স্মার্ট টু.....................।

এক সপ্তাহ হল ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। ক্লাস করা, বড় ভাইদের রুমে যাওয়া, আর সন্ধাবেলা মুক্ত মঞ্ছে নাটক দেখা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। বন্ধু বলতে শুধু একজনকেই পেলাম তাও সে আমারই এলাকার। ও অন্য একটা সাব্জেক্ট এ পড়ে। ভাইভার দিন দেখা হয়েছিল। তবে ক্যাম্পাসে আমার আগের পরিচিত একটা মেয়ে ভর্তি হয়েছে শুনলাম। তাই আমার এক মাত্র বন্ধুটাকে নিয়ে বেড়িয়ে পরলাম মেয়েদের হলের দিকে। ও আমার বন্ধুটাকে তো ভালভাবে পরিচয়েই করালাম না! ওর নাম পলাশ। উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্ছি হবে। গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্যাম আর হাল্কা- পাতলা গড়ন। চেহারায় সরল ভাব দেখলে গেঁয়ো ভাবটা যে কবে যাবে তা অনুমান করা আমার মত আর একটা গেঁয়োর জন্য সহজ না! তবে আমি এসএসসি পাশ করে শহরে এসে একটু হলেও সবার সাথে মিশতে পারতাম। তাই নিজেকে ওর মত না ভেবে, একটু চালাক ভাবতে সমস্যা ছিল না!
যাইহোক, অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর মেয়েটির দেখা হল। আমার পরিচিত হলেও তার সাথে আমার খুব একটা দেখা হয়েছে বলে মনে করতে পারছিলাম না। প্রথমদিন ছিল বলে আমরা তিন জনে একেঅপরকে দেখে একটু নার্ভাস ছিলাম। পরিচিতি পর্ব শেষ করে ছোট একটা রাস্তা দিয়ে হাটতে শুরু করলাম। আস্তে আস্তে অনেক কথা হল। এভাবে রাত ৮টা বেঁজে গেল। প্রথম দিনে এতক্ষণ বাইরে ঘোরা-ফেরা করলে মেয়েটি আর আসবে বলে মনে হয় না! তাই আবার সেইপথ ধরে, মেয়েটিকে নিয়ে তার হলের দিকে ফিরতেছিলাম। মেয়েটিকে তার হলে পৌঁছে দিয়ে আমরা রিকশায় উঠলাম। ও হ্যাঁ, মেয়েটির নাম সমাপ্তি। গায়ের রঙ হাল্কা ফর্সা আর মাঝারি গড়ন। চুলগুলো কাল হলেও একটু বেশি কোঁকড়ানো। যা তার চ্যাপ্টা মুখের সাথে মানানসই ছিল না। তবে চেহারায় একটা মায়াবি ছাপ ছিল।
আমি কিছু বলার আগেই পলাশ বলে উঠলো, “মেয়েটা তো দেখতে অনেক সুন্দর রে! আমার কিন্তু পছন্দ হয়েছে!” আমি উত্তর না দিতেই বলে উঠলো, “তুই কি প্রেম করবি? তোর সাথে ভাল মানাবে”।
-না, আমি করব না। ওর বাসা আমাদের গ্রামে। বাসায় জানলে ঝামেলা হবে। তুই করবি?
-আমাকে কি পছন্দ করবে?(একটু হাসোজ্জল চেহারায়) আমাকে জিজ্ঞেস করল পলাশ।
-করবে রে ভাই। তোর তো চেহারা খারাপ না আর আমার থেকেও ভাল বিষয়ে পড়তেছিস।
-(আগ্রহ দেখিয়ে) তাই তুই একটু আমার জন্য বলে দে’ না সমাপ্তিকে। প্লিজ দোস্ত।
– ওকে। আমি বলে দিব, কিন্তু আরও কয়েকদিন যাক তারপর বলব।
এভাবে আমরা প্রায় যেতাম ওর হলে দেখা করতে। ঘুরতাম পুরা ক্যাম্পাস। মাঝে মাঝে একসাথে বাহিরে খেতাম। কিন্তু পলাশ আর আমি প্রতিদিনেই প্লান করতাম ওর জন্য প্রেম প্রস্তাব দিতে। কেউ সাহস পেতাম না। আমি ভাবতাম যদি আমার বাসায় বলে দেয় আর পলাশ ভাবতো যদি আর দেখা না হয়। একদিন প্লান করলাম যে আজ বলবো। আমি পলাশকে বললাম, “ চল আমার সাথে আমি বলব আর তুই সাথে থাকবি”।
-না, আমি পারবো না থাকতে। তুই যা দোস্ত। প্লিজ আমার জন্য এইটুকু কর।
ওর প্রতিদিনের আকুতি আর আজকের চেহারা দেখে নিজেকে অপরাধি মনে হলো। যে আমি ওর জন্য কিছু করতে পারছি না। তাই সাহস করে সমাপ্তিকে একা ডেকে নিলাম।
-সমাপ্তি, তোমার সাথে একটু কথা ছিল (ভয়ে-ভয়ে বললাম)
-বলো,কি বলবা?(সাধারণভাবে)।
-পলাশ তোমাকে অনেক ভালবাসে। ও তোমার সাথে প্রেম করতে চায় তুমি কি বলো?
-না,(সাধারণভাবেই) পলাশ অনেক ভাল ছেলে আর বন্ধু হিসেবে ও অনেক ভালো।
আমার মন অনেক খারাপ হয়ে গেল। অনেকভাবে বুঝানোর পরেও এক কথা। না। আমি ভাবতেছিলাম পলাশকে কিভাবে বলবো? সমাপ্তি উঠে চলে গেল ওর হলের দিকে একা একা। আমিও পলাশের কাছে গেলাম। পলাশ আমাকে জিজ্ঞেস না করেই বুঝেছিল। তাই আমাকে বললো , চল। এরপর মেয়েটি আর আমার ফোন ধরেনি সেইদিন। আমিও আর পরে ফোন দেইনি। অন্যদিকে পলাশ অনেক কষ্ট পেয়ে আমার সাথেও ঠিক মতো কয়েকদিন কথা বলেনি। এরপর হঠাত্‌ একদিন সমাপ্তির ফোন। ফোন ধরেই দেখি অন্য সুরের কথা। কেনো আমি ফোন দেইনি? আমার সাথে রাগ করেছে,ইত্যাদি। তারপর বলে, “পলাশ ভাল ছেলে, কিন্তু ওকে আমার পছন্দ না কারণ ও স্মার্ট না। আর আমি তোমাকে লাইক করি। তুমি চাইলে আমার সাথে প্রেম করতে পারো”। আমি কিছু না বলে ফোন কেঁটে দিয়ে পলাশের কাছে গিয়ে বোকার মতো সব বললাম। পরে জানতে পারলাম পলাশ নাকি ওর জন্য হাত কেঁটেছিলো। পলাশ পরে আমাকেও ভুল বুঝেছিলো। অনেক চেষ্টার পরেও পলাশের প্রেমটা হয়নি। আর আমিও সমাপ্তির সাথে প্রেম করিনি। পরে অবশ্য সমাপ্তি ক্যাম্পাসেই কারো সাথে প্রেমে জড়ায়ে ছিল। আর পলাশ স্মার্ট হবার জন্য ক্যাম্পাসের স্মার্ট ছেলেদের(তথাকথিত) সাথে মিশতে শুরু করল। আর আমার প্রতি যে পলাশের ভুল ধারণা ছিল তাও মিটে গিয়েছিল।

পলাশের বাবার অর্থ-সম্পদ তেমন ছিল না তাই সে স্মার্টদের সাথে তাল মেলাতে হিমশিম খেয়ে যেতো। তাই সে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ধরণের সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে স্মার্ট হবার পথে দিশেহারা। অবশেষে কিছু স্মার্ট ছেলের দেখা পায় যাদের মাধ্যমে সে এখন ডিএসেলার ক্যামেরা, সান-গ্লাস, ঢিলে-ঢালা টিশার্ট,প্যান্ট, আরো কতো কি! মাঝে মাঝে নাকি সিগারেটও চলে। শুনেছি লিভটুগেদার নাকি কমন ব্যাপার। এখন পলাশের সাথে প্রতিদিনেই বিভিন্ন বিভাগের মেয়েদেরকে দেখা যায়। ফেসবুকে তো নিয়মিত মেয়েদেরকে নিয়ে ছবি পোস্ট চলে। আর মাঝে মাঝে আমার সাথে দেখা হলে বলে, “সমাপ্তিকে বলিস এখন পলাশের পিছনে মেয়েদের লাইন থাকে। রুটিন থাকে তাদের সাথে ঘোরার জন্য। কারো সাথে প্রেম না করলেও সবাই আমাকে এখন স্মার্ট বলে”। আমি তখন মনে মনে ভাবি ‘হ স্মার্ট তো হয়েছিস, কিন্তু তোর কি আগের মতো সততা আর নৈতিকতা আছে? ভুলেই গেছিস নিজের সংস্কৃতিকে! হায় স্মার্ট! হায় স্মার্ট!

(বিঃদ্রঃ স্মার্ট থ্রি………………………………………………………………………….নেক্সট।)

স্মার্ট টু.....................। স্মার্ট টু.....................। Reviewed by বায়ান্ন on April 01, 2015 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.