হবু শ্বশুরের নিকট পত্র!

আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহ্‌মাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতাহুহ্‌!

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর তা’আলার। সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রসূল ও প্রিয় হাবীব মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর। পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

আজ আমরা এমন এক ঘোর সময় অতিবাহিত করছি, যখন আমাদের চারিদিকে ফিত্না ও পাপাচারের জয়-জয়কার। শয়তানের ধোঁকায় বা নফসের প্ররোচনায় পড়ে, নিজের অজান্তেই নানাভাবে বড় ধরনের হারাম কাজের মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছি। আর, বিবাহের মত পুতঃ-পবিত্র বন্ধনের শিরা-উপশিরায়ও আজ বহু বিধর্মী কার্যকলাপ এবং রীতি-নীতি রাজত্ব করছে। তাই, নিজেকে এবং ভালোবাসার মানুষ সবাইকে সর্ব প্রকার ফিত্না থেকে হেফাযত তথা আল্লাহর ক্রোধ থেকে বাঁচানোর নিমিত্তে, অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে নিন্মের বিষয়াদির অবতারনা করতে বাধ্য হচ্ছি। অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আশা রাখি। আল্লাহ আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সকল প্রচেষ্টাকে কবুল করে নিন। একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টি এবং জান্নাতুল ফেরদাউস হাসিলের তরে সকল কাজ করার তাওফিক দিন। আমীন।

ক্বুর’আন ও হাদীসের আলোকে বিবাহের কতিপয় নীতিমালা

আপনারা অবগত আছেন যে, ইসলামী শরিয়াত মোতাবেক, মসজিদে আক্বদ্‌ (বিবাহ্‌) এবং পাত্রের বাড়িতে ওয়ালিমা (বৌভাত) হয়। এর আগে বা পরে, অন্যকোন ধরনের অনুষ্ঠান নেই এমনকি পাত্রীর বাড়িতেও কোন অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রয়োজন নেই। এরপরেও, সামাজিকতা বিবেচনায় পাত্রীপক্ষ (সংক্ষিপ্তভাবে) অনুষ্ঠান করতে চাইলে আশা করি তা সম্পূর্ণ শরিয়াত মোতাবেক হবে, ইন শা আল্লাহ।

করনীয়ঃ 

০১. মোহরে ফাতেমী বা সুন্নতি মোহরানা তে বিবাহ্‌ হবে এবং পুরোটাই উসূল হবে, ইন শা আল্লাহ! (উল্লেখ্য, মোহরে ফাতেমী = ১২.৫ উকিয়া = ৫০০ দিরহাম = ১৩১.২৫ ভরি রূপা = নগদ মূল্য [আনুমানিক ৮০ হাজার টাকা]/সমপরিমান মূল্যের স্বর্ণ/এই জাতীয়) [আবু দাঊদ-২১০৫, তিরমিযী-১১১৪]

০২. সুন্নতি পদ্ধতিতে, মসজিদে আক্বদ্‌ (বিবাহ্‌) হবে, ইন শা আল্লাহ! (উল্লেখ্য, শাওয়াল মাসে এবং শুক্রবারে বিবাহ্‌ সুন্নাহ)

বর্জনীয়ঃ

০১. উভয় পক্ষ গায়ে হলুদ বা অন্য যেকোন অনৈসলামিক অনুষ্ঠান করা থেকে বিরত থাকবেন।

০২. বাংলা, ইংলিশ, হিন্দী বা যে কোন ধরনের গান এবং বাদ্যযন্ত্র বাজানো থেকে বিরত থাকবেন।

০৩. পাত্রী এবং অন্যান্য মহিলারা পার্লারে যাওয়া, ভ্রু প্লাক করা এবং ঊটের কুঁজের ন্যায় উঁচু করে খোঁপা বাঁধা থেকে বিরত থাকবেন।

০৪. পাত্রী এবং অন্যান্য মহিলারা সুগন্ধি এবং সুগন্ধিযুক্ত ক্রিম/পাউডার/মেকাপ ব্যবহাত করা থেকে বিরত থাকবেন।

০৫. পাত্রী এবং অন্যান্য মহিলাদের সব ধরনের ছবি তোলা বা ভিডিও করা (মোবাইলে/ক্যামেরায়) থেকে বিরত থাকবেন।

০৬. পাত্রী এবং অন্যান্য মহিলারা বিবাহ্‌ তে নুপুর, পায়েল, ঘুংগুর এবং এ জাতীয় অলংকার পরা থেকে বিরত থাকবেন।

০৭. কপালে তিলক আঁকা, ঘরে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানো, গলায় মঙ্গল সুত্র পরা, হাতে রাঁখি বাঁধা বা যেকোন বিধর্মী নিয়ম পরিহার করবেন।

০৮. সকল আয়োজনের ক্ষেত্রে, সব ধরনের অপচয়, আড়ম্বরতা, অনৈসলামিক কাজ পরিহার করবেন এবং তা যথাসম্ভব সাদাসিদে হবে।

০৯. ঘরে/অনুষ্ঠানস্থলে পুতুল, অঙ্কনকৃত ও তোলা ছবি (দেয়ালে বা ফটো ফ্রেমে) এবং যাবতীয় প্রাণীর প্রতিকৃতি রাখা থেকে বিরত হবেন।

১০. বিবাহ্‌তে, পাত্রীপক্ষের নন-মাহ্‌রাম/বেগানা (নিন্মে বর্নিত ১৪ জন মাহ্‌রাম/এগানা ব্যতীত – নোট ১ দ্রষ্টব্য) মহিলারা স্বাভাবিক কৌতুহলবশতঃ পাত্রকে (একান্তই) দেখতে বা কথা বলতে চাইলে যথাযথ হিজাব করে (নিকাবসহ বোরকা পরে) সামনে আসার অনুরোধ রইলো। অথবা, অন্দরমহল/পর্দার আড়াল থেকেই কাজটি সেরে নিতে পারেন। আর, এটাই সর্বোত্তম।

১১. বেগানা নারীগন পাত্রকে এবং বেগানা পুরুষগন পাত্রীকে স্পর্শ করে অভ্যর্থনা জানানো, উপহার দেয়া, কোলে তুলে অন্য স্থানে নেয়া, আয়নায় মুখ দেখানো, মিষ্টি মুখ করানো, পা ছুঁয়ে সালাম বা অন্য কোনভাবে পর্দার খেলাফ হয়, এমন কাজ থেকে বিরত থাকবেন।

১২. সকল আনুষ্ঠানিকতার ক্ষেত্রেই, মহিলা এবং পুরুষদের আলাদা-আলাদা ব্যবস্থা থাকবে। কেউ কারো সাথে গিয়ে অহেতুক হাসি-ঠাট্টা বা খোঁশ-গল্প করা থেকে বিরত থাকবেন। বেগানা পুরুষ মহিলার স্থানে এবং বেগানা মহিলা পুরুষের স্থানে যাওয়া থেকে নিজেকে সংযত করবেন। পর্দার খেলাফ তথা আল্লাহর অসন্তুষ্টি হয়, এমন সকল ধরনের কাজ থেকে নিজেদেরকে হেফাযত করবেন।

১৩. পাত্রী পরিপূর্ণ হিজাব সহকারে বিবাহ্‌তে উপস্থিত থাকবেন অর্থ্যাৎ নিকাবসহ (অতিমাত্রায় কারুকার্যখচিত নয় এমন) বোরকা পরিধান করবেন। আক্বদ্‌ (বিবাহ্‌) বা ওয়ালিমার (বৌভাতের) দিন মাহ্‌রাম (নোট ১ দ্রষ্টব্য) ব্যাতীত অন্যদের সামনে পর্দাহীন হয়ে নিজের চেহারা বা সৌন্দর্য প্রকাশ করাকে অপছন্দ করবেন।

*   প্রধানত পাত্রীপক্ষকে লক্ষ্য করে বলা হলেও, উপরোক্ত কথামালা পাত্রপক্ষের জন্যও একইভাবে প্রযোজ্য হবে।

** উল্লেখিত বর্জনীয় প্রতিটি কাজই কবিরা গুনাহ্‌ (হারাম) এমনকি কিছু কিছু বিষয় শির্কও। এর চর্চায় বড় ধরনের গুনাহগার হতে হবে।

———————————————————————————————————-
নোট (১):

পুরুষদের মাহ্‌রাম/এগানা ১৪ জনঃ

ক) মায়ের মত ৫ জনঃ– (১) মা, (২) খালা, (৩) ফুফু, (৪) শ্বাশুড়ি, (৫) দুধ-মা

খ) বোনের মত ৫ জনঃ– (১) বোন, (২) দাদি, (৩) নানি, (৪) নাতনি, (৫) দুধ-বোন

গ) মেয়ের মত ৪ জনঃ– (১) মেয়ে, (২) ভাইয়ের মেয়ে, (৩) বোনের মেয়ে, (৪) ছেলের বউ

মহিলাদের মাহ্‌রাম/এগানা ১৪ জনঃ

ক) বাবার মত ৫ জনঃ– (১) বাবা, (২) চাচা, (৩) মামা, (৪) শ্বশুর, (৫) দুধ-বাপ

খ) ভাইয়ের মত ৫ জনঃ– (১ ) ভাই, (২) দাদা, (৩) নানা, (৪) নাতি, (৫) দুধ-ভাই

গ) ছেলের মত ৪ জনঃ– (১) ছেলে, (২) ভাইয়ের ছেলে, (৩) বোনের ছেলে, (৪) মেয়ের জামাই

উভয়ের এই ১৪ জন ব্যতীত আর কারো সঙ্গে পরিপূর্ণ পর্দা ব্যাতিরেকে (নন-মাহরাম/বেগানাদের সাথে) দেখা করা বা দেয়া জায়িজ নয়।

collected…

 

হবু শ্বশুরের নিকট পত্র! হবু শ্বশুরের নিকট পত্র! Reviewed by বায়ান্ন on April 27, 2015 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.