির ইতিহাস।
  • মুসা (আ:) ও ফেরাউনের ইতহাস। উহুদী ও নাসারাদের ইতিহাস।
  • হযরত আইয়ুব, ইউনুস (আ:) এর উপর আল্লাহর রহমতের ঘটনা এবং যাকারিয়া (আ:) দোয়া কবুলের ঘটনা।
  • দাউদ (আ:) সোলাইমান (আ:) এর শাসন নীতির ঘটনা, তাদের কেরামত ও মুজিজাসমুহ।
  • ইসা (আ:) এবং মরিয়মের ইতিহাস। বিশেষ করে ঈসা (আ:) এর পিতা বিহীন জন্ম হওয়ার ঘটনা।
  • বনী ইসরাইলদের ইতিহাস।
  • ইয়াজুজ মাজুজ, জংগে বদর ওহুদ, তাবুক।

যে সকল ঘটনা একবার অথবা দুবার বর্ননা করা হয়েছেঃ

  • ইদ্রিস (আ:) কে আসমানে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ও মুহাম্মদ (স:) এর মেরাজের বিবরন।
  • ইব্রাহীম (আ:) ও নবরূদের ঘটনা, ইসমাইল (আ:) কে জাবহ করার ঘটনা।
  • ইউসুফ (আ:) এর ইতিহাস।
  • মুসা (আ:) এর জন্ম এবং তাকে সমুদ্রে ফেলে দেয়ার ইতিহাস বনী ইসরাইলদের গাভী জবেহ করার ঘটনা।
  • জংগে আহয়াব, কোরাইজা, হুনাইন।
  • হযরত মুসা: (আ:) এর সাথে খিজির (আ:) এর মুলাকাত আবু লাহাবের ইতিহাস।
  • জালুত-তালুত বিলকিস জুলকার নাইন, আসহাবে কাহায়ের এবং আসহাবে ফিল এর ইতিহাস।
  • আসহাবে আইকা, আসহাবে উখদুদ, আসহাবে সাবা, আসহাবে জিকির ইত্যাদি।

কোরআন অবতীর্ন হওয়ার পদ্ধতিঃ

আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতি (রহ:) তার প্রশিদ্ধ গ্রন্থ ইতকানে কয়েকটি অভিমত উল্লেখ করেছেন নিম্নেতা তুলে ধরা হল:

  • প্রথম অভিমত: পবিত্র কোরআন সম্পূর্ন লওহে মাহফুজ হতে কদরের রাতে পৃথিবীর আকাশে অবতীর্ণ করা হয়। এর পর মহানবীর সুদীর্ঘ নবুয়তী জীবনে অল্প অল্প করে জিব্রাহীল (আ:) মাধ্যমে তার উপর অতবীর্ন হয়।
  • দ্বিতীয় অভিমত: পবিত্র কুরআন ২০ মতান্তরে ২৩ বা ২৫টি কদররাতে লাওহে মাফুজ হতে পৃথিবীর আকাশে অবতীর্ণ হয়
    -এক বছরে যতটুকু কোরআন আল্ল্হা তায়ালা অবতীর্ণ করতে ইচ্ছা করতেন ততটুকু একত্রে ঐ বৎসর কদর রাতে পৃথিবীর আকাশে অবতীর্ণ করতেন।
    -এর পর জীব্রাইল (আ:) এর মাধ্যমে সেখান হতে প্রয়োজন অনুসারে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ করবেন
  • তৃতীয় অভিমত:
    -মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম কদরের রাতে কুরআন অবতীর্ন করা শুরু করেন।
    -এরপর বিভিন্ন সময় প্রয়োজন অনুসারে রাসুলের উপর তার সুদীর্ঘ নবুয়তী জীবনে অল্প অল্প করে অবতীর্ন করেন।
  • চতুর্থ অভিমত
    -কুরআন একত্র লাওহে মাহফুজ হতে একত্রে সংরক্ষন কারী ফেরেস্তার কাছে অবতীর্ন হয়। এ সংরক্ষনকারী ফেরেস্তা ২০ মতান্তরে ২৩ বা ২৫ রাতে বিরাইলের উপর অবতীর্ন করেন।
    -জিব্রাইর (আ:) সুদীর্ঘ ২০ মতান্তরে ২৩ বা ২৫ বছরে রাসুল (স:) এর উপর অবতীর্ন করেন।[তবে-চারটি মতের মধ্যে প্রথম মতটিই হচ্ছে গ্রহনযোগ্য ও অধিকতর সহীহ]

পর্যায় ক্রমিক অবতরনের তাৎপর্যঃ

সুরা ফোরকানের একটি আয়াত থেকে তা পরিস্কার হয়ে যায়:-
কাফেরেরা বললো তার উপর সমগ্র কোরআন একবারে নাজিল হল না কেন? আমি কোরআনকে এভাবেই পর্যায় ক্রমে অবতীর্ন করেছি যাতে আপনার হৃদয়কে মজবুত করতে পারি এবং এ কোরআনকে ক্রমে ক্রমে আমি আবৃতি করেছি। তারা আনার নিকট কোন সমস্যা উপস্থিত করলে আমি সুষ্ঠু সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্রা প্রদান করি।

উপরোক্ত আয়াত থেকে-

  • প্রথমত: রাসুল (স:) এর হৃদয়কে শক্তিশালী করার উদ্দেশে।
  • দ্বিতীয়ত: মুসলীম উম্মাহর ধারাবহিক তারবীয়ত।
    সুরা বনী ইসরাইল-আমি কোরআনকে পর্যায়ক্রমে খন্ডাকারে বিভক্ত করে অবতীর্ন করেছি যেন রাসুল লোকদের প্রতিক্রমশ তা আবৃতি করেন যাতেতারা কুরানের যথাযথমর্ম অনুধাবন করতে সক্ষম হয়।
  • তৃতীয়ত: নতুন নতুন সমস্যা সমুহের ব্যাপারে পথ প্রদর্শন করা।
  • চতুর্থত: কুরআন যে আল্লাহর কিতাব তার অকাট্য প্রমান মিলে এ পদ্ধতি থেকে।
    -২৩ বছরকালব্যাপী নাজিল হবার পর ও প্রথম হতে শেষণ পর্যন্ত ভাষ্য, সাহিত্যিক মান ও অর্থে যে আশ্চর্য ধরনের সামঞ্জস্য রয়েছে উহা প্রমান করে যে কুরান মানব রচিত কোন গ্রন্থ নয়।
  • পঞ্চমত: হুজুর (স:) এর কষ্ট নিবারন।
    -উৎপীড়ন, নির্যাতন, বরদাস্ত করতে হত। ফলে বার বার অহি আগমনের ফলে হুজুরের কষ্ট মুদে যেত।

মক্কী ও মাদানী সুরায় সংগাঃ

মক্কী সুরা: যে সব সুরা বায়াত হুজুর (স:) মক্কা থেকে মদিনায় হিযরত করে যাবার পূর্ব পর্যন্ত সময়ে নাজির হয়েছে তাকে বলা হয় মাক্কি সুরা।
মাদানী সুরা: যে সুরা মদিনায় হিযরত করে যাওয়ার পর নাজিল হয়েছে সেগুলোকে বলা হয় মাদনী সুরা -এ নামকরন মূলত: নাজিল হওয়ার ফলে সময়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে, স্থানের প্রতি লক্ষ রেখে নয়।

মক্কী ও মাদানী সুরার বৈশিষ্ট্যঃ

  • মক্কী সুরা সমুহে সাধারণত: তাওহীদ রিসালাত আখেরাতের প্রমান, হাসর ও শেষ বিচারের অবস্থা বেং পূর্ববর্তি জাতি সমুহের ঘটনাবলী বর্নিত হয়েছে।
    -মাদানী সুরা সমুহে সামাজিক ও রাষ্ট্রিয় জীবনের বিধি বিধান বিৃত হয়েছে।
  • মাক্কী সুরা সমুহে সাধারণত: মুশরিক ও মুতি পুজারী দের সাথে মোকাবেলা এবং তাদের আকিদা বিশ্বাসে সংশোধনী আনা হয়েছে।
    -পক্ষান্তরে মাদানী সুরা সমুহে ইহুদী, নাসারা ও মুনাফেকদর ভ্রান্ত মতবাদের ঘৃন্যতা ও জঘন্যতা প্রকাশ করে তৎপ্রতি ঘৃনার উদ্রেক করা হয়েছে এবং সেগুলোর সমুচিত জবাব দেয়া হয়েছে।
  • মাক্কী সুরা সমুহে বিভিন্ন উপমা উদহরন রূপক রীতি ও দৃষ্টান্ত অত্যন্ত বর্নাঢ্য ভঙ্গিতে উপস্থাপিত হয়েছে এবং এ সব সুরায় প্রচুর শব্দ সমভাবের সমাবেশ ও ঘটেছে।
    -পক্ষান্তরে মাদানী সুরা সমুহের বর্ননা রীতি সরল সহজবোধ্য, দীর্ঘ এবং বিশ্লেষনাত্বক।
  • মাক্কী সুরা সমুহে সাধারনত: হে মানবজাতি বলে সম্বোধন করা হয়েছে।
    -পক্ষান্তরে মাদানী সুরা সমুহে হ ঈমানদারবলে সম্বোধন করা হয়েছে।
  • যে সব সুরায় মানুষের ঘুম ও বিবেককে জাগ্রহত করা চিন্তা শক্তিকে সত্য গ্রহনে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে এবং সেজদার আয়ত রয়েে সেগুলি মাক্কী ।
    -পক্ষান্তরে যে সব আয়াতে অমুসলিম, জিম্মী ও পররাষ্ট্রনীতির আলোচনা রয়েছে সেগুলি মাদানী সুরা।
  • মক্কী সুরায় নৈতিক সামাজিক অসংখ্যা প্রকারের দোষ ত্র“টি আলোচনা করা হয়েছে।
    -আর মাদানী সুরা সমুহে জেহাদের নির্দেশ এবং জেহাদের বিধান সমুহ বর্নিত হয়েছে।
  • যে সব সুরায় কক্ষনই নয় শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে সেগুরো মাক্কী সুরা। এই শব্দটি ১৫টি সুরায় মোট ৩৩ বার ব্যবহৃত হয়েছে। এ সুরা গুলি কুরআনে শেষার্ধে সন্নিবেশিত রয়েছে।

মুজিযাঃ

-ইসলামের পরিভাষায়, যে জিনিষ কাফের ও মুশরিকদের অথবা ইসলাম বিরোধীদেরকে অক্ষম, ও অপারগ করে দেয় তাকে মুজিযা বলে।
-অন্য কথায় মুজিযা এমন একটি অলৌকিক ব্যাপার যা নবী ও রাসুলগন কর্তৃক প্রদর্শিত হয়ে থাকে এবং যার চ্যালেজ্ঞ তাদের প্রতিপক্ষের নিকট থেকে তলব করা হয়ে থাকে। কিন্তু সেই চ্রালেঞ্জ গ্রহন করতে কেউ সক্ষম হয় না।
-এ দৃষ্টি কোন থেকেই আল্লাহ তায়ালা সর্বশ্রেষ্ঠ যে মোজেযা রাসুল (স:) কে দান করছেন তাহলো পবিত্র কুরআন।

পবিত্র কুরআনের কতিপয় মু’জিয়া:

  • ভবিষ্যতে অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে সংবাদ-যেমন মক্কা বিজয়েরসংবাদ মহানবীর নিরাপত্তার সংবাদ ইত্যাদী সত্য প্রমানিত হওয়ায় বহু অমুসলীম ইসলাম গ্রহন করেন।
  • পূর্ববর্তি নবীদের সংবাদ ও বিগত বড় বড় দূর্ঘটনা সমুহের বর্ননা-এসব সংবাদ সাধারনত লোকেরা জানতা না মোটেই। অথচ মাহনবী (স:) পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে তার সঠিক ও নির্ভুল তথ্য প্রদান করতেন। যাতে সবাই বিশ্বয়াভিভুত হয়ে পড়তো। যেমন-আযরাহার ঘটনা, আসহাবে কাহাফ, ইব্রাহীম (আ:) ও নমরুদের ঘটনা ইত্যাদী।
  • যে সকল কথা ও কাজ কাফিরা গোপন করত তা মহানবী সং সঠিকভাবে বলে দিতে পারতেন। যার ইঙ্গিত দিয়ে কুরআনের আয়াত নাজিল হত।
  • আরবী ভাষার যে অলংকার পবিত্র কুরআনের বিদ্যমান তা প্রচলিত আরবী ভাষার সকল শ্রেণীর অলংকারের অনেক উর্দ্ধে।
    -অল্প কথায় অধিক ভাব প্রকাশ করর যে প্রচন্ড রূপ পবিত্র কোরআনের বর্নিত হয়েছে, আরবী ভাষায় অন্যাত্র তার তুল না মিলে না।
    -এতে গদ্য ও পদ্যের ছন্দের সমন্বয় সাধন করা হয়েছে অতি সার্থকভাবেই
    -যেমন-কুরআনের কিছু অংশ মনে হয় গদ্যময় আর কিছু অংশ মনে হয় চন্দময়। এরূপ সমন্বয় সাধন করতে দুনিয়ার সকল সাহিত্যিক, কবি, সম্পূর্নই ব্যর্থ।
  • কুরআন যতই পাঠ করা যায় ততই মজা ও স্বাদ পাওয়াদ যায় ইহা শোনামাত্র জ্ঞানী, মুর্খ ঈমানদার নির্বিশেষে প্রত্যেকের মনে প্রবাব বিস্তার করে, মন হয়ে াউঠে বিগলিত। ইহার পাঠক ক্লান্ত হয় না, আর শ্রবন কারীরাও বিরক্ত হয় না।
  • আল কোরাআন সকল ধরনের দোষমুক্ত।
  • কুরআন হেফজ করা খুবই সহজ। যেমন অল্পবয়স্ক একটি শিশু ও কোরআন হেফজ করতে সমর্থ হয়। দুয়িাতে অন্যকোন ধর্মে হাফেজ পাওয়অ যায় না। অথচ সারা বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ৫ লক্ষাধিক হাফেজ রয়েছে।
  • কুরআনের রক্ষনাবেক্ষনের দ্বায়ীত্ব স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা গ্রহন করছেন-কেয়ামত পর্যন্ত ইহার বিন্দু বিষর্গ পরিবর্তন করতে কেউ পারবেন।
  • কুরআনের যত প্রকারের জ্ঞান বিজ্ঞানের একত্রে সমাবেশ ঘটেছে, এত জ্ঞান বিজ্ঞানের সমাবেশ না আজ পর্যন্ত অন্য কোন গ্রন্থে ঘটেছে আর না ঘটবে।
  • কুরআনুল করীমের সর্বশ্রেষ্ঠ দান হচেছ আল্ল্হর সার্বভৌমত্ব।
    -পৃথিবীর অপরাপর ধর্মে আল্লাহকে সৃষ্টি কর্তা হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। আস্তিক্যবাদী দর্মগুলোর মধ্যে হিন্দু, হ=ইহুদী ও খৃষ্টান ধর্মে এ দুনিয়াকে আল্লাহর সৃষ্টি বলে গন্য করা হয়।
    -কিন্তু এসব ধর্মে আল্লাহর সার্বভৌমত্বে স্বীকার করা হয় নি।

কতিপয় পরিসংখ্যানঃ

  • আল কুরআন ২২ বছর ৫ মাসে নাজিল হয়।
  • ১১৪ টি সুরা ও ৩০ পারা রয়েছে।
  • ক্ষুদ্রতম সুরায় ৩ আয়াত এবং বৃহত সুরায় ২৮৬ আয়াত।
  • ক্ষুদ্রতম সুরা কাউসার এবং বৃহত্তম সুরা, সুরায়ে বাকারা।
  • ৮৬ টি মক্কী এবং ২৮ টি মাদানী সুরা
  • কারো মতে ৯২ টি ম্ক্কী এবং ২২ টি মাদানী
  • রুকু ৫৪০ টি আয়াত সংখ্যা ৬৬৬৬টি
  • প্রতিশ্র“তীর আয়াত সংখ্যা -১০০০
  • শান্তির আয়াত-১০০০, নিষেধের আায়াত-১০০০
  • আদেশের আয়াত-১০০০, উদহরনের আয়াত-১০০০
  • হারামের আয়াত-২৫০, হালাল সংক্রান্ত-২৫০
  • তাসবীহ সংক্রান্ত-১০০, বিভিন্ন ধরনের আয়াত-৬৬
  • নবী রাসুলদের ২৫ জনের নাম উল্লেখ আছে।

কুরআনে উল্লেখিত ২৫ জন নবী রাসুলের নামঃ

১. হযরত আদম (আ:)
২. হযরত নূহ (আ:)
৩. হযরত ইদ্রিস (আ:)
৪. হযরত ইব্রাহীম (আ:)
৫. হযরত ইসমাইল (আ:)
৬. হযরত ইসহাক (আ:)
৭. হযরত ইয়াকুব (আ:)
৮. হযরত ইউসুফ (আ:)
৯. হযরত লুত (আ:)
১০. হযরত হুদ (আ:)
১১. হযরত সালেহ (আ:)
১২. হযরত শোয়াই (আ:)
১৩. হযরত মুসা (আ:)
১৪. হযরত হারুন (আ:)
১৫. হযরত দাউদ (আ:)
১৬. হযরত সুলাইমান (আ:)
১৭. হযরত আইয়ুব (আ:)
১৮. হযরত জুলকারনাঈন (আ:)
১৯. হযরত ইউনুস (আ:)
২০. হযরত ইলিয়াস (আ:)
২১. হযরত আল ইসায়া (আ:)
২২. হযরত জাকারিয়া (আ:)
২৩. হযরত ইয়াইয়া (আ:)
২৪. হযরত ঈসা (আ:)
২৫. হযরত মুহাম্মদ (স:)

আল কুরআন সংরক্ষনঃ

  • প্রথমত-লিপিবদ্ধ আকারে
  • দ্বিতীয়ত-হাফেজদের স্মৃতি ফলকে সংরক্ষিত হয়।
  • প্রথমত: রাসুল (স:) এর নির্দেশ ক্রমে কিতাবে ওহীগন ওহী অবতীর্ন হবার সাথে সাথেই তা বৃক্ষপত্রে, মসৃন শ্বেত অস্থি, উটের চেপ্টা হাড়, চামড়া, প্রস্তর খন্ড ও কাগড়ে যখন তখন লিপিবদ্ধ করে ফেলতেন।
    -কাতেবে ওহীগনের মধ্যে হযরত যায়েদ বিন সাবেত, আব্দুল্লাহ বিন জযবায়ের, আ্মীর ময়াবিয়া, হাসান বিন সাবিত, এবং খলিফা গনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ যোগ্য।
  • দ্বিতীয়ত: হাফিজনগন মহানবী (স:) এর নির্দেশে তারতীনব অনুযায়ী সকল আয়াত সমূহ সুন্দরভাবে সুবিন্যাস্ত করে তাদের স্মৃতি ফলকে সংরক্ষিত করতেন।

আল কুরআন সংকলনঃ

  • মহানবী (স:) এর ইনতেকালের পর হযরত আবু বকর (রা:) যখন খলিফা পদে নিযুক্ত হন তখন ভন্ডনবী মসাইলামার বিরুদ্ধে যুদ্ধাভিযান প্রেরণ করলে ইয়ামামা নামক স্থানে উভয়দলের মধ্যে হিজরী ১১ সালে প্রচন্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যাতে প্রায় ৩০০ হাফিজ শাহাদাত বরন করেন। তখন হযরত উমর রা: কুরআন সংরক্ষনের ব্যপারে ভীষন চিন্তিত হয়ে হযরত আবু বকর রা: কে কুরআন লিপিবদ্ধ আকারে সংরক্ষন করার কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেন।
  • যেহেতু মহানবী স: এ কার্য করে যাননি সেহেতু ওমরের রা: পরামর্শ শুনে আবু বকর রা: একটু চিন্তিত হয়ে পড়লেন। অতপর অবস্থার আলোকে প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এবং প্রধান অহি লেখক জায়েদ বিন সাবিত কে দ্বায়ীত্ব দেন।
  • যায়েদ বিন সাবিত অক্লান্ত পরিশ্রম করে অন্যান্য হাফিজ সাহাবীদের সহযোগীতায় এ মহান কর্ম অত্যন্ত নিখুত ভাবে সমাধান করেন এবং তার পান্ডুলপি হযরত আবু বকর রা: এর নিকট জমা দেন।
  • হযরত আবু বকরের ইন্তিকালের পর ঐ পান্ডলিপি হযরত উমর রা: এর নিকট সংরক্থি থাকে। এবং উমরের ইন্তিকারের পর তার কন্যা হযরত হাফসা রা: নিকট সংরক্ষিত অবস্থঅয় থাকে। সবাই এর থেকে অনুলিপি তৈরী করে নেন।
  • এর পর তৃতীয় খলিফা উসমান রা: এর আমলে আঞ্চলিক ভাষায় কুরআন পাঠ শুরু হয়। তখন উসমান কাল বিলম্ব না করে যায়েদ বিন সাবিতের নেতৃত্বে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন। তাঁরা হলেন-১) যায়েদ বিন সাবিত, ২) আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর ৩) সাদ বিন আম ৪) আব্দুর রহমান বিন হিশাম।
  • এই কমিটি অতি সাবধানে আঞ্চলিক ভাষার জটিলতা দুর করে সর্বজন স্বীকৃত এক ভাষায় কুরআনের বেশ কিছু অনুলিপি তৈরী করে বিভিন্ন প্রদেশের গভর্নরদের নিকট এক এক কপি করে পাঠিয়ে দেন। এবং সাথে সাথে গযরত উসমান রা: এর নির্দেশে ক্রমে জটিলতা পূর্ন কুরআনের অনুলিপি গুলো জ্বালিয়ে দেয়া হয়।
  • অতপর কোন স্বরচিহ্ন না থাকায় কুরআনের পঠনে কিছু অসুবিধা দেখা দিলে তখন ইযামানের উমাইয়া শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ স্বরচিহ্ন ও নুক্তা দিয়ে এ অসুবিধা চিরতরে দুরিভূত করেন।

 

আল কুরআন: কিছু মৌলিক প্রসংগ আল কুরআন: কিছু মৌলিক প্রসংগ Reviewed by বায়ান্ন on April 01, 2021 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.