ইন্ডিয়া ক্রিয়েটেড বাংলাদেশ !!

বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে চলতি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫ তে। আগামী ১৯ মার্চ কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ লড়বে পার্শ্ববতী বন্ধুপ্রতীম (!) দেশ ভারতের সাথে। এই নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গন থেকে শুরু করে সবর্ত্র চলছে আলোচনা। বাংলাদেশের মানুষ ক্রিকেটের এই সাফল্যে আনন্দে উদ্বেলিত- উচ্ছসিত। ফলে প্রত্যাশাটাও বেড়ে গেছে। সকলেই আশা করছে বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে সেমিফাইনাল খেলবে। এই চাওয়াতে দোষের কিছুই নাই।

সমস্যাটা হলো ভারত বাংলাদেশকে ক্রিকেট প্রতিপক্ষ হিসাবে কিভাবে দেখছে, সেখানে !! ভারত বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে চ্যাম্পিয়ান হিসাবে অবস্থান করছে। চলতি বিশ্বকাপেও এখন পর্যন্ত অপরাজিতভাবেই কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। তারা বাংলাদেশকে হারাতেই পারে। সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু ভারত বাংলাদেশকে প্রতিপক্ষ হিসাবে তুচ্ছ- তাচ্ছিল্য করতে পারে না। উপেক্ষা করতে পারে না বাংলাদেশের ক্রিকেট সাফল্যকে । কিন্তু ভারত এর কোনটাই করতে বাদ রাখে নি। এমনকি ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্বকেও পদদলিত করছে। বাংলাদেশ সর্ম্পকে বিদ্বেষ- কুটুক্তি ছড়াচ্ছে।

ভারতের চ্যানেল এবং ইন্টারনেট দুনিয়ায় ইতিমধ্যেই মুওকা.. মুওকা (চান্স) টাইটেলে একটি এডভারটিজমেন্ট দেখানো হচ্ছে। যেখানে দেখানো হচ্ছে- ইন্ডিয়া ক্রিয়েটেড বাংলাদেশ (১৯৭১) !! এর মাধ্যমে মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্বকে অস্বীকারই করা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনটিতে স্পন্সর করেছে পেপসি। যদিও পেপসি দায় স্বীকার করছে না। এটা ক্রিকেট দুনিয়া ছাড়াও সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য হিসাবেই দেখানোর অপচেষ্টা নয় কি?

এর আগেও “গুন্ডে” সিনেমাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা হয়েছে। বাংলাদেশকে ভারতের চাইল্ড হিসাবে দেখানো হয়েছে। তখনও আমাদের দেশ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়নি। এবারও অনলাইন জগতে ভারতের এই মানসিকতাকে ব্যাপকভাবে সমালোচনা করা হলেও রাষ্ট্রিয় পর্যায় থেকে কিছু বলা হচ্ছে না। তাহলে কী ভারত যা বলতে চাইছে তা সত্য? নাকি সরকারী দল তাদের মুরুব্বীর দেখানো পথে চলছে। ১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে কথোপকথনের সময় ৭১ এর যুদ্ধকে হেনরী কিসিঞ্জার ‘মুক্তিযুদ্ধ’ না বলে বলেছেন civil war (গৃহযুদ্ধ)। আর কিসিঞ্জারের এমন মন্তব্যের জন্য তখন শেখ মুজিব কোনো প্রতিবাদ করেছিলেন বলে জানা যায়নি।

আমাদের অধিকাংশ বুদ্ধিজীবিরাও ভারতের বিষয় আসলে মনে হয় নিজেকে একটু গুটিয়ে নেন। ভারতের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, বাজার দখল কিম্বা ইতিহাসের বিকৃতি সব কিছুকেই এড়িয়ে যাবার একটা প্রবণতা দেখা যায়। কেনো এমন আচরণ? তাহলে কী আমরা আবারো মুক্তিযুদ্ধের ৯ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিলের প্রশ্নগুলোতে ফিরে যাবো? যে প্রশ্নগুলো তিনি তুলেছিলেন “অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা” বইয়ের ২১ পৃষ্ঠায়-

“২৫শে মার্চের সেই ভয়াল রাতের হিংস্র ছোবলের সাথে সাথেই পূর্ব পাকিস্তানের অধিবাসী এবং পূর্ব পাকিস্তানে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যবর্গ কি করে পাকিস্তানের শত্রু হিসেবে পরিচিত ভারতের মাটিতে আশ্রয় গ্রহনের জন্য ছুটে যেতে পারল? কোন সাহসে কিংবা কোন আস্থার উপর ভর করেই বা তারা দলে দলে ভারতের মাটিতে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ল? তাহলে কি গোটা ব্যাপারটাই ছিল পূর্ব পরিকল্পিত? তাহলে কি স্বাধীনতা বিরোধী বলে পরিচিত ইসলামপন্থী দলগুলোর শঙ্কা এবং অনুমান সত্য ছিল? তাদের শঙ্কা এবং অনুমান যদি সত্যি হয়ে থাকে , তাহলে দেশপ্রেমিক কারা? আমরা মুক্তিযোদ্ধারা না রাজাকার- আলবদর হিসেবে পরিচিত তারা?”

ইন্ডিয়া ক্রিয়েটেড বাংলাদেশ !! ইন্ডিয়া ক্রিয়েটেড বাংলাদেশ !! Reviewed by বায়ান্ন on March 16, 2015 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.